আজ নিশীথে অভিসার তোমারি পথে প্রিয়তম

আজ নিশীথে অভিসার তোমারি পথে প্রিয়তম।
বনের পারে নিরালায় দিও হে দেখা নিরুপম।।
সুদূর নদীর ধারে নিরালাতে বালুচরে
চখার তরে যথা একা চখি কেঁদে মরে
সেথা সহসা আসিও গোপন প্রিয় স্বপন সম।।
তোমারি আশায় ঘুরি শত গ্রহে শত লোকে,
(ওগো) আমারি বিরহ জাগে বিরহী চাঁদের চোখে,
আকুল পাথার নিরাশার পারায়ে এসো প্রাণে মম।।

Categories

আজ শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে মন চলে মোর ভেসে

আজ শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে মন চলে মোর ভেসে’,
রেবা নদীর বিজন তীরে মালবিকার দেশে।।
মন ভেসে যায় অলস হাওয়ায়
হালকা-পাখা মরালী-প্রায়
বিরহিনী কাদেঁ যথা একলা এলাকেশে।।
কভু মেঘের পানে কভু নদীর পানে চেয়ে,’
লুকিয়ে যথা নয়ন মোছে গায়েঁর কালো মেয়ে,
একলা বধূ বসে থাকে যথায় বাতায়নে
বাদল দিনের শেষে।।

Categories

আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি এসেছি দেয়ালি জ্বালাতে

আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি এসেছি দেয়ালি জ্বালাতে
শুধু ক্রন্দন হয়ে আসিনি এসেছি চন্দন হতে থালাতে॥
ধরায় আবার আসিয়াছি প্রিয়া
তব মুখখানি দেখিব বলিয়া
তাই প্রদীপ হইয়া নীরবে পুড়ি তোমারই বরণ ডালাতে॥
তব মিলন বাসরে ঘুম ভাঙাইতে আসিনি
তুমি কেন লাজে ওঠো আকুলি
তব রাঙা মুখখানি রাঙাইয়া যাব চলে গো
আমি সাঁঝের ক্ষণিক গোধূলি।
তব কাজল নয়ন-পল্লব ছায়ে, অশ্রুর মত রহিব লুকায়ে
ঝরিতে এসেছি ফুল হয়ে আমি তোমার বুকের মালাতে॥

Categories

তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি একলা বালুচরে

তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি একলা বালুচরে
নদীর পানে চেয়ে চেয়ে মন যে কেমন করে।।
অনেক দূরে তরী বেয়ে আসে যদি কেউ,
আমার বুকে দুলে ওঠে উজান নদীর ঢেউ;
নয়ন মুছে চেয়ে দেখি সে গিয়েছে স’রে।।
আঁচল-ঢাকা ফুলগুলিও শুকায় বুকের তলে
ঘরে ফিরি গাগরি মোর ভ’রে নয়ন জলে।
বিদেশে তো যায় অনেকে আবার ফিরে আসে,
কপাল দোষে তুমি শুধু রইলে পরবাসে;
অধীর নদী রোদন বাজে বুকের পিঞ্জরে।।

Categories

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর

তোমার আমার এই বিরহ সইব কত আর
রইবে কত আড়াল টেনে গ্রহ-তারকার।।
তৃষিত মোর হৃদয় যাচে
এসো আমার বুকের কাছে
যেমন দূরের চাঁদকে ডাকে ব্যাকুল পারাবার।।
হাত চাহে মোর ব’সো কাছে করবো সেবা তব,
নয়ন বলে নয়ন পাতায় রাখবো হে বল্লভ।
হে নাথ তোমার তীর্থ পথে
এ প্রাণ চাহে ধূলি হ’তে
ঘুচবে কবে মোদের মাঝে অসীম অন্ধকার।।

Categories

তোমার আঁখির মত আকাশের দু’টি তারা

তোমার আঁখির মত আকাশের দু’টি তারা
চেয়ে থাকে মোর পানে নিশীথে তন্দ্রাহারা
সে কি তুমি? সে কি তুমি??
ক্ষীণ আঁখি–দীপ জ্বালি’ বাতায়নে জাগি একা,
অসীম অন্ধকারে খুঁজি তব পথ রেখা;
সহসা দখিনা বায়ে চাঁপা–বনে জাগে সাড়া।
সে কি তুমি? সে কি তুমি??
বৈশাখী–ঝড়ের রাতে চমকিয়া উঠি জেগে’
বুঝি অশান্ত মম আসিলে ঝড়ের বেগে,
ঝড় চ’লে যায় কেঁদে ঢালিয়া শ্রাবণ ধারা
সে কি তুমি? সে কি তুমি??

Categories

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা
তোর গাঁয়েরি নদীর ঘাটে বাঁধলাম এ মোর না।।
তোর চরণের আলতা লেগে
পরান আমার উঠল রেঙে (রে)
ও তোর বাউরি কেশের বিনুনীতে জড়িয়ে গেল পা।
তোর বাঁকা ভুরু বাঁকা আঁখি বাঁকা চলন, সই,
দেখে পটে আঁকা ছবির মতন দাঁড়িয়ে পথে রই।
উড়ে এলি’ দেশান্তরী
তুই কি ডানা-কাটা পরী (রে)
তুই শুকতারারি সতিনী সই সন্ধ্যাতারার জা’।।

Categories

তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত

তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত।
যত চাহি তত কাঁদি, আমার মেটে না হসরত।।
কোথায় আরব কোথায় এ হিন্দ্
নয়নে মোর নাই তবু নিন্দ
প্রাণে শুধু জাগে (তোমার) মদিনার ঐ পথ।।
কে বলে তুমি গেছ চলে হাজার বছর আগে
আছ লুকিয়ে তুমি প্রিয়তম আমার অনুরাগে।
মোর অন্তরের হেরা গুহায়
আজো তোমার ডাক শোনা যায়
জাগে আমার মনের কাবা ঘরে তোমারি সুরত-
হজরত তোমারি সুরত।।
যারা দোজখ হতে ত্রাণের তরে তোমায় ভালোবাসে
আমার এ প্রেম দেখে তারা কেউ কাঁদে কেউ হাসে।
তুমি জান হে মোর স্বামী, শাফায়াৎ চাহি না আমি
আমি শুধু তোমায় চাহি তোমার মুহব্বত
হজরত তোমার মুহব্বত।।

তুমি আমায় যবে জাগাও গুণী তোমার উদার সঙ্গীতে

তুমি আমায় যবে জাগাও গুণী তোমার উদার সঙ্গীতে
মোর হাত দু’টি হয় লীলায়িত নমস্কারের ভঙ্গিতে।।
সিন্ধু জলের জোয়ার সম, ছন্দ নামে অঙ্গে মম
রূপ হলো মোর নিরুপম তোমার প্রেমের সুরের অমৃতে।।
আমার আঁখির পল্লবদল উদাস অশ্রুভারে,
ভোরের করুণ তারা মতো কাপেঁ বারেবারে।
আনন্দে ধীর বসুন্ধরা, হলো চপল নৃত্যপরা
ঝরে রঙের পাগল ঝোরা তোমার চরণ রঞ্জিতে।।

Categories

তুমি আমার সকালবেলার সুর

তুমি আমার সকালবেলার সুর
হৃদয় অলস–উদাস–করা অশ্রু ভারাতুর।।
ভোরের তারার মত তোমার সজল চাওয়ায়,
ভালোবাসার চেয়ে সে যে কান্না পাওয়ায়
রাত্রি–শেষের চাঁদ তুমি গো বিদায়–বিধুর।।
তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
শিশির–নাওয়া শুভ্র–শুচি পূজারিণীর তুল।
অরুণ তুমি, তরুণ তুমি, করুণ তারো চেয়ে
হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ–লোকের মেয়ে
তুমিইন্দ্র–সভার মৌন–বীণা নীরব নূপুর।।

Categories