আমার হৃদয় অধিক রাঙা মা গো রাঙা জবাব চেয়ে

আমার হৃদয় অধিক রাঙা মা গো রাঙা জবাব চেয়ে,
আমি সেই জবাতে ভবানী তোর চরণ দিলাম ছেয়ে॥
মোর বেদনার বেদির ‘পরে
বিগ্রহ তোর রাখবো ধ‘রে
পাষাণ দেউল সাজে না – তোর আদরিণী মেয়ে॥
স্নেহ পূজার ভোগ দেবো মা, অশ্রু-পূজাঞ্জলি,
অনুরাগের থালায় দেবো ভক্তি-কুসুম-কলি।
অনিমেষ আঁখির বাতি
রাখবো জ্বেলে দিবস রাতি,
তোর রূপ হবে মা আরও শ্যামা (আমার) অশ্রুজলে নেয়ে॥

Categories

আমার হাতে কালি মুখে কালি

আমার হাতে কালি মুখে কালি,
মা আমার কালিমাখা মুখ দেখে মা পাড়ার লোকে হাসে খালি।।
মোরলেখাপড়া হ’ল না মা,
আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা,
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে নাচি দিয়ে করতালি।।
কালো আঁক দেখে মা ধারাপাতের ধারা নামে আঁখি পাতে,
আমারবর্ণ পরিচয় হ’লো না মা তোর বর্ণ বিনা কালী।
যা লিখিস মা বনের পাতায় সাগর জলে আকাশ খাতায়,
আমি সে লেখা তো পড়তে পারি মূর্খ বলে দিক্‌ না গালি মা,
লোকে মূর্খ ব’লে দিক্‌ না গালি।।

Categories

আমার সকল আকাশ ভ’রলো তোমার তনুর কমল-গন্ধে

আমার সকল আকাশ ভ’রলো তোমার তনুর কমল-গন্ধে
আমার বন-ভবন ঘিরল মধুর কৃষ্ণ-মকরন্দে।।
এলামেলো মলয় বহে
বন্ধু এলো, এলো কহে
উজ্জ্বল হ’ল আমার ভুবন তোমার মুখ-চন্ধে।।
আমার দেহ-বীণায় বাজে তোমার চরণ-নূপুর-ছন্দ
সকল কাজে জাগে শুধু অধীর আনন্দ।
আমার বুকের সুখের মাঝে
তোমার উদাস বেণু বাজে
তোমার ছোওয়ায় আবেশ জাগে ব্যাকুল বেণীর বন্ধে।।

Categories

আমায় নহে গো – ভালবাস শুধু ভালবাস মোর গান

আমায় নহে গো – ভালবাস শুধু ভালবাস মোর গান।
বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান হ’লে অবসান।।
চাঁদেরে কে চায় – জোছনা সবাই যাচে,
গীত শেষে বীণা প’ড়ে থাকে ধূলি মাঝে;
তুমি বুঝিবে না বুঝিবে না –
আলো দিতে পোড়ে কত প্রদীপের প্রাণ।।
যে কাঁটা-লতার আঁখি-জল, হায়, ফুল হ’য়ে ওঠে ফুটে –
ফুল নিয়ে তায় দিয়েছ কি কিছু শূন্য পত্র-পুটে!
সবাই তৃষ্ণা মিটায় নদীর জলে,
কী তৃষা জাগে সে নদীর হিয়া-তলে –
বেদনার মহাসাগরের কাছে কর সন্ধান।।

Categories

আমাদের ভাল কর, হে ভগবান

আমাদের ভাল কর, হে ভগবান,
সকলের ভাল কর, হে ভগবান।।
আমাদের সব লোকে বাসিবে ভালো
আমরাও সকলেরে বাসিব ভালো,
রবে না হিংসা-দ্বেষ, দেহ ও মনের ক্লেশ
মাটির পৃথিবী হবে স্বর্গ সমান – হে ভগভান।।
জ্ঞানের আলোক দাও, হে ভগবান!
বিপুল শক্তি দাও, হে ভগবান।
তোমারি দেওয়া জ্ঞানে চিনিব তোমায়
তোমার শক্তি হবে কর্মে সহায়,
ধর্ম যদি সাথি হয়, রবেনাক দুঃখ-ভয়
বিপদে পড়িলে তুমি করো যেন ত্রাণ – হে ভগবান।।

Categories

আবার শ্রাবণ এলো ফিরে তেমনি ময়ুর ডাকে

দ্বৈত: আবার শ্রাবণ এলো ফিরে তেমনি ময়ুর ডাকে,
দোলনা কেন বাঁধলে না গো এবার কদম-শাখে।।
স্ত্রী: সঙ্গে ল’য়ে গোপ-গোপীরে
পুরুষ: ব্রজের কিশোর যাবে ফিরে
দ্বৈত: লীলা-কিশোর শ্যাম যে লীলা-সাথীর সাথে থাকে।।
দ্বৈত: দোলনা বেঁধে রইবো চেয়ে আমরা মেঘের পানে
আয় ওরে আয়, নির্জন বনকে জাগাই সেই কাজরি গানে গানে।
স্ত্রী: বৃষ্টি ধারায় টাপুর টুপুর
পুরুষ: শুনব তাহার পায়ের নূপুর
দ্বৈত: বিজলিতে তার চপল চাওয়া দেখব মেঘের ফাঁকে।।

Categories

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে।
সেই পুরাতন চাঁদ আমার চোখে আজ নূতন লাগে।।
যে ফুল দলিয়াছি নিঠুর পায়ে
সাধ যায় ধরি তারে বক্ষে জড়ায়ে,
উদাসীন হিয়া হায় রেঙে ওঠে অবেলায় সোনার গোধূলি-রাগে।।
আবার ফাগুন-সমীর কেন বহে,
আমার ভুবন ভরি’ কেঁদে ওঠে বাঁশরি অসীম বিরহে।
তপোবনের বুকে ঝর্নার সম
কে এলে সহসা হে প্রিয়তম,
মাথুরের গোকুল সহসা রাঙাইলে রাসের কুঙ্কুম-ফাগে।।

Categories

আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে

মজনুঃ আবার কেন বাতায়নে দীপ জ্বালিলে, হায়!
আমার যে প্রাণ-পতঙ্গ ওই প্রদীপ পানেই ধায়॥
লায়লীঃ আমার প্রেম যে অনল শিখা জ্বলে তিমির রাতে
পতঙ্গরে পোড়াই আমি নিজেও পুড়ি সাথে।
মজনুঃ একি ব্যথা একি নেশা
এই কি গো প্রেম গরল-মেশা!
লায়লীঃ তত আলো দান করে সে যত সে জ্বালায়॥

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘লায়লী মজনু’

Categories

আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম

আজ সকালে সূর্য ওঠা সফল হলো মম
ঘরে এলে ফিরে পরবাসী প্রিয়তম।।
আজ প্রভাতের কুসুমগুলি
সফলে হলো ডালায় তুলি’
সাজির ফুলে আজের মালা হবে অনুপম।।
এতদিনে সুখের হলো প্রভাতী শুকতারা
ললাটে মোর সিঁদুর দিলো ঊষার রঙের ধারা।
আজকে সকল কাজের মাঝে
আনন্দেরই বীনা বাজে
দেবতার বর পেয়েছি আজ তপস্বিনীর সম।।

Categories

আজ ভারতের নব আগমনী জাগিয়া উঠেছে মহাশ্মশান

আজ ভারতের নব আগমনী জাগিয়া উঠেছে মহাশ্মশান
জাগরণী গায় প্রভাতের পাখি ফুলে ফুলে হাসে গোরস্থান॥
ট’লেছে অটল হিমালয় আজি
সাগরে শঙ্খ উঠিয়াছে বাজি’
হলাহল শেষে উঠেছে অমৃত বাঁচাইতে মৃত মানব-প্রাণ॥
আঁধারে ক’রেছে হানাহানি যারা
আলোকে চিনেছে আত্মীয় তা’রা
এক হয়ে গেছে খ্রিস্টান, শিখ, হিন্দু, পারসি, মুসলমান।
এই তাপসীর চরণের তলে
লভিয়াছে জ্ঞান শিক্ষা সকলে
আবার আসিবে তারা দলে দলে করিতে পুণ্য-তীর্থ-স্নান॥

Categories