বন-বিহঙ্গ যাও রে উড়ে মেঘ্‌না নদীর পাড়ে

বন-বিহঙ্গ যাও রে উড়ে মেঘ্‌না নদীর পাড়ে
দেখা হলে আমার কথা কইয়ো গিয়া তারে।
কোকিল ডাকে বকুল-ডালে, যে-মালঞ্চে সাঁঝ-সকালে রে,
আমার বন্ধু কাঁদে সেথায় গাঙেরি কিনারে।।
গিয়া তারে দিয়া আইস আমার শাপ্‌লা-মালা
আমার তরে লইয়া আইস তাহার বুকের জ্বালা।
সে যেন রে বিয়া করে, সোনার কন্যা আনে ঘরে রে,
আমার পাটের জোড় পাঠাইয়া দিব সে-কন্যারে।।

Categories

বন-ফুলে তুমি মঞ্জরি গো

বন-ফুলে তুমি মঞ্জরি গো
তোমার নেশায় পথিক-ভ্রমর ব্যাকুল হ’ল গুঞ্জরি’ গো।।
তুমি মায়ালোকের নন্দিনী ন্দনের আনন্দিনী
তুমি ধূলির ধরার বন্দিনী, যাও গহন কাননে সঞ্চরি গো।।
মৃদু পরশ-কুঞ্চিতা তুমি বালিকা
বল্লভ-ভীতা পল্লব অবগণি্ঠিতা মুকুলিকা।
তুমি প্রভাত বেলায় মঞ্জরি লাজে সন্ধ্যায় যাও ঝরি’
অরণ্যা-বল্লরি শোভা, পুণ্য পল্লী-সুন্দরী।।

Categories

বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে

বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে।
বিষাদিত ছায়া তার চৈতালী সন্ধ্যার চাঁদের মুকুরে।।
চপলতা বিসরি যেন বন-যৌবন
বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন,
তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুরে।।
যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে,
ভগ্ন কণ্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে।
কোন বন-শিকারীর অকরুণ তীর
আলো হ’রে নিল ওই উজল আঁখির –
ফেলে যাওয়া বাঁশি তা’র অঞ্চলে লুকায়ে –
গিরি–দরি–প্রান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।।

Categories

বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন দোলায় যুগল রাধা শ্যাম

বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন দোলায় যুগল রাধা শ্যাম।
কিশোরী পাশে কিশোর হাসে ভাসে আনন্দ সাগরে আজ ব্রজধাম।।
তড়িত লতায় যেন জড়িত জলধরে
ওগো যুগল রূপ হেরি মুনির মনোহরে
পুলকে গগন ছাপিয়া বারি করে বাজে যমুনা তরঙ্গে শ্যাম শ্যাম নাম।।
বন ময়ুর নাচে ঘন দেয়ার তালে
দোলা লাগে কেতকী কদম ডালে।
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে হেরে ত্রিলোক থির হয়ে রূপ অভিরাম।।

Categories

বকুল বনের পাখি ডাকিয়া আর ভেঙ্গো না ঘুম

বকুল বনের পাখি ডাকিয়া আর ভেঙ্গো না ঘুম
বকুল বাগানে মম, ফুরায়েছে ফুলের মরশুম॥
ওগো, প্রিয় মোর দূর বিদেশে কারে আর ডাকিছ পাখি
খুলিয়া পড়িছে হাতের, মলিন মালতী রাখি।
নিভিয়া গিয়াছে প্রদীপ রেখে গেছে স্মৃতির ধূম॥
ষোড়শী বাসন্তিকার রঙ দেহে মোর হয়েছে ম্লান।
খেলার সাথী পরদেশে, কারে দিই এ প্রীতির কুম্‌কুম্‌॥

Categories

বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়

বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়
যে বাঁশরি শুনে কিশোরী সহসা যেন গো যৌবন পায়॥
রয় না মন ঘরে সেই বাঁশির সুরে
দূরে ভেসে যেতে চায়
পরান ঘুরে মরে তাহার রাঙা পায়॥
তারি নূপুর শুনি নিশিদিনই প্রাণে মোর
নিশীথ রাতে আসে পাশে বসে মনোচোর।
তারে কি মালা দিব অশ্রু-মুক্তা গাঁথা
বিছাবো পথে কি তার মরা ফুল ঝরা পাতা
প্রাণের দীপালি জ্বালি তারি আশায়॥

Categories

বকুল চাঁপার বনে কে মোর চাঁদের স্বপন জাগালে

বকুল চাঁপার বনে কে মোর চাঁদের স্বপন জাগালে –
অনুরাগের সোনার রঙে হৃদয়-গগন রাঙালে।।
ঘুমিয়ে ছিলাম কুমুদ-কুঁড়ি বিজন ঝিলের নীল জলে
পূর্ণ শশী তুমি আসি’ আমার সে ঘুম ভাঙালে।।
হে মায়াবী তোমার ছোঁয়ায় সুন্দর আজ আমার তনু
তোমার মায়া রচিল মোর বাদল মেঘে ইন্দ্র ধনু।
তোমার টানে হে দরদি
দোল খেয়ে যায় কাঁদন-নদী
কূল হারা মোর ভালোবাসা আজকে কূলে লাগালে।।

Categories

বউ কথা কও, বউ কথা কও

বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানিনী
সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী।।
সে কাঁদন শুনি হের নামিল নভে বাদল
এলো পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলী কামিনী।।
আমার প্রাণের ভাষা শিখে ডাকে পাখি পিউ কাঁহা
খোঁজে তোমায় মেঘে মেঘে আঁখি মোর সৌদামিনী।।

Categories

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
আবার বিরহে তব কাঁদিব
আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে –
তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু আমার বিরহ তব গানে
সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে –
সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

Categories

বঁধু হে বঁধু ফিরে এসো আজো প্রাণের প্রদীপ

বঁধু হে
বঁধু ফিরে এসো আজো প্রাণের প্রদীপ রেখেছি আঁচল ঢেকে
বিরহ নিশাসে দীরঘ বাতাসে কেঁপে ওঠে থেকে থেকে।
আর রাখতে নারি, নিবু নিবু দীপ রাখতে নারি
বুঝি আমার পরান প্রদীপ নিভাবে আমারি নয়ন বারি।
বঁধু যমুনারি তীরে আসি ফিরে ফিরে কাঁদি কদম তরু তলে
হেরি বালুচরে বেণু আছে পড়ে ডাকে না আর রাধা বলে।
অভিমানে বাঁশি আমার বুকে আসি’ কেঁদে কেঁদে কহে যেন গো
হরি আরাধিকা রাধিকা এলে যদি শ্রীহরি এলো না কেন গো।
পায়ে পড়ে কাঁদে এসে যমুনারি ঢেউ
বলে রাধা রাধা বলে আর ডাকে না তো কেউ।
জটিলা কুটিলা আজ কলহ ভুলে জড়াইয়া মোরে কাঁদে যমুনা কূলে।
বলে কৃষ্ণ কই লো প্রলয়েরি কালে আর লইব কার নাম।
এই বিরহ যমুনা পার হব কবে বল হে বিরহী মম
গেলে কোন সে গোলকে রহিবে চোখে চোখে
প্রিয়তম হে কৃষ্ণ আঁখি তারা সম॥

Categories