দিনের সকল কাজের মাঝে তোমায় মনে পড়ে

দিনের সকল কাজের মাঝে তোমায় মনে পড়ে।
কাজ ভুলে যাই (আমি), মন চ’লে যায় সুদূর দেশান্তরে।।
তুলসী তলায় দীপ জ্বালিয়ে
দূর আকাশে রই তাকিয়ে,
সাঁঝের ঝরা ফুলের মতো অশ্রু বারি ঝরে।।
আঁধার রাতে বাতায়নে একলা ব’সে থাকি,
চাঁদকে শুধায় তোমার কথা ঘুমহারা মোর আঁখি।
প্রভাত বেলায় গভীর ব‍্যথায়
মন কেঁদে কয় তুমি কোথায়,
শূন্য লাগে এ তিন ভুবন প্রিয় তোমার তরে।।

Categories

দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে যায় কালের স্রোতে

দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে যায় কালের স্রোতে
ওগো সুদূর ওগো বিধুর তোমার সাগর-তীর্থ -পথে।।
বিফল দিনের কমলগুলি
পড়লো ঝ’রে পাপড়ি খুলি’
নিও প্রিয় তদের তুলি দিন শেষের ম্লান আলোতে।।
সঞ্চিত মোর দিনগুলি হায় ছড়িয়ে গেল অযতনে;
তোমার বরণ-মালা গাঁথা হলো না আর এ জীবনে।
অন্য মনে কখন বেভুল
ভাসিয়ে দিলাম দলি সে ফুল
বঞ্চিত তাই হবে কি হায় তোমার চরণ-ছোওয়া হ’তে।।

Categories

দিতে এলে ফুল,হে প্রিয়,কে আজি সমাধিতে মোর

দিতে এলে ফুল,হে প্রিয়,কে আজি সমাধিতে মোর?
এতদিনে কি আমারে পড়িল মনে মনচোর।।
জীবনে যারে চাহনি তাহারে ঘুমাইতে দাও।
মরণ-পারে ভেঙো না,ভেঙো না তাহার ঘুম-ঘোর।।
দিতে এসে ফুল কেঁদো না প্রিয় মোর,সমাধি-পাশে
ঝরিল যে ফুল অনাদরে হায়,নয়ন-জলে বাঁচিবে না সে!
সামাধি-পাষাণ নহে গো তোমার সমান কঠোর।।
কত আশা,সাধ মিশে যায় মাটির সনে
মুকুলে ঝরে কত ফুল কীটেরি দহনে।
কেন অসময়ে আসিলে,ফিরে যাও,মোছ আঁখি -লোর।।

Categories

দিকে দিকে পুন জ্বলিয়া উঠেছে দীন-ই-ইসলামী লাল মশাল

দিকে দিকে পুন জ্বলিয়া উঠেছে দীন-ই-ইসলামী লাল মশাল।
ওরে বে-খবর, তুইও ওঠ্‌ জেগে, তুইও তোর প্রাণ-প্রদীপ জ্বাল।।
গাজী মুস্তফা কামালের সাথে জেগেছে তুর্কী সুর্খ-তাজ,
রেজা পহ্‌লবী-সাথে জাগিয়াছে বিরান মুলুক ইরানও আজ
গোলামী বিসরি’ জেগেছে মিসরী, জগলুল-সাথে প্রাণ-মাতাল।।
ভুলি’ গ্লানি লাজ জেগেছে হেজাজ নেজদ্‌ আরবে ইবনে সউদ্‌
আমানুল্লার পরশে জেগেছে কাবুলে নবীন আল-মামুদ,
মরা মরক্কো বাঁচাইয়া আজি বন্দী করিম রীফ্‌-কামাল।।
জাগে ফয়সল্‌ ইরাক আজমে, জাগে নব হারুন-আল্‌-রশীদ,
জাগে বয়তুল মোকাদ্দস্‌ রে; জাগে শাম দেখ্‌ টুটিয়া নিদ
জাগে না কো শুধু হিন্দের দশ কোটি মুসলিম বে-খেয়াল।।
মোরা আস্‌হাব কাহাফের মত হাজারো বছর শুধু ঘুমাই,
আমাদেরি কেহ ছিল বাদশাহ্‌ কোন কালে; তার করি বড়াই,
জাগি যদি মোরা, দুনিয়া আবার কাঁপিবে চরণে টাল্‌মাটাল।।

Categories

দিও বর হে মোর স্বামী যবে যাই আনন্দ ধামে

দিও বর হে মোর স্বামী যবে যাই আনন্দ ধামে
যেন প্রাণ ত্যাজি হে স্বামী শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ নামে॥
ভাসি যেন আমি ভাগীরথী নীরে অথবা প্রয়াগে যমুনার তীরে
অন্তিম সময়ে হেরি আঁখি নীরে যেন মোর রাধা শ্যামে॥
ব্রজগোপালের শুনায়ে নূপুর মরণ আমার করিও মধুর
বাজায়ো বাঁশি দাঁড়ায়ো আসি’ রাধারে লইয়া বামে॥

