ওরে আমার চটি

ওরে আমার চটি
আমার ঠনঠনিয়ার চটি
যাত্রা শুনতে কাহার সাথে গেলি তুই পালটি।।
মোর শ্রীচরণ ভরসা গেলি কাহার পায়ে গ’লে
তুই দু’বছর পায়ে ছিলি তোরে জানতাম সতী ব’লে
তুই কাহার গোদা চরণ দেখে গেলি শেষে পটি’।
তোরে নিয়ে গেছেন যিনি তার চটিখানি ফেলে
এ চটি তো নয় রামচটিতং আছেন বদন মেলে’
সদা আছেন বদন মেলে’,
যেন অষ্টাবক্র বেঁকে হয়ে গিয়েছেন ঠিক আঁশবঁটি
বেঁকে হয়েছেন আঁশবঁটি।।
চটি কেন তোরে রাখিনিকো বগল-দাবা ক’রে
বুঝি এতক্ষণ সে ফাটিয়ে তোরে ফেলেছে পা’ ভ’রে
শেষে আস্তাকুড়েঁ দেছে ফেলে সে যে হয়তো চটিমটি’।।
আমি ভাবি, এ তার পায়ের জুতো না তার গায়ের নিমা
আমারচটির পাশে ইনি ঠিক যেন দিদি মা
ওরে চটি রে তোর দিদি হলেও চলতো মোটামুটি
তুই চটপটিয়ে আয় চ’লে নয় সত্যি যা’ব চটি’।।

Categories

ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের

ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের
বাঁশি বাজলো, বাজলো বাঁশি
ফেলে তরুর ছায়া ভুলে ঘরের মায়া
এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥
তারা আকাশকে আজ চাহে লুটে নিতে
তারা মন্থর ধরায় চাহে দুলিয়ে দিতে
তারা তরুণ তরুণ প্রাণ জাগায় মৃতে
সাহস জাগায় চিতে তাদের অট্টহাসি॥
মোরা প্রাচীরের পরে রে প্রাচীর তুলে
ভাই হয়ে ভাইকে হায় ছিলাম ভুলে।
আজ ভেঙে প্রাচীর হল ঘরের বাহির
একই অঙ্গনে দাঁড়ালো উন্নত শির
এলো মুক্ত গগন তলে প্রাণ পিয়াসি
এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥

Categories

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে –
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।

Categories

ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো

(মা) ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো
আমি কেন অন্ধ মাগো দেখি শুধু কালো॥
মা সর্বলোকে শক্তি ফিরিস নাচি
ওমা আমি কেন পঙ্গু হয়ে আছি
ওমা ছেলে কেন মন্দ হল জননী যার ভালো॥
তুই নিত্য মহা প্রসাদ বিলাস কৃপার দুয়ার খুলি
চির শুন্য রইল কেন আমার ভিক্ষা ঝুলি।
বিন্দু বারি পেলাম না মা সিন্ধুজলে রয়ে
মা ও তোর চোখের কাছে পড়ে আছি চোখের বালি হয়ে
মোর জীবন্মৃত এই দেহে মা চিতার আগুন জ্বালো॥

Categories

ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস আমি তাই হয়েছি লক্ষ্মীছাড়া

(মা) ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস আমি তাই হয়েছি লক্ষ্মীছাড়া
ও তোর কৃপা বিনা শক্তিময়ী শুকিয়ে গেল ভক্তিচারা॥
ওমা তুই আশ্রয় দিলি না তাই, আমি যা পাই তা পথে হারাই
তোর রসময় ভুবন আমার শ্মশান হল ওমা তারা।
আজ আনন্দ যমুনা ফেলে এসেছি তাই যমের দ্বারে
ওমা জীবনে যা পেলাম না তা মরণ যদি দিতে পারে।
মাগো ওমা তত বাড়ে বুকের জ্বালা, পাই যত যশ খ্যাতির মালা
রাজপ্রসাদে শুয়ে মাগো শান্তি কি পায় মাতৃহারা॥

Categories

ওগো মাগো আজো, বেঁচে আছি, তোরই প্রসাদ পেয়ে

ওগো মাগো আজো, বেঁচে আছি, তোরই প্রসাদ পেয়ে।
তোর দয়াময়ী অন্নপূর্ণা, তোরই অন্ন খেয়ে॥
কবে কখন খেলার ছলে,
ডেকেছিলাম শ্যামা ব’লে;
সেই পুণ্যে ধন্য আমি, আজ তোরই নাম গেয়ে॥
পাপী হয়েও পাই আমি তাই, যখন যাহা চাই।
দুঃখে শোকে বিপদ ঝড়ে,
বাঁচাস্ মা তুই বক্ষে ধ’রে;
দয়াময়ী নাই কেহ মা, ভবানী তোর চেয়ে॥

