বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু হইব না আর পথহারা

বহু পথে বৃথা ফিরিয়াছি প্রভু হইব না আর পথহারা
বন্ধু স্বজন সব ছেড়ে যায় তুমি একা জাগো ধ্রুবতারা।।
মায়ারূপী হায় কত স্নেহ-নদী,
জড়াইয়া মোরে ছিল নিরবধি,
সব ছেড়ে গেল, হারাইনু যদি তুমি এসো প্রাণে প্রেমধারা।।
ভ্রান্ত পথের শ্রান্ত পথিক লুটায় তোমার মন্দিরে,
প্রভু আরো যদি কিছু আছে মোর প্রিয় লও বাঁচায়ে বন্দীরে।
ডাকি’ লও মোরে মুক্ত আলোকে
তব আনন্দ-নন্দন-লোকে,
শান্ত হোক এ ক্রন্দন, আর সহে না এ বন্ধন-কারা।।

Categories

বসিয়া নদী-কূলে,এলোচুলে কে উদাসিনী

বসিয়া নদী-কূলে,এলোচুলে কে উদাসিনী
কে এলে, পথ ভুলে, এ অকূলে বন-হরিণী।।
কলসে জল ভরিয়া চায় করুণায় কুল-বধূরা,
কেঁদে যায় ফুলে, ফুলে, পদমূলে, সাঁঝ-তটিনী।।
দলিয়া কত ভাঙা-মন, ও চরণ, করেছ রাঙা
কাঁদায়ে কত না দিল, এলে নিখিল মন-মোহিনী।।
হারালি গোধূলি-লগন কবি, কোন নদী কিনারে,
একি সেই স্বপন-চাঁদ, পেতেছে ফাঁদ প্রিয়ার সতিনী।।

Categories

বসিয়া বিজনে কেন একা মনে

বসিয়া বিজনে কেন একা মনে
পানিয়া ভরনে চল লো গোরী।
চলো জলে চলো কাঁদে বনতল
ডাকে ছলছল জল–লহরি।।
দিবা চ’লে যায় বলাকা–পাখায়
বিহগের বুকে বিহগী লুকায়।
কেঁদে চখা–চখি মাগিছে বিদায়
বারোয়াঁর সুরে ঝুরে বাঁশরি।।
ওগো বে–দরদী ও রাঙ্গা পায়ে
মালা হয়ে কে গো গেল জড়ায়ে
তব সাথে কবি পড়িল দায়ে
পায়ে রাখি তারে না গলে পরি।।

Categories

বসন্ত মুখর আজি

বসন্ত মুখর আজি।
দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি’।।

অকারণ ভাষা তার ঝর ঝর ঝরে
মুহু মুহু কুহু কুহু পিয়া পিয়া স্বরে,
পলাশ বকুলে অশোক শিমুলে –

সাজানো তাহার কল–কথার সাজি।।

দোয়েল মধুপ বন–কপোত কূজনে,
ঘুম ভেঙে দেয় ভোরে বাসর শয়নে।

মৌনী আকাশ সেই বাণী–বিলাসে

অস্ত চাঁদের মুখে মৃদু মৃদু হাসে,
বিরহ–শীর্ণা গিরি–ঝর্ণার তীরে –

পাহাড়ি বেণু হাতে ফেরে সুর ভাঁজি’।।

Categories

বসন্ত এলো এলো এলো রে

বসন্ত এলো এলো এলো রে
পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহরে
মুহু মুহু কুহু কুহু তানে।
মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে
ভ্রমর গুঞ্জে গুনগুন গানে।।
পিয়া পিয়া ডেকে ওঠে পাপিয়া
মহুল, পলাশ বন-ব্যাপিয়া
সুরভিত সমীরণ চঞ্চল উন্মন
আনে নব-যৌবন প্রাণে।।
বেণুকার বনে বাঁশি বাজে
বনমালী এলো বন-মাঝে
নাচে তরু-লতিকা যেন গোপ-গোপিকা
রাঙা হয়ে রঙের বানে।।

Categories

বল্ মা শ্যামা বল্ তোর বিগ্রহ কি মায়া জানে

বল্ মা শ্যামা বল্ তোর বিগ্রহ কি মায়া জানে।
আমি যত দেখি তত কাঁদি ঐ রূপ দেখি মা সকলখানে॥
মাতৃহারা শিশু যেমন মায়ের ছবি দেখে,
চোখ ফিরাতে নারে মাগো, কাঁদে বুকে রেখে।
তোর মূর্তি মোরে তেমনি ক’রে টানে মাগো মরণ টানে॥
ও-মা, রাত্রে নিতুই ঘুমের ঘোরে দেখি বুকের কাছে,
যেন, প্রতিমা তোর মায়ের মত জড়িয়ে মোরে আছে।
জেগে উঠে আঁধার ঘরে
কাঁদি যবে মা তোরই তরে
দেখি প্রতিমা তোর কাঁদছে যেন চেয়ে চেয়ে আমার পানে॥