Categories

দাসী হতে চাই না আমি হে শ্যাম কিশোর বল্লভ

দাসী হতে চাই না আমি হে শ্যাম কিশোর বল্লভ,
আমি তোমার প্রিয়া হওয়ার দুঃখ লব।
জানি জানি হে উদাসীন
দুঃখ পাব অন্ত বিহীন
বঁধুর আঘাত মধুর যে নাথ সে গরবে সকল সব।।
তোমার যারা সেবিকা নাথ, আমি নাহি তাদের দলে,
সবর্নাশের আশায় আমি ভেসেছি প্রেম পাথার জলে।
দয়া যে চায় যাচুক চরণ
আমার আশা করব বরণ
বিরহে হোক মধুর মরণ, আজীবন সুদূরে রব।।

Categories

দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য্য, হে উদার নাথ

দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য্য, হে উদার নাথ,
দাও প্রাণ।
দাও অমৃত মৃত জনে,
দাও ভীত –চিত জনে, শক্তি অপরিমাণ।

হে সর্বশক্তিমান।।

দাও স্বাস্থ্য, দাও আয়ু,
স্বচ্ছ আলো, মুক্ত বায়ু,
দাও চিত্ত অ–নিরুদ্ধ, দাও শুদ্ধ জ্ঞান।

হে সর্বশক্তিমান।।

দাও দেহে দিব্য কান্তি,
দাও গেহে নিত্য শান্তি,
দাও পুণ্য প্রেম ভক্তি, মঙ্গল কল্যাণ।
ভীতি নিষেধের ঊর্ধে স্থির,
রহি যেন চির–উন্নত শির
যাহা চাই যেন জয় করে পাই, গ্রহণ না করি দান।

হে সর্বশক্তিমান।।

Categories

দাও দাও দরশন পদ্ম-পলাশ লোচন

দাও দাও দরশন পদ্ম-পলাশ লোচন,
কেঁদে দু’ নয়ন হ’ল অন্ধ।
আকাশ বাতাস ঘেরা, তব ও মন্দির বেড়া
আর কতকাল রবে বন্ধ॥
পাখি যেমন সন্ধ্যাকালে, বন্ধু-স্বজন পালে পালে
উড়ে এসে ব’সেছিল ডালে হে।
রাত পোহালে একে এক, উড়ে গেল দিগ্বিদিকে,
প’ড়ে আছি একা নিরানন্দ।
টুটিল বাঁধন মায়ার, কবে শুনিব এবার
ও রাঙা চরণ নূপুর ছন্দ॥
দুখ-শোক রৌদ্রজলে, ফেলে মোরে পলে পলে
ছলিতেছ হরি কত ছল হে
জীবনের বোঝা প্রভু, বহিতে কি হবে তবু
সহিতে পারি না আর দ্বন্দ্ব।
মরণের সোনার ছোঁওয়ায়, ডেকে লও ও রাঙা পায়
দেখাও এবার মুখ-চন্দ॥

Categories

দাঁড়ালে দুয়ারে মোর কে তুমি ভিখারিনী

দাঁড়ালে দুয়ারে মোর কে তুমি ভিখারিনী।
গাহিয়া সজল চোখে বেলা-শেষের রাগিণী॥
মিনতি-ভরা আঁখি ওগো কে তুমি ঝড়ের পাখি
(ওগো) কি দিয়ে জুড়াই ব্যথা কেমনে কোথায় রাখি
কোন্ প্রিয় নামে ডাকি’ মান ভাঙাব মানিনী॥
বুকে তোমায় রাখতে প্রিয় চোখে আমার বারি ঝরে,
(ওগো) চোখে যদি রাখিতে চাই বুকে উঠে ব্যথা ভ’রে।
যত দেখি তত হায়, ওগো পিপাসা বাড়িয়া যায়
কে তুমি যাদুকরী স্বপন-মরু-চারিণী॥

Categories

দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা

দক্ষিণ সমীরণ সাথে বাজো বেণুকা।
মধু –মাধবী সুরে চৈত্র –পূর্নিমা রাতে, বাজো বেণুকা।।

বাজো শীর্ণা–স্রোত নদী–তীরে
ঘুম যবে নামে বন ঘিরে’

যবে ঝরে এলোমেলো বায়ে ধীরে ফুল–রেণুকা।।
মধুমালতী–বেলা–বনে ঘনাও নেশা
স্বপন আনো জাগরণে মদিরা মেশা।

মন যবে রহে না ঘরে
বিরহ–লোকে সে বিহরে
যবে নিরাশার বালুচরে ওড়ে বালুকা।

Categories