ওগো প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ আমার পাওয়ার বহু দূরে

ওগো প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ আমার পাওয়ার বহু দূরে।
তবু মনের মাঝে বেণু বাজে সেই পুরানো সুরে সুরে॥
বাজে মনের মাঝে বেণু বাজে
প্রিয় বাজাতে যে বেণু বনের মাঝে আজো তার রেশ মনে বাজে॥
তব কদম-মালার কেশরগুলি
আজি ছেয়ে আছে ওগো পথের ধূলি,
ওগো আজিকে করুণ রোদন তুলি’ বয় যমুনা ভাটি সুরে॥
(আর উজান বয় না,)
ওগো আজিকে আঁধার তমাল বনে, বসে আছি উদাস মনে
ওগো তোমার দেশে চাঁদ উঠেছে আমার দেশে বাদল ঝুরে॥
সেথা চাঁদ উঠেছে –
ওগো শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
সেথা শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
সখি তাদের দেশে আকাশে আজ আমার দেশের চাঁদ উঠেছে।
ওগো মোর গগনে কৃষ্ণা তিথি আমার দেশে বাদল ঝুরে॥

Categories

ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে

দ্বৈত : ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে
স্ত্রী : মধু মঞ্জির বোলে মণি কুন্তল দোলে
পুরুষ : চন্দন লেখা শোভে চারুভালে॥
স্ত্রী : রস যমুনায় জাগে ঢেউ উতরোল
পুরুষ : ব্রজগোপিকার প্রাণে লাগে তারি হিল্লোল
দ্বৈত : রাস পূর্ণিমা রাতে শিখী নাচে সাথে সাথে
ফুল দোলে কুঞ্জেরই বকুল ডালে॥
স্ত্রী : নাচে নন্দ দুলাল বাজে মোহন বেণূ
পুরুষ : অঙ্গের লাবনিতে আলো করে অবনিতে
দ্বৈত : হাসিতে ঝরায় ফুল পরাগ রেণু।
স্ত্রী : রাঙা পায়ে রুমুঝুমু বাজে মধুর
পুরুষ : জীবন মরণ তার যুগল নূপুর
দ্বৈত : মুগ্ধ তারকা শশী রাতের দেউলে বসি
আরতি প্রদীপ শিখা নিত্য জ্বালে॥

Categories

ওগো দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই

ওগো দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই (গদাইচন্দ্র) বিবাহ না করে,
কুক্ষণে তার বিয়ে দিয়ে দিল সবাই ধ’রে॥
আইবুড়ো সে ছিল যখন, মনের সুখে উড়ত
হাল্‌কা দু’খান পা দিয়ে সে (গদাই) নাচ্‌ত, কুঁদ্‌ত ছুঁড়ত॥
ওগো বিয়ে করে গদাই
দেখলে সে আর উড়তে নারে, ভারি ঠেকে সদাই।
তার এ্যাডিশনাল দু’খানা ঠ্যাং বেড়ায় পিছে ন’ড়ে॥
গদাই-এর পা দু’খানা মোটা, আর তার বৌ-এর পা দু’খানা সরু,
ছোট বড় চারখানা ঠ্যাং ঠিক যেন ক্যাঙারু
গদাই (দেখতে) ঠিক যেন ক্যাঙ্গারু।
আপিসে পদ বৃদ্ধি হয় না (গদাইচন্দ্রের), কিন্তু ঘরে ফি-বছরে,
পা বেড়ে যায় গড়পড়তায় দু’চারখান ক’রে।
তার বৌ শোনে না মানা –
তিনি হন্যে হয়ে কন্যে আনেন মা, ষষ্টির ছানা
মানুষ থেকে চার পেয়ে জীব, শেষ ছ’পেয়ে মাছি,
তারপর আটপেয়ে পিঁপড়ে, বাবা গদাই বলে, একেবারে গেছি
আর বলে, ও বাবা বিয়ে করে মানুষ এই কেলেঙ্কাররির তরে (বাবা)॥

Categories

ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো

ও তুই কারে দেখে ঘোমটা দিলি নতুন বউ বল গো
তুই উঠলি রেঙে যেন পাকা কামরাঙ্গার ফল গো।।
তোর মন আইঢাই কি দেখে কে জানে
তুই চুন বলে দিস হলুদ বাটা পানে
তুই লাল নটে শাক ভেবে কুটিস শাড়ির আঁচল গো।।
তুই এ ঘর যেতে ও ঘরে যাস পায়ে বাধে পা
বউ তোর রঙ্গ দেখে হাসছে ননদ জা।
তুই দিন থাকিতে পিদিম জ্বালিস ঘরে
ওলো রাত আসিবে আরো অনেক পরে
কেন ভাতের হাঁড়ি মনে ক’রে উনুনে দিস জল গো।।

Categories

ও তুই উলটা বুঝলি রাম

ও তুই উলটা বুঝলি রাম
আমি আম চাহিতে জাম দিলে , আর জাম চাহিতে কি-না আম।।
আমি চড়বার ঘোড়া চাইতে শেষে, ওগো ঘোড়াই ঘাড়ে চড়লো এসে,
ও বাব্বা-
আমি প্রিয়ার চিঠি চাইতে এলো কিনা ইনকামট্যাক্স-এর খাম।।
আমি চেয়েছিলাম কোঠা বাড়ি , তাই পড়লো পিঠে লাঠির বাড়ি
ভুলে আমি বলেছিলাম তোমার পায়ে শরণ নিলাম।
তুমি ভুল বুঝিলে, ভিটেবাড়ি সব হ’লো নিলাম।।
আমি চেয়েছিলম সুবোধ ভাইটি
তা না হয়ে, বাবা গোঁয়ার সে ভাই উচায় লাঠি
আমি শ্রী ব্রজধাম চাইতে ঠেলে দিলে শ্রীঘর হাজত ধাম।।

Categories

ও কে মুঠি মুঠি আইবর কাননে ছড়ায়

ও কে মুঠি মুঠি আইবর কাননে ছড়ায়
রাঙা-হাসির পরাগ-ফুল আননে ঝরায়।।
তার রঙের আবেশ লাগে চাঁদের চোখে
তার লালসার রঙ জাগে রাঙা অশোকে
তার রঙিন নিশান দোলে কৃষ্ণ চূড়ায়।।
তার পুষ্প ধনু দোলে শিমূল শাখায়
তার কানা কাঁপে গো ভোমরা পাখায়,
সে খোঁপাতে বেল-ফুলের মালা জড়ায়।।
সে কুসমী শাড়ি পরায় নীল বসনায়
সে আঁধার মনে জ্বালে লাল রোশনাই
সে শুকনো বনে ফাগুন আগুন ধরায়।।

Categories

ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন

ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন।
তারি চপল চরণ-আঘাতে দুলিছে নদী-দোলে ফুলবন।।
ঝরে ঝর ঝর গিরি -নির্ঝর তার ছন্দ চুরি করে,
‘এলো সুন্দর-এলো সুন্দর’’বাজে বনের মর্মরে।
গায় পাখি মেলি আঁখি
বলে,বন-দেবী এলো নাকি?
মধুর রঙ্গে অঙ্গে-ভঙ্গে জাগে শিহরণ।।
সন্ধ্যায় ঝিল্লির মঞ্জির হতার
ঝির ঝির শির শির তোলে ঝঙ্কার।
মধুভাষিণী সুচারু-হাসিনী সে মায়াহরিণী’-
ফোটালো আঁধারে মরি মরি
দুলিছে অলকে আঁখির পলকে দোলন-চাঁপার নাচের মতন।।

Categories

ও কে উদাসী বেণু বাজায়

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
গৃহীরে করে সে পরবাসী
রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

Categories

ও, কুল-ভাঙ্গা নদী রে

ও, কুল-ভাঙ্গা নদী রে,
আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
উজান বেয়ে ফিরে’ নদী, উজান বেয়ে ফিরে’।।
আমার মন বোঝে না, নদী-
তাই বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।

Categories

ও কালো বউ! জল আনিতে যেয়ো না আর বাজিয়ে মল

ও কালো বউ! জল আনিতে যেয়ো না আর বাজিয়ে মল।
তোমায় দেখে শিউরে ওঠে কাজ্‌লা দীঘির কালো জল।
ওগো কাজ্‌লা দীঘির কালো জল।।
দেখে তোমার কালো আঁখি
কালো কোকিল ওঠে ডাকি’
তোমার চোখের কাজল মাখি’ হয় সজল ঐ মেঘ-দল
ওগো হয় সজল ঐ মেঘ-দল।।
তোমার কালো রূপের মায়া
দুপুর রোদে শীতল ছায়া
কচি অশথ্‌ পাতায় টলে ঐ কালো রূপ টলমল।।
ভাদর মাসের ভরা ঝিলে
তোমার রূপের আদর মিলে গো-
তোমার তনুর নিবিড় নীলে আকাশ করে টলমল।
ঐ আকাশ করে টলমল।।

Categories