জাগো দুরন্ত পথের নব যাত্রী

জাগো দুরন্ত পথের নব যাত্রী
জাগো জাগো!
ঐ পোহাল তিমির রাত্রি।।
দ্রীম দ্রীম দ্রীম রণ-ডঙ্কা
শোন বোলে নাহি শঙ্কা!
আমাদের সঙ্গে নাচে রণ-রঙ্গে
দনুজ-দলনী বরাভয়-দাত্রী।।
অসম্ভবের পথে আমাদের অভিযান
যুগে যুগে করি মোরা মানুষেরে মহীয়ান।
আমরা সৃজিয়া যাই নতুন যুগভাই
মোরা নবতম ভারত-বিধাত্রী।।
সাগরের শঙ্খ ঘন ঘন বাজে,
রণ-অঙ্গনে চল কুচকাওয়াজে।
বজ্রের আলোকে মৃত্যুর মুখে
দাঁড়াব নির্ভীক উগ্র সুখে
ভারত-রক্ষী মোরা নব শাস্ত্রী।।

Categories

জাগো জোগে গোপাল নিশি হ’ল ভোর

জাগো জোগে গোপাল নিশি হ’ল ভোর,
কাঁদে ভোরের তারা হেরি’ তোর ঘুম-ঘোর॥
দামাল ছেলে তুই জাগিস্‌নি তাই
বনে জাগেনি পাখি ঘুমে মগ্ন সবাই ,
বাতাস নিশ্বাস ফেলে খুঁজিছে বৃথাই
তোর বাঁশরি লুটায়ে কাঁদে আঙিনায় মোর॥
তুই উঠিস্‌নি ব’লে দেখ রবি ওঠেনি
ঘরে আনন্দ নাই, বনে ফুল ফোটেনি।
ধোয়াবে বলিয়া তোর মুখের কাজল
থির হ’য়ে আছে ঘাটে যমুনার জল,
অঞ্চল-ঢাকা মোর, ওরে চঞ্চল,
আমি চেয়ে আছি কবে ঘুম ভাঙিবে তোর॥

Categories

জাগো অনশন-বন্দী ওঠ রে যত

জাগো অনশন-বন্দী, ওঠ রে যত
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত!
যত অত্যাচারে আজি বজ্র হানি’
হাঁকে রিপীড়িত-জন-মন-মথিত বাণী,
নব জনম লভি’ অভিনব ধরণী ওরে ঐ আগত।।
আদি শৃঙ্খল সনাতন শাস্ত্র আচায়
মূল সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার।
ভেদি’ দৈত্য-কারা আয় সর্বহারা;
কেহ রহিবে না আর পর-পদ-আনত।।
নব ভিত্তি ‘পরে –
নব নবীন জীবন হবে উত্থিত রে!
শোন্‌ অত্যাচারী! শোন্‌ রে সঞ্চয়ী!
ছিনু সর্বহারা, হব সর্বজয়ী।
ওরে সর্বশেষের এই সংগ্রাম-মাঝ।
নিজ নিজ অধিকার জুড়ে দাঁড়া সবে আজ;
এই ‘জনগন-অন্তর-সংহতি’ রে
হবে নিখিল মানব জাতি সমুদ্ধত।।

Categories

জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপে জাগো

জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপে জাগো,
তব কনিষ্ঠা কন‍্যা ধরণী কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
বরষ বরষ কৃথা কেঁদে যাই
কৃথাই মা তোর আগমনী গাই
সেই কবে মা আসিলি ত্রেতায় আর আসিলি না গো।।
কোটী নয়নের নীল পদ্ম মা ছিঁড়িয়া দিলাম চরণে তোর,
জাগিলিনে তুই, এলিনে ধরায় মা কবে হয় হেন কঠোর।
দশ ভুজে দশ গ্রহরণ ধরি’
আয় মা দশ দিক আলো করি’
দশ হাতে আন্‌ কল‍্যাণ ভরি’ নিশীথ-শেষে ঊষা গো।।

Categories

জাগো জাগো শঙ্খ চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী

জাগো জাগো শঙ্খ চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী
জাগো শ্রীকৃষ্ণ-তিথির তিমির অপসারি’।।
ডাকে বসুদেব দেবকী ডাকে
ঘরে ঘরে, নারায়ণ, তোমাকে।
ডাকে বলরাম শ্রীদাম সুদাম ডাকিছে যমুনা-বারি।।
হরি হে, তোমায় সজল নেত্রে
ডাকে পাণ্ডব কুরুক্ষেত্রে!
দুঃশাসন সভায় দ্রৌপদী ডাকিছে লজ্জাহারী।।
মহাভারতের হে মহাদেবতা
জাগো জাগো, আনো আলোক-বারতা!
ডাকিছে গীতার শ্লোক অনাগতা বিশ্বের নর-নারী।।

Categories

জাগো অমৃত-পিয়াসি চিত

জাগো অমৃত-পিয়াসি চিত
আত্মা অনিরুদ্ধ
কল্যাণ প্রবুদ্ধ।
জাগো শুভ্র জ্ঞান পরম
নব প্রভাত পুষ্প সম
আলোক-স্নান-শুদ্ধ।।
সকল পাপ কলুষ তাপ দুঃখ গ্লানি ভোলো
পুণ্য প্রাণ-দীপ-শিখা স্বর্গ পানে তোলো।
বাহিরে আলো ডাকিছে জাগো তিমির কারারুদ্ধ।।
ফুলের সম আলোর সম
ফুটিয়া ওঠ হৃদয় মম
রূপ রস গন্ধে অনায়াস আনন্দে জাগো মায়া-বিমুগ্ধ।।

Categories

জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি

পুরুষঃ জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি
তব হাসি-কান্না চোখের দৃষ্টি
তারও চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি॥
স্ত্রীঃ কান্না-মেশানো পান্না নেবো না, বঁধু।
এই পথেরই ধূলায় আমার মনের মধু
করে হীরা মানিক সৃষ্টি মিষ্টি আরো মিষ্টি॥
পুরুষঃ সোনার ফুলদানি কাঁদে লয়ে শূন্য হিয়া
এসো মধু-মঞ্জরি মোর! এসো প্রিয়া, প্রিয়া!
স্ত্রীঃ কেন ডাকে বউ কথা কও, বউ কথা কও,
আমি পথের ভিখারিনী গো, নহি ঘরের বউ।
কেন রাজার দুলাল মাগে মাটির মউ।
বুকে আনে ঝড়, চোখে বৃষ্টি তার সকরুণ দৃষ্টি তবু মিষ্টি॥

সিনেমাঃ চৌরঙ্গী

Categories

জরীন হরফে লেখা

জরীন হরফে লেখা
রূপালি হরফে লেখা
(নীল)আসমানের কোরআন।
সেথা তারায় তারায় খোদার কালাম
(তোরা) পড়, রে মুসলমান
নীল আসমানের কোরআন।।
সেথা ঈদের চাঁদে লেখা
মোহাম্মদের ‘মীম’-এর রেখা,
সুরুযেরই বাতি জ্বেলে’ পড়ে রেজোয়ান।।
খোদার আরশ লুকিয়ে আছে ঐ কোরআনের মাঝে,
খোঁজে ফকির-দরবেশ সেই আরশ সকাল-সাঁঝে।
খোদার দিদার চাস রে, যদি
পড় এ কোরআন নিরবধি;
খোদার নুরের রওশনীতে রাঙ রে দেহ-প্রাণ।।

Categories

জনম জনম গেল আশা–পথ চাহি

জনম জনম গেল আশা–পথ চাহি’।
মরু–মুসাফির চলি, পার নাহি নাহি।।
বরষ পরে বরষ আসে যায় ফিরে,
পিপাসা মিটায়ে চলি নয়নের নীরে।
জ্বালিয়া আলেয়া–শিখা, নিরাশার মরীচিকা
ডাকে মরু–কাননিকা শত গীত গাহি’।।
এ মরু ছিল গো কবে সাগরের বারি
স্বপন হেরি গো তারি আজো মরুচারী।
সেই সে সাগর–তলে, যে তরী ডুবিল জলে
সে তরী–সাথীরে খুঁজি মরু–পথ বাহি’।।

Categories

জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস্ মা, শ্যামা কি তুই জেলের মেয়ে

জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস্ মা, শ্যামা কি তুই জেলের মেয়ে।
(তোর) মায়ার জালে মহামায়া, বিশ্বভুবন আছে ছেয়ে॥
প’ড়ে মা তোর মায়ার ফাঁদে
কোটি নরনারী কাঁদে;
তোর মায়াজাল ততই বাঁধে পালাতে চায় যত ধেয়ে॥
চতুর যে-মীন সে জানে মা জাল থেকে যে মুক্তি আছে;
(তাই) জেলে যখন জাল ফেলে মা সে লুকায় জেলের পায়ের কাছে।
জাল এড়িয়ে তাই সে বাঁচে।
তাই মা আমি নিলাম শরণ
তোর ও দুটি রাঙা চরণ,
এড়িয়ে গেলাম মায়ার বাঁধন মা তোর অভয়-চরণ পেয়ে॥

Categories
error: