আমি গরবিনী মুসলিম বালা

আমি গরবিনী মুসলিম বালা
সংসার সাহারাতে আমি গুলে লালা।।
জ্বালায়েছি বাতি (আমি) আঁধার কাবায়
এনেছি খুশির, ঈদে শিরনির থালা।।
আনিয়াছি ঈমান প্রথম আমি
আমি দিয়াছি সবার আগে মোহাম্মদে মালা।।
কত শত কারবালা বদরের রণে
বিলায়ে দিয়াছি স্বামী-পুত্র স্বজনে;
জানে গ্রহ-তারা জানে আল্লাহ তালা।।

আল্লাহ কে যে পাইতে চায় হযরত কে ভালবেসে

আল্লাহ কে যে পাইতে চায় হযরত কে ভালবেসে
আরশ কুর্সী লওহ কালাম না চাইতেই পেয়েছে সে।।

রসুল নামের রশি ধ’রে
যেতে হবে খোদার ঘরে,
নদী তরঙ্গে যে পড়েছে, ভাই
দরিয়াতে সে আপনি মেশে।।

তর্ক করে দুঃখ ছাড়া কী পেয়েছিস অবিশ্বাসী,
কী পাওয়া যায় দেখনা বারেক হযরতেমোর ভালবাসি?

এই দুনিয়ায় দিবা- রাতি
ঈদ হবে তোর নিত্য সাথী;
তুই যা চাস তাই পাবি হেথায়, আহমদ চান যদি হেসে।।

আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ

আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ
এই পথে মোর চলে যেতেন নূর নবী হজরত।

পয়জা তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে
আমি ঝর্ণা হয়ে গলে যেতাম অমনি পরম সুখে
সেই চিহ্ন বুকে পুরে
পালিয়ে যেতাম কোহ-ই-তুরে
সেথা দিবানিশি করতাম তার কদম জিয়ারত

মা ফাতেমা খেলত এসে আমার ধূলি লয়ে
আমি পড়তাম তার পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে
হাসান হোসেন হেসে হেসে
নাচত আমার বক্ষে এসে
চক্ষে আমার বইত নদী পেয়ে সে ন্যামত।

আমার বুকে পা ফেলে রে বীর আসহাব যত
রণে যেতেন দেহে আমার আঁকি মধুর ক্ষত
কুল মুসলিম আসত কাবায়
চলতে পায়ে দলত আমায়
আমি চাইতাম খোদার দীদার শাফায়ত জিন্নত।।

আসিছেন হাবীবে খোদা

আসিছেন হাবীবে খোদা, আরশ পাকে তাই উঠেছে শোর,
চাঁদ পিয়াসে ছুটে’ আসে আকাশ- পানে যেমন চকোর,
কোকিল যেমন গেয়ে উঠে ফাগুম আসার আভাস পেয়ে,
তেমনি করে হরষিত ফেরেশতা সব উঠলো গেয়ে,-
দেখ আজ আরশে আসেন মোদের নবী কামলীওয়ালা
হের সেই খুশীতে চাঁদ- সুরুজ আজ হল দ্বিগুন আলা।।

ফকির দরবেশ আউলিয়া যাঁরে
ধ্যানে জ্ঞানে ধরতে নারে,
যাঁর মহিমা বুঝতে পারে
এক সে আল্লাহতালা।।

বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম
চিরতরে হয় দোযখ হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাঁহার
কাওসারের পেয়ালা।।

মিম হরফ না থাকলে যে আহাদ
নামে মাখা যার শিরীন শহদ,
নিখিল প্রেমাস্পদ আমার মোহাম্মদ
ত্রিভুবন উজালা।।

আমার প্রিয় হযরত নবী কামলিওয়ালা

আমার প্রিয় হযরত নবী কামলিওয়ালা।।
যাঁহার রওশনীতে দ্বীন- দুনিয়া উজালা।।

যাঁরে খুঁজে ফেরে কটি গ্রহ তারা,
ঈদের চাঁদে যাঁহার নামের ইশারা,
বাগিচায় গোলাব গুল গাঁথে যাঁর মালা।।

আউলিয়া আম্বিয়া দরবেশ যাঁর নাম
খোদার নামের পরে জপে অবিরাম,
কেয়ামতে যাঁর হাতে কাওসার পিয়ালা।।

