তোরা যারে এখনি হালিমার কাছে লয়ে ক্ষীর সর ননী

তোরা যারে এখনি হালিমার কাছে লয়ে ক্ষীর সর ননী
আমি খোয়াবে দেখেছি কাঁদিছে মা বলে আমার নয়ন-মণি॥
মোর শিশু আহমদে যেদিন কাঁদিয়া
হালিমার হাতে দিয়াছি সঁপিয়া
সেই দিন হ’তে কেঁদে কেঁদে মোর কাটিছে দিন রজনী॥
পিতৃহীন সে সন্তান হায় বঞ্চিত মা’র স্নেহে
তারে ফেলে দূরে কোল খালি করে (আমি) থাকিতে পারি না গেহে।
অভাগিনী তার মা আমিনায়
মনে করে সে কি আজো কাঁদে হায়
বলিস তাহারি আসার আশায় দিবানিশি দিন গণি॥

তোরা বলিস্ লো সখি, মাধবে মথুরায়

তোরা বলিস্ লো সখি, মাধবে মথুরায়
কেমনে রাধার কাঁদিয়া বরষ যায়॥
খর-বৈশাখে কি দাহন থাকে বিরহিণী একা জানে
ঘৃত-চন্দন পদ্ম পাতায় দারুণ দহন-জ্বালা না জুড়ায়
‘ফটিক জলে’র সাথে আমি কাঁদি চাহিয়া গগন-পানে।
জ্বালা না জুড়ায় গো –
হরি-চন্দন বিনা ঘৃত-চন্দনে জ্বালা না জুড়ায় গো
শ্যাম-শ্রীমুখ-পদ্ম বিনা পদ্ম পাতায় জ্বালা না জুড়ায়॥
বরষায় অবিরল ঝর ঝর ঝরে জল জুড়াইল জগতের নারী
রাধার গলার মালা হইল বিজলি-জ্বালা তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি!
সখি রে, তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি।
প্রবাসে না যায় পতি সব নারী ভাগ্যবতী বন্ধু রে বাহুডোরে বাঁধে
ললাটে কাঁকন হানি’ একা রাধা অভাগিনী প্রদীপ নিভায়ে ঘরে কাঁদে।
জ্বালা তা’র জুড়ালো না জলে গো
শাওনের জলে তা’র মনের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে গো
কৃষ্ণ-মেঘ গেছে চ’লে, অকরুণ অশনি হানিয়া হিয়ায় (সখি)॥
আশ্বিনে পরবাসী প্রিয় এলো ঘরে গো মিটিল বধূর মন-সাধ (সখি রে)
রাধার চোখের জলে মলিন হইয়া যায় কোজাগরী চাঁদ (মলিন হইয়া যায় গো)।
আগুন জ্বালালে শীত যায় নাকি রাধার কি হ’ল হায়
বুক ভরা তার জ্বলিছে আগুন তবু শীত নাহি যায়।
যায় না, যায় না আগুন জ্বলে –
বুকের আগুন জলে, তবু শীত যায় না, যায় না,
শীত যদি বা যায় নিশীথ না, যায় গো
যায় না, যায় না, রাধার যে কি হ’ল হায়॥
কলিয়া কৃষ্ণ-ছূড়া, ছড়ায়ে ফাগের গুঁড়া আসিল বসন্ত
রাধা-অনুরাগে রেঙে কে ফাগ খেলিবে গো, নাই ব্রজ-কিশোর দুরন্ত।
মাধবী-কুঞ্জে কুহু কুহরিছে মুহুমুহু ফুল-দোলনায় সবে দোলে,
এ মধু মাধবী রাতে রাধার মাধব নাই
দুলিবে রাধা কার কোলে সখি রে – রাধা দোলে কার কোলে গো
শ্যাম-বল্লভ বিনা রাধা দোলে কার কোলে গো, বল্ সখি, দোলে কার কোলে।
ফুল-দোলে দোলে সবে পিয়াল-শাখে
রাধার প্রিয়া নাই, বাহু দু’টি দিয়া বাঁধিবে কাহাকে,
ঝরা-ফুল-সাথে রাধা ধূলাতে লুটায়॥

Categories

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে।।
কূল মখ্‌লুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এলো ঐ
কলেমা শাহাদাতের্‌ বাণী ঠোঁটে, কে এলা ঐ
খোদার জ্যোতি পেশানিতে ফোটে, কে এলো ঐ
আকাশ-গ্রহ-তারা পড়ে লুটে, কে এলা ঐ
পড়ে দরুদ ফেরেশ্‌তা, বেহেশ্‌তে সব দুয়ার খোলে।।
মানুষে মানুষের অধিকার দিল যে-জন
‘এক আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রভু নাই’ কহিল যে-জন,
মানুষের লাগি’ চির-দীন্‌ বেশ ধরিল যে-জন
বাদশা ফকিরে এক শামিল করিল যে-জন
এলো ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী
ব্যথিত-মানবের ধ্যানের ছবি
আজি মাতিল বিশ্ব-নিখিল্‌ মুক্তি-কলোরোলে।।

তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে থাকি

তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে থাকি।
তুমি যে পথ দিয়ে গেছ চলে তারি ধূলা মাখি’ হে।।
যেমন পা ফেলেছ গিরিমাটির রাঙা পথের ধূলাতে,
অমনি করে আমার বুকে চরণ যদি বুলাতে,
আমি খানিক জ্বালা ভুলতাম ঐ মানিক বুকে রাখি’ হে।।
আমার খাওয়া পরার নাই রুচি, আর ঘুম আসে না চোখে হে,
আমি আউরী হয়ে বেড়াই পথে, হাসে পাড়ার লোকে
দেখে হাসে পাড়ার লোকে।
আমি তাল পুকুরে যেতে নারি – একি তোমার মায়া হে,
আমি কালো জলে দেখি তোমার কালো রূপের ছায়া হে;
আমার কলঙ্কিনী নাম রটিয়ে তুমি দিলে ফাঁকি হে।।

Categories

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে।
প্রখর রবির তাপে রে।।
চাহিয়া তৃষ্ণার বারি
চাতক ওঠে ফুকারি’
করুণ-শান্ত বিলাপে রে।।
রুদ্রযোগী ও-কে দূর বিমানে,
নিমগ্ন রহিয়াছে যেন ধ্যানে।
শকুন্তলা সম ভয়ে
কাঁপে ধরা র’য়ে র’য়ে,
অগ্নি-ঋষির অভিশাপ রে।।

Categories

তুমি হাতখানি যবে রাখ মোর হাতের পরে

তুমি হাতখানি যবে রাখ মোর হাতের পরে
মোর কণ্ঠ হ’তে সুরের গঙ্গা ঝরে।।
তব কাজল-আঁখির ঘন পল্লব তলে
বিরহ মলিন ছায়া মোর যবে দোলে
তব নীলাম্বরীর ছোঁয়া লাগে যেন সেদিন নীলাম্বরে।।
যেদিন তোমারে পাই না কাছে গো পরশন নাহি পাই,
মনে হয় যেন বিশ্ব ভুবনে কেহ নাই, কিছু নাই।
অভিমানে কাঁদে বক্ষে সেদিন বীণ
আকাশ সেদিন হয়ে যায় বাণী হীন
যেন রাধা নাই, আর বৃন্দাবনে গো সব সাধ গেছে ম’রে।।

Categories

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ?

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ?
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী বলে না তো কিছু চাঁদ।।

চেয়ে’ চেয়ে’ দেখি ফোটে যবে ফুল

ফুল বলে না তো সে আমার ভুল

মেঘ হেরি’ ঝুরে’ চাতকিনী, মেঘ করে না তো প্রতিবাদ।।
জানে সূর্যেরে পাবে না তবু অবুঝ সূর্যমুখী
চেয়ে’ চেয়ে’ দেখে তার দেবতারে দেখিয়াই সে যে সুখী।

হেরিতে তোমার রূপ–মনোহর

পেয়েছি এ আঁখি, ওগো সুন্দর।
মিটিতে দাও হে প্রিয়তম মোর নয়নের সেই সাধ।।

Categories

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ

তুমি সুন্দর কপট হে নাথ!মায়াতে রাখ বিভোর।
তোমার ছলনা যে বোঝে না নাথ সেই সে দুঃখী ঘোর।।
কত শত রূপে নিঠুর আঘাতে
তুমি চাও নাথ তোমারে ভোলাতে
তবু যে তোমারে ভুলিতে পারে না ধরা দাও তারে চোর।।
কাঁদাও তাহারে নিশিদিন তুমি যপে যে তোমার নাম
তোমারে যে চাহে শত বন্ধনে বাঁধ তারে অবিরাম।
সাগরে মিশাতে চায় বলে নদী
জনম গোঁয়ায় কেঁদে নিরবধি
ভক্তে তেমনি দিয়াছ যে নাথ অসীম আঁখি – লোর।।

Categories

তুমি সারাজীবন দুঃখ দিলে

তুমি সারাজীবন দুঃখ দিলে, তব দুঃখ দেওয়া কি ফুরাবে না!
যে ভালোবাসায় দুঃখে ভাসায় সে কি আশা পূরাবে না॥
মোর জনম গেল ঝুরে ঝুরে – লোকে লোকে ঘুরে ঘুরে,
তব স্নিগ্ধ পরশ দিয়ে কি, নাথ, দগ্ধ হিয়া জুড়াবে না॥
তুমি অশ্রুতে যে-বুক ভাসালে –
সেই বক্ষে এসো দিন ফুরালে
তুমি আঘাত দিয়ে ফুল ঝরালে, হাত দিয়ে কি কুড়াবে না॥

Categories

তুমি শুনিতে চেয়ো না আমার মনের কথা

তুমি শুনিতে চেয়ো না আমার মনের কথা
দখিনা বাতাস ইঙ্গিতে বোঝে
কহে যাহা বনলতা।।
চুপ ক’রে চাঁদ সুদুর গগনে
মহা-সাগরের ক্রন্দন শোনে,
ভ্রমর কাদিঁয়া ভাঙিতে পারে না
কুসুমের নীরবতা।।
মনের কথা কি মুখে সব বলা যায়?
রাতের আঁধার যত তারা ফোটে
আখিঁ কি দেখিতে পায়?
পাখায় পাখায় বাঁধা যবে রয়
বিহদ-মিথুন কথা নাহি কয়,
মধুকর যবে ফুলে মধু পায়
রহে না চঞ্চলতা।।

গীতিচিত্রঃ অতনুর দেশ

Categories