জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস্ মা, শ্যামা কি তুই জেলের মেয়ে

জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস্ মা, শ্যামা কি তুই জেলের মেয়ে।
(তোর) মায়ার জালে মহামায়া, বিশ্বভুবন আছে ছেয়ে॥
প’ড়ে মা তোর মায়ার ফাঁদে
কোটি নরনারী কাঁদে;
তোর মায়াজাল ততই বাঁধে পালাতে চায় যত ধেয়ে॥
চতুর যে-মীন সে জানে মা জাল থেকে যে মুক্তি আছে;
(তাই) জেলে যখন জাল ফেলে মা সে লুকায় জেলের পায়ের কাছে।
জাল এড়িয়ে তাই সে বাঁচে।
তাই মা আমি নিলাম শরণ
তোর ও দুটি রাঙা চরণ,
এড়িয়ে গেলাম মায়ার বাঁধন মা তোর অভয়-চরণ পেয়ে॥

Categories

জগতের নাথ কর পার হে

জগতের নাথ কর পার হে
মায়া-তরঙ্গে টলমল তরণী অকুল ভব পারাবার হে।।
নাহি কাণ্ডারি ভাঙা মোর তরী আশা নাই কুলে উঠিবার
আমি গুণহীন ব’লে করো যদি হেলা শরণ লইব তবে কার।।
সঙসারেরি এই ঘোর পাথারে ছিল যারা প্রিয় সাথি
একে একে তারা ছাড়িয়া গেল হায় ঘনাইল যেই দুখ-রাতি।
ধ্রুবতারা হয়ে তুমি জ্বালো
অসীম আঁধারে প্রভু আশারই আলো
তোমার করুণা বিনা হে দীনবন্ধু, পারের আশা নাহি আর।।

Categories

জগজন মোহন সঙ্কটহারী

জগজন মোহন সঙ্কটহারী
কৃষ্ণমুরারী শ্রীকৃষ্ণমুরারী।
রাম রচাও ত শ্যামবিহারী
পরম যোগী প্রভু ভবভয়-হারী।।
গোপী-জন-রঞ্জন-ব্রজ-ভয়হারী,
পুরুষোত্তম প্রভু গোলক-চারী
ত্রিভুবন-পালক ভক্ত-ভিখারি,
রাধাকান্ত হরি শিখি-পাখাধারী –
কমলাপতি জয় গোপী-মনহারী।।

Categories

ছড়ায়ে বৃষ্টির বেলফুল, দুলায়ে মেঘলা চাঁচর চুল

ছড়ায়ে বৃষ্টির বেলফুল, দুলায়ে মেঘলা চাঁচর চুল
চপল চোখে কাজল মেঘে আসিল কে।।
বাজায়ে মেঘর মাদল
ভাঙালে ঘুম ছিটিয়ে জল,
একা-ঘরে বিজলিতে এমন হাসি হাসিল কে।।
এলে কি দুরন্ত মোর ঝোড়ো হাওয়া,
চির-নিঠুর প্রিয় মধুর পথ-চাওয়া।
হৃদয়ে মোর দোলা লাগে
ঝুলনেরই আবেশ জাগে,
ফেলে-যাওয়া বাসি মালায় – আবার ভালোবাসিল কে।।

Categories

ছেড়ে দাও মোরে আর হাত ধরিও না

ছেড়ে দাও মোরে আর হাত ধরিও না
প্রেম যারে দিতে পারিলে না, তারে আর কৃপা করিও না।।
আমি করুনা চাহিনি কভু কারো কাছে
বহু লোক পারে, তব কৃপা যারা যাচে
যারে হৃদয়ে দিলে না ঠাঁই তার তরে কাদিঁও আখিঁজল ঝুরিও না।।
ভুল করেছিনু যেথা শুধু বিষ অসুন্দরের ভিড়,
সেই পৃথিবীতে কেঁদেছি খুজিঁয়া প্রেম-যমুনার তীর।
যার তরণী ভাসিল বিরহের পারাবারে
পিছু ডেকে আর ফিরাতে চেয়ো না তারে
আমারে পাষাণ-বিগ্রহ ক’রে আর মালা পরিও না।।