পাপে মগ্ন ধরা যাঁর ফজিলতে
ভাসিল সুমধুর তৌহিদ- স্রোতে,
মহিমা যাঁহার জানেন এক আল্লাহতায়ালা।।

আর অনুনয় করিবে না কেউ কথা কহিবার তরে

আর অনুনয় করিবে না কেউ কথা কহিবার তরে
আর দেখিবে না স্বপন রাতে গো কেহ কাদেঁ হাত ধ’রে।
তব মুখ ঘিরে আর মোর দু’ নয়ন
ভ্রমরের মত করিবে না জ্বালাতন
তব পথ আর পিছল হবে না আমার অশ্রু ঝরে’।
তোমার ভুবনে পড়িবে না আর কোনদিন ছায়া মম
তোমার পূর্ণ-চাদেঁর তিথিতে আসিব না রাহু-সম।
আর শুনিবে না করুণ কাতর
এই ক্ষুধাতুর ভিখারির স্বর
শুনিবে না আর কাহারও রোদন রাতের আকাশ ভ’রে।।

Categories

আমি আছি বলে দুখ পাও তুমি

আমি আছি ব’লে দুখ পাও তুমি তাই আমি যাব চ’লে
এবার ঘুমাও প্রদীপের কাজ শেষ হয়ে গেছে জ্ব’লে।।
আর আসিবে না কোন অশান্তি
আর আসিবে না ভয়ের ভ্রান্তি
আর ভাঙিব না ঘুম নিশীথে গো ‘জাগো প্রিয়া জাগো’ বলে।।
হয়তো আবার সুদূর শূন্য আকাশে বাজিবে বাশিঁ,
গোপী-চন্দন গন্ধ আসিবে বাতায়ন পথে ভাসি’।
চম্পার ডালে বিরহী পাপিয়া
‘পিয়া পিয়া’ বলে উঠিবে ডাকিয়া
বৃন্দাবন কি ভাসিবে (আসিবে) সেদিন রোদন-যমুনা জলে।।

Categories

আমি চাঁদ নহি, চাঁদ নহি অভিশাপ

আমি চাঁদ নহি, চাঁদ নহি অভিশাপ
শূন্য হৃদয়ে আজো নিরাশায় আকাশে করি বিলাপ।।
শত জনমের অপূর্ণ সাধ ল’য়ে
আমি গগনে কাদিঁ গো ভুবনের চাঁদ হয়ে
জোছনা হইয়া ঝরে গো আমার অশ্রু বিরহ-তাপ।।
কলঙ্কহয়ে বুকে দোলে মোর তোমার স্মৃতির ছায়া
এত জোছনায় ঢাকিতে পারিনি তোমার মধুর মায়া।
কোন সে সাগর মন্থন শেষে মোরে
জড়াইয়া যেন উঠেছিলে প্রেমভরে
হায় তুমি গেছ চলে বুকে তবু দোলে তব অঙ্গের ছাপ।।

Categories

আমি চিরতরে দুরে চলে যাব

আমি চিরতরে দুরে চলে যাব,
তবু আমারে দেবনা ভুলিতে।।
আমি বাতাস হইয়া জরাইব কেশে,
বেণী যাবে যবে খুলিতে।।
তোমার সুরের নেশায় যখন
ঝিমাবে আকাশ কাঁদিবে পবন,
রোদন হইয়া আসিব তখন
তোমার বক্ষে ঝুরিতে।।
আসিবে তোমার পরমোৎসবে
কত প্রিয়জন কে জানে,
মনে পড়ে যাবো কোন সে ভিখারি
পায়নি ভিক্ষা এখানে।
তোমার কুঞ্জ পথে যেতে হায়!
চমকি থামিয়া যাবে বেদনায়,
দেখিবে কে যেন মরে মিশে আছে
তোমার পথের ধুলিতে।।

Categories

আঁধার রাতে কে গো একেলা

আঁধার রাতে কে গো একেলা 
নয়ন সলিলে ভাসালে ভেলা।। 
কাঁদিয়া কারে খোঁজ ওপারে 
আজও যে তোমার প্রভাত বেলা।। 
সোনার কাঁকন ও দুটি করে 
হেরোগো জড়ায়ে মিনতি করে। 
খুলিয়া ধূলায় ফেলোনা গো তায় 
সাধিছে নূপুর চরণ ধরে।। 
হেরো গো তীরে, কাঁদিয়া ফিরে 
আজিও রূপের রঙের মেলা
Categories