আয় মুক্তকেশী আয়

(মা) আয় মুক্তকেশী আয়
(মা) বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে) দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥

Categories

আয় মা ডাকাত কালী আমার ঘরে কর ডাকাতি

আয় মা ডাকাত কালী আমার ঘরে কর ডাকাতি
যা আছে সব কিছু মোর লুটে নে মা রাতারাতি॥
আয় মা মশাল জ্বেলে, ও তোর ডাকাত ছেলে ভৈরবেরে করে সাথি
জমেছে ভবের ঘরে অনেক টাকা যশঃখ্যাতি
কেড়ে মোর ঘরের চাবি, নে মা সবই পুত্র কন্যা স্বজন জ্ঞাতি॥
মায়ার দুর্গে আমার দুর্গা নামও হার মেনেছে
ভেঙে দে সেই দুর্গ আয় কালিকা তা থৈ নেচে, আয় আয় আয়।
রবে না কিছুই যখন রইবি শুধু মা ভবানী
মুক্তি পাব সেদিন টানবো না আর মায়ার ঘানি
খালি হাতে তালি দিয়ে কালী বলে উঠবো মাতি
কালী কালী কালী বলে উঠবো মাতি
কালী কালী কালী বলে, খালি হাতে তালি দিয়ে উঠবো মাতি॥

Categories

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
এলোমেলো হাওয়ায় নূপুর বাজায় , কচি কিশলয়।।
তোমরা এলে না ব’লে – ভোমরা কাদেঁ
অভিমানে মেঘ ঢাকিল চাদেঁ
‘ভুল বঁধু ভুল’ টুলটুলে মৌটুসি বুলবুলে কয়।।
কুহু যামিনীর তিমির টুটে
মুহু মুহু কুহু কুহরি ওঠে।
হে বন-কলি, গুণ্ঠন খোলো
হে মৃদুলজি্জিতা, লজ্জা ভোলো,
কোথা তার দুল দোলে নটিনী তটিনী খুজেঁ বনময়।।

Categories

আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালীমোর কালো মেয়ে

আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালীমোর কালো মেয়ে
দগ্ধ দিনেরবুকে যেমন আসে শীতল আঁধার ছেয়ে।।
আমার হৃদয়আঙিনাতে
খেলবি মা তুই দিনে রাতে
মোর সকল দেহ নয়ন হয়ে দেখবে মা তাই চেয়ে চেয়ে।।
হাত ধরে মোর নিয়ে যাবি তোর খেলাঘর দেখবি মা
এইটুকু তুই মেয়ে আমার কেমন করে হ’স অসীমা।
লুটে নিবি চতুর্ভূজা
আমার স্নেহ প্রেম-পূজা
(মা) নাম ধরে তোর ডাকব মা যেই যেথায় থাকিস আসবি ধেয়ে।।

Categories

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়
বহু রাত্রি হল আর জাগাসনে মায়।।
কোলে লয়ে তোরে ধীরে ধীরে দোলাবো
ঘুম-পাড়ানিয়া গান তোরে শোনাবো
গায়ে হাত বুলাবো পাঙ্খা ঢুলাবো
মন ভুলাবো কত রূপকথায়।।
তোরে কে বলে চঞ্চল একচোখো সে
মোর শান্ত গোপাল থাকে গোষ্ঠে ব’সে
তোরে কে বলে ঝড় তোলে থির যমুনায়
সে যেদিন রাত ঘোরে তার মা’র পায় পায়।।

Categories

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচকারিতে

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচকারিতে
আজ শ্যামে লো করব ঘায়েল আবির হাসির টিটকারিতে।।
রঙে রাঙা হয়ে শ্যাম আজ হবে যেন রাই কিশোরী
যমুনা জল লাল হবে আজ আবির ফাগের রঙে ভরি
কপালে কলঙ্ক মোদের ধুয়ে যাবে রঙ ঝারিতে।।
গুরুজনার গঞ্জনা আজ
সইব না লো মানব না লাজ
কূল ভুলে গোকুল পানে ভেসে যাব রাঙা গীতে।।

Categories

আহার দেবেন তিনি রে মন জীব দিয়াছেন যিনি

আহার দেবেন তিনি রে মন জীব দিয়াছেন যিনি।
তোরে সৃষ্টি ক’রে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী।।
সারা জীবন চেষ্টা ক’রে,ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে
(ও মন) তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ কি দান দেন তিনি।।
না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল
তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল।
যাঁর করুণায় এত পেলি,তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি
(তোর) ভাবনারভার দিয়ে তাঁকে ডাক রে নিশিদিন-ই।।

Categories

আসে রজনী, সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে

আসে রজনী, সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে
ছায়া-আঁচল-ঢাকা কানন-তলে।।
তিমির দু’ কূল দুলে গগনে, গোধূলি-ধূসর সাঁঝ-পবনে
তারার মানিক অলকে ঝলে।।
পূজা আরতি লয়ে চাঁদের থালায়
আসিল সে অস্ত-তোরণ নিরালায়।
ললাটের টিপ্‌ জ্বলে সন্ধ্যা-তারা
গিরি-দরি বনে ফেরে আপন-হারা
থামে ধীরে ধীরে বিরহীর নয়ন-জলে।।

Categories

আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী

আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী
চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি (আহা)।।
দুলে আলোছায়া বন-দুকূল
ওড়ে প্রজাপতি কলকা ফুল
কর্ণে অতসী স্বর্ণ-দুল
আলোক-লতার সাতনরি।।
সোনার গোধূলি নামিয়া আয়
আমার রূপালি ফুল-শোভায়
আমার সজল আঁখি-পাতায়
আয় রামধনু রঙ ধরি’।
কবি, তোর ফুলমালী কেমন
ফাগুনে শুষ্ক পুষ্প-বন
বরিবি বঁধুরে এলে চ্যমন (আহা)
রিক্ত হাতে কি ফুল ভরি’।।

Categories

আসিয়া কাছে গেলে ফিরে

আসিয়া কাছে গেলে ফিরে
কেন আসিয়া কাছে গেলে ফিরে।।
মুখের হাসি সহসা কেন
নিভে গেল আঁখি নীরে
ফুটিতে গিয়া কোন কথার মুকুল
ঝরে গেল অধরের তীরে।।
ঝড় উঠিয়াছে বাহির ভুবনে আঁধার নামে বন ঘিরে
যে কথা বলিলে না-ব’লে যাও বিদায় -সন্ধ্যা তিমিরে।।

Categories