Categories

ছি ছি ছি কিশোর হরি, হেরিয়া লাজে মরি

ছি ছি ছি কিশোর হরি, হেরিয়া লাজে মরি
সেজেছ এ কোন রাজ সাজে
যেন সঙ্ সেজেছ, হরি হে যেন সঙ্‌ সেজেছ –
ফাগ মুছে তুমি পাপ বেঁধেছ হরি হে যেন সঙ্ সেজেছ;
সংসারে তুমি সঙ্ সাজায়ে নিজেই এবার সঙ্ সেজেছ।
বামে শোভিত তব মধুরা গোপিনী নব
সেথা মথুরার কুবুজা বিরাজে।
মিলেছে ভাল, বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল,
ত্রিভঙ্গ অঙ্গে কুবুজা সঙ্গে বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল।
হরি ভাল লাগিল না বুঝি হৃদয়-আসন
তাই সিংহাসনে তব মজিয়াছে মন
প্রেম ব্রজধাম ছেড়ে নেমে এলে কামরূপ
হরি, এতদিনে বুঝিলাম তোমার স্বরূপ
তব স্বরূপ বুঝি না হে
গোপাল রূপ ফেলে ভূপাল রূপ নিলে স্বরূপ বুঝি না হে।
হরি মোহন মুরলী কে হরি’ নিল
কুসুম কোমল হাতে এমন নিঠুর রাজদন্ড দিল
মোহন মুরলী কে হরি।
দন্ড দিল কে, রাধারে কাঁদালে বলে দন্ড দিল কে
দন্ডবৎ করি শুধাই শ্রীহরি দন্ড দিল কে
রাঙা চরণ মুড়েছে কে সোনার জরিতে
খুলে রেখে মধুর নূপুর, হরি হে খুলে রেখে মধুর নূপুর।
হেথা সবাই কি কালা গো ?
কারুর কি কান নাই নূপুর কি শোনে নাই, সবাই কাল গো
কালায় পেয়ে হল হেথায় সবাই কি কালা গো।
তব এ রূপ দেখিতে নারি, হরি আমি ব্রজনারী,
ফিরে চল তব মধুপুর
সেথা সকলি যে মধুময়, অন্তরে মধু বাহিরে মধু
সেথা সকলি যে মধুময় – ফিরে চল হরি মধুপুর।

Categories

ছাড়িতে পরান নাহি চায় তবু যেতে হবে হায়

ছাড়িতে পরান নাহি চায় তবু যেতে হবে হায়
মলয়া মিনতি করে তবু কুসুম শুকায়॥
রবে না এ মধুরাতি
জানি তবু মালা গাঁথি
মালা চলিতে দলিয়া যাবে তবু চরণে জড়ায়॥
যে কাঁটার জ্বালা সয়ে
উঠে ব্যথা ফুল হয়ে
আমি কাঁদিব সে-কাঁটা লয়ে নিশীথ বেলায়॥
নীরবে রবে যবে পরবাসে
আমি দূর নীল আকাশে
জাগিব তোমারি আশে নূতন তারায়॥

Categories

ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না

ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না
যাবে যাও, নয়নে জল নিয়ে যেয়ো না।।
থাকে ব্যথা থাক বুকে, যাও তুমি হাসি মুখে
আমার চাঁদিনী রাত ঘন মেঘে ছেয়ো না।।
রঙিন পিয়ালাতে মম লোনা অশ্রু-জল ঢালি’
পানসে ক’রো না নেশা, জীবন ভরা ব্যথা খালি।
ভুলিতে চাহি যে ব্যথা, মনে এনো না সে কথা,
করুণ সুরে আর বিদায়-গীতি গেয়ো না।।

Categories

ছন্দের বন্য হরিণী অরