এসো প্রাণে গিরিধারী বন-চারী

এসো প্রাণে গিরিধারী বন-চারী
গোপীজন-মনোহরী।
চঞ্চল গোকুল-বিহারী।।
লহ নব প্রীতির কদম-মালা
নয়নে আরতি-প্রদীপ জ্বালা
অঞ্জলি লহ আঁখি-বারি।।
প্রণয়-বিহ্বলা প্রাণ-রাধিকা
পরেছে তব নাম কলঙ্ক-টিকা।
অথির অনুরাগ গোপ-বালিকা
চাহে পথ তোমারি।।

Categories

এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন

এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন,
ধেনু দেব বেণু দেব মালা চন্দন॥
কেঁদে কেঁদে কয়লা খাদে যমুনা বহাব;
পলাশ বনে জাগরণে নিশি পোহাব
রাধা হয়ে বাঁধা দেব আমর প্রাণ মন॥
মোর নটকান রঙ শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে,
পীত ধড়া পরাব, নীল অঙ্গ ঘিরে।
পিয়াল ডালে দোলনা বেঁধে দুলিব দুজন॥
ভাসুর-শ্বশুর দ্যাখে যদি করব নাকো লাজ
বলব আমার শ্যামের বাঁশি বাজ রে আবার বাজ
শ্যাম তোমার লাগি জাতি কুল দিব বিসর্জন।।

Categories

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়েকেতকী পাতার তরণী
এসো বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে রাহি’ছায়াপথ-সরণি।
শ্যাম শদ্যে কুসুমে হাসিয়া এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরনীরে ভালোবাসিয়া দুর নন্দন-তীর হতে।।

Categories

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া
কৃষ্ণ কানাইয়া হরি।
মাখি’গোখুর ধূলিরেণু গোঠে চরাইয়া ধেনু
বাজায়ে বাঁশের বাঁশরি।।
গোপী চন্দন চর্চিত অঙ্গে
প্রাণ মাতাইয়া প্রেম তরঙ্গে
বামে হেলায়ে ময়ুর পাখা দুলায়ে তমাল শাখা
দীপবনে, দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গে।
এসো লয়ে সেই শ্যাম-শোভা ব্রজ বধু মনোলোভা
সেই পীত বসন পরি’।।
এসো গগনে ফেলি নীল ছায়া
আনো পিপাসিত চোখে মেঘ মায়া।
এসো মাধব মাধবী তলে
এসো বনমালী বন-মালা গলে
এসো ভক্তিতে প্রেমে আঁখি জলে
এসো তিলক লাঞ্ছিত সুর নর বাঞ্ছিত
বামে লয়ে রাই কিশোরী।।

Categories

এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল কাজল বর্ণা

এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল কাজল বর্ণা
এসো জল ছিটিয়ে ফুল ফুটিয়ে এসো।।
উপল নুড়িতে কাঁকন চুড়িতে
রিনি ঠিনি ছন্দে বন্য আনন্দে এসো
এসো ছলছল ঝলমল আঁচল লুটিয়ে এসো।।
তৃষ্ণায় ডাকে কূলে কূলে হরিণী
আনো কৃষ্ণার জল নির্ঝরিণী।
ফুলবনে ভ্রমর দল জুটিয়ে এসো।।
এসো তপ্ত ধরার বক্ষে, শান্তি ধারা আনো চক্ষে
শীতল হোক খরতর বায়ু, নির্জীব প্রান্তরে আনো পরমায়ু
এসো পাষাণ-কারারঘুম টুটিয়ে এসো।।

নাটকঃ‘মদিনা’

Categories

সো হে সজল শ্যাম–ঘন দেয়া বেণু–কুঞ্জ–ছায়ায়

সো হে সজল শ্যাম–ঘন দেয়া বেণু–কুঞ্জ–ছায়ায়
এসো তাল–তমাল বনে এসো শ্যামল ফুটাইয়া যূথী কুন্দ নীপ কেয়া।।
বারিধারে এসো চারিধার ভাসায়ে বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে
দশদিক হাসায়ে বিরহী মনে জ্বালায়ে
আশার আলেয়া ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম–পিয়া।।
শ্রাবণ বরিষণ হরষণ ঘনায়ে এসো নব ঘন শ্যাম নূপুর শুনায়ে।
হিজল তমাল ডালে ঝুলন ঝুলায়ে তাপিতা ধরার চোখে অঞ্জন বুলায়ে
যমুনা স্রোতে ভাসায়ে প্রেমের খেয়া ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম–পিয়া।।

Categories

এলো শ্যামল কিশোর তমাল-ডালে বাঁধে ঝুলনা

এলো শ্যামল কিশোর তমাল-ডালে বাঁধে ঝুলনা।
সুনীল শাড়ি পরো ব্রজনারী পরো নব নীপ-মালা অতুলনা।।
ডাগর চোখে কাজল দিও,
আকাশী রং প’রো উত্তরীয়,
নব-ঘন-শ্যামের বসিয়া বামে দুলে দুলে ব’রলা, ‘বঁধু, ভুলো না’।।
নৃত্য-মুখর আজি মেঘলা দুপুর,
বৃষ্ট্রির নূপুর বাজে টুপুর টুপুর।
বাদল-মেঘের তালে বাজিছে বেণু,
পান্ডুর হ’ল শ্যাম মাখি’ কেয়া-রেণু,
বাহুতে দোলনায় বাঁধিবে শ্যামরায় ব’লো, ‘হে শ্যাম, এ বাঁধন খুলো না’।।

Categories

এলো রে শ্রী দুর্গা

এলো রে শ্রী দুর্গা
শ্রী আদ্যাশক্তি মাতৃরূপে পৃথিবীতে এলো রে
গভীর স্নেহরস ধারায় কল্যাণ কৃপা করুণায় স্নিগ্ধ করিতে॥
উর্ধ্বে উড়ে যায় শান্তির পতাকা
শুভ্র শান্ত মেঘ আনন্দ বলাকা
মমতার অমৃত লয়ে শ্যামা, মা হয়ে এলো রে
সকলের দুঃখ দৈন্য হরিতে॥
প্রতি হৃদয়ের শতদলে শ্রীচরণ ফেলে
বন্ধন কারার দুয়ার ঠেলে।
এলো রে দশভুজা সর্বমঙ্গলা মা হয়ে
দুর্বলে দুর্জয় করিতে নিরন্নে অন্ন দিতে॥

Categories

এলো রে এলো ঐ রণ-রঙ্গিণী শ্রীচন্ডী

এলো রে এলো ঐ রণ-রঙ্গিণী শ্রীচন্ডী, চন্ডী এলো রে এলো ঐ
অসুর সংহারিতে বাঁচাতে উৎপীড়িতে
ধ্বংস করিতে সব বন্ধন বন্দী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী, এলো রে এলো ঐ॥
দনুজ দলনে চামুন্ডা এলো ঐ প্রলয় অগ্নি জ্বালি নাছিছে
তাথৈ তাথৈ তাতা থৈ থৈ দুর্বলে বলে মা মাভৈঃ মাভৈঃ
মুক্তি লভিবি সব শৃঙ্খল বন্দী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী, এলো রে এলো ঐ॥
রক্ত-রঞ্জিত অগ্নি শিখায় করালী কোন্ রসনা দেখা যায়।
পাতাল তলের যত মাতাল দানব পৃথিবীতে এসেছিল হইয়া মানব
তাদের দন্ড দিতে আসিয়াছে চন্ডীকা সাজিয়া চন্ডী, শ্রীচন্ডী, চন্ডী এলো রে॥

Categories