Categories

বল্ নাহি ভয় নাহি ভয়

বল্ নাহি ভয় নাহি ভয়!
বল্ মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!
তুই নির্ভর কর্‌ আপনার ‘পর আপন পতাকা কাঁধে তুলে ধর্‌
ওরে যে যায় যাক্ সে, তুই শুধু বল্ ‘আমার হয়নি লয়’!
বল্ ‘আমি আছি’, আমি পুরুষোত্তম, আমি চির-দুর্জয়!
বল্ মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
যে গেল সে নিজেরে নিঃশেষ করি’ তোদের পাত্র দিয়ে গেল ভরি’!
ঐ বন্ধ মৃত্যু পারেনি ক’ তাঁরে পারেনি করিতে লয়!
তাই আমাদের মাঝে নিজেরে বিলায়ে সে আজি শান্তিময়
বল্ মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
ওরে রুদ্র তখনি ক্ষুদ্রেরে গ্রাসে আগেই যবে সে ম’রে থাকে ত্রাসে
ওরে আপনার মাঝে বিধাতা জাগিলে বিশ্বে সে নির্ভয়
এই ক্ষুদ্র কারায় কভু কি ভয়াল ভৈরব বাঁধা রয়?
বল্ মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
ওরে আত্ম-অবিশ্বাসী, ভয়ে-ভীত! কেন হেন ঘন অবসাদ চিত
বল্ পর-বিশ্বাসে পর-মুখপানে চেয়ে কি স্বাধীন হয়?
তুই আত্মাকে চিন্, বল আমি আছি,’ ‘সত্য আমার জয়’!
বল্ মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!

Categories

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে।
তুমি আসিলে না, (হায়!) আশার সূর্য ডুবিল সাগর-নীরে।।
চলে যাই যদি, চিরদিন মনে
তোমার সে-কথা রহিবে স্মরণে
শুধু সেই কথা শোনার লাগিয়া হয়তো আসিব ফিরে।।
শুধু সেই আশে হয়তো এ তনু মরণে হবে না লীন
পথ চেয়ে চেয়ে, তব নাম গেয়ে বাজাব বিরহ-বীণ।
হের গো, আমার যাবার সময় হলো
তোমার সে-কথা মিথ্যা হবে না বলো,
কোন শুভক্ষণে নিমেষের তরে জড়াবে কন্ঠ ঘিরে।।

Categories

বলি মাথা খাস্ রাধে ওলো কথা শোন্

আবৃত্তিঃ কুমারী রাধিকা ঘোষের প্রতি শ্রীমৎ ক্যাগ বিমাতার উক্তি:

বলি মাথা খাস্ রাধে ওলো কথা শোন্।
বলি কুল আর তুই খাস্‌নে (রাধে কুল আর তুই খাস্‌নে)
ওলো গোকুল ঘোষের কন্যা যে তুই কুল গাছ পানে চাস্‌নে
(পরের কুল গাছ পানে চাস্‌নে)
ও কুল গাছে বড় কাঁটা
গায়ে অথবা পায়ে বিঁধিলে দায় হবে পথ হাঁটা
(রাধে গায়ে অথবা পায়ে বিঁধিলে দায় হবে পথ হাঁটা)
কলঙ্ক দিলি (কলঙ্ক দিলি)
তুই যারি তারি কুল চুরি করে খেলি
গোকুলের কুলে কলঙ্ক দিলি (কুলে কলঙ্ক দিলি) রাধে গো।
ওলো ভাবিস এখনও বয়েস হয়নি কারণ বেড়াস ফ্রক পরে।
ওই কুল গাছ আগলায় ভীমরুল চাক
(ওই কুল গাছ আগলায় ভীমরুল চাক)
তোর কুল খাওয়া বের হবে ফুলে হবি ঢাক
(ফুল হবি জয় ঢাক)।
বলি পড়তে নাকি কুল খেতে যাস রোজ রোজ ইস্কুলে
(রাধে পড়তে নাকি কুল খেতে যাস রোজ রোজ ইস্কুলে)
ওই কুলেরি কাঁটায় দুকুল ছিঁড়িস বেণী আঁটিস খুলে
(রাধে বেণী আঁটিস খুলে)
খাস তুই টোপা কুল খাস নারকুলে কুল
(খাস তুই টোপা কুল খাস নারকুলে কুল)
অত কুল খেয়ে রাতে পেট ডাকে কুল কুল কুল কুল।
ওলো কুলোতে নারি (কুলোতে নারি)
ওলো তোর কুল দিয়ে আর কুলোতে নারি (দিয়ে কুলোতে নারি)
ছিল কুলুঙ্গীতে কুলের আচার তাও খেয়েছিল কুল খোয়ারী
(কুলুঙ্গীর ও কুলের আচার তাও খেয়েছিস কুল খোয়ারী)।
ওই কুল গাছ ধরে (সখি গো রাধে গো)
(বহুত আচ্ছা দাদা বহুত আচ্ছা বহুত আচ্ছা)
ওই কুল গাছ ধরি কোলাকুলি করি ফ্যাসাদ বাধাবি শেষে
আর কুল ত্যাগিনী হবে কি নাশিনী কুল গাছ ভালোবেসে
(আর কুল ত্যাগিনী হবে কি নাশিনী কুল গাছ ভালোবেসে)॥

Categories

বন-বিহারিণী চঞ্চল হরিণী

বন-বিহারিণী চঞ্চল হরিণী
চিনি আঁখিতে চিনি কানন নটিনী রে।।
ছুটে চলে যেন বাঁধ ভাঙ্গা তটিনী রে।।
নেচে নেচে চলে ঝর্ণার তীরে তীরে
ছায়াবীথি তলে কভু ধীরে চলে
চকিতে পালায় ছুটি ছায়া হেরি গিরি-শিরে।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

Categories