বঁধু মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়

বঁধু মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
আবার বিরহে তব কাঁদিব
আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে –
তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু আমার বিরহ তব গানে
সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে –
সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

Categories

বঁধু হে বঁধু ফিরে এসো আজো প্রাণের প্রদীপ

বঁধু হে
বঁধু ফিরে এসো আজো প্রাণের প্রদীপ রেখেছি আঁচল ঢেকে
বিরহ নিশাসে দীরঘ বাতাসে কেঁপে ওঠে থেকে থেকে।
আর রাখতে নারি, নিবু নিবু দীপ রাখতে নারি
বুঝি আমার পরান প্রদীপ নিভাবে আমারি নয়ন বারি।
বঁধু যমুনারি তীরে আসি ফিরে ফিরে কাঁদি কদম তরু তলে
হেরি বালুচরে বেণু আছে পড়ে ডাকে না আর রাধা বলে।
অভিমানে বাঁশি আমার বুকে আসি’ কেঁদে কেঁদে কহে যেন গো
হরি আরাধিকা রাধিকা এলে যদি শ্রীহরি এলো না কেন গো।
পায়ে পড়ে কাঁদে এসে যমুনারি ঢেউ
বলে রাধা রাধা বলে আর ডাকে না তো কেউ।
জটিলা কুটিলা আজ কলহ ভুলে জড়াইয়া মোরে কাঁদে যমুনা কূলে।
বলে কৃষ্ণ কই লো প্রলয়েরি কালে আর লইব কার নাম।
এই বিরহ যমুনা পার হব কবে বল হে বিরহী মম
গেলে কোন সে গোলকে রহিবে চোখে চোখে
প্রিয়তম হে কৃষ্ণ আঁখি তারা সম॥

Categories

বঁধু, তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে

বঁধু, তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে।
তাই যত কাছে পাই তত এ হিয়ায় কি যেন অভাব রহে।।
বারে বারে মোরা কত সে ভুবনে আসি
দেখিয়া নিমেষে দুইজনে ভালোবাসি,
দলিয়া সহসা মিলনের সেই মালা (কেন) চলিয়া গিয়াছি দোঁহে।।
আমরা বুঝি গো বাঁধিব না ঘর, অভিশাপ বিধাতার।
শুধু চেয়ে থাকি, কেঁদে কেঁদে ডাকি, চাঁদ আর পারাবার
যেন চাঁদ আর পারাবার।
মোদের জীবন-মঞ্জরি দুটি হায়!
শতবার ফোটে শতবার ঝ’রে যায়;
আমি কাদি ব্রজে (বঁধু), তুমি কাঁদ মথুরায়, মাঝে অপার যমুনা বহে।।

Categories

ব’লো বঁধুয়ারে নিরজনে

(সখি) ব’লো বঁধুয়ারে নিরজনে
দেখা হ’লে রাতে ফুল-বনে।।
কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
এ বনফুল লাগি’ না আসে কাঁটা’ দলি’
আপনি যাব চলি’ বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।

Categories