Categories

ওগো মা – ফাতেমা ছুটে আয়

ওগো মা – ফাতেমা ছুটে আয়, তোর দুলালের বুকে হানে ছুরি।
দীনের শেষে বাতি নিভিয়া যায় মাগো, বুঝি আঁধার হ’ল মদিনা-পুরী ॥
কোথায় শেরে খোদা, জুলফিকার কোথা,
কবর ফেঁড়ে এসো কারবালা যথা –
তোমার আওলাদ বিরান হ’ল আজি, নিখিল শোকে মরে ঝুরি’ ॥
কোথায় আখেরী নবী, চুমা খেতে তুমি, যে গলে হোসেনের
সহিছ কেমনে? সে গলে দুশমন হানিছে শমসের।
রোজ্‌হাশরে নাকি কওসরের পানি
পিয়াবে তোমরা গো গোনাহ্‌গারে আনি,
দেখ না কি চেয়ে, দুধের ছেলেমেয়ে পানি বিহনে মরে পুড়ি ॥

Categories

ওগো প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ আমার পাওয়ার বহু দূরে

ওগো প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ আমার পাওয়ার বহু দূরে।
তবু মনের মাঝে বেণু বাজে সেই পুরানো সুরে সুরে॥
বাজে মনের মাঝে বেণু বাজে
প্রিয় বাজাতে যে বেণু বনের মাঝে আজো তার রেশ মনে বাজে॥
তব কদম-মালার কেশরগুলি
আজি ছেয়ে আছে ওগো পথের ধূলি,
ওগো আজিকে করুণ রোদন তুলি’ বয় যমুনা ভাটি সুরে॥
(আর উজান বয় না,)
ওগো আজিকে আঁধার তমাল বনে, বসে আছি উদাস মনে
ওগো তোমার দেশে চাঁদ উঠেছে আমার দেশে বাদল ঝুরে॥
সেথা চাঁদ উঠেছে –
ওগো শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
সেথা শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
সখি তাদের দেশে আকাশে আজ আমার দেশের চাঁদ উঠেছে।
ওগো মোর গগনে কৃষ্ণা তিথি আমার দেশে বাদল ঝুরে॥

Categories

ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে

দ্বৈত : ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে
স্ত্রী : মধু মঞ্জির বোলে মণি কুন্তল দোলে
পুরুষ : চন্দন লেখা শোভে চারুভালে॥
স্ত্রী : রস যমুনায় জাগে ঢেউ উতরোল
পুরুষ : ব্রজগোপিকার প্রাণে লাগে তারি হিল্লোল
দ্বৈত : রাস পূর্ণিমা রাতে শিখী নাচে সাথে সাথে
ফুল দোলে কুঞ্জেরই বকুল ডালে॥
স্ত্রী : নাচে নন্দ দুলাল বাজে মোহন বেণূ
পুরুষ : অঙ্গের লাবনিতে আলো করে অবনিতে
দ্বৈত : হাসিতে ঝরায় ফুল পরাগ রেণু।
স্ত্রী : রাঙা পায়ে রুমুঝুমু বাজে মধুর
পুরুষ : জীবন মরণ তার যুগল নূপুর
দ্বৈত : মুগ্ধ তারকা শশী রাতের দেউলে বসি
আরতি প্রদীপ শিখা নিত্য জ্বালে॥

Categories

ওগো দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই

ওগো দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই (গদাইচন্দ্র) বিবাহ না করে,
কুক্ষণে তার বিয়ে দিয়ে দিল সবাই ধ’রে॥
আইবুড়ো সে ছিল যখন, মনের সুখে উড়ত
হাল্‌কা দু’খান পা দিয়ে সে (গদাই) নাচ্‌ত, কুঁদ্‌ত ছুঁড়ত॥
ওগো বিয়ে করে গদাই
দেখলে সে আর উড়তে নারে, ভারি ঠেকে সদাই।
তার এ্যাডিশনাল দু’খানা ঠ্যাং বেড়ায় পিছে ন’ড়ে॥
গদাই-এর পা দু’খানা মোটা, আর তার বৌ-এর পা দু’খানা সরু,
ছোট বড় চারখানা ঠ্যাং ঠিক যেন ক্যাঙারু
গদাই (দেখতে) ঠিক যেন ক্যাঙ্গারু।
আপিসে পদ বৃদ্ধি হয় না (গদাইচন্দ্রের), কিন্তু ঘরে ফি-বছরে,
পা বেড়ে যায় গড়পড়তায় দু’চারখান ক’রে।
তার বৌ শোনে না মানা –
তিনি হন্যে হয়ে কন্যে আনেন মা, ষষ্টির ছানা
মানুষ থেকে চার পেয়ে জীব, শেষ ছ’পেয়ে মাছি,
তারপর আটপেয়ে পিঁপড়ে, বাবা গদাই বলে, একেবারে গেছি
আর বলে, ও বাবা বিয়ে করে মানুষ এই কেলেঙ্কাররির তরে (বাবা)॥

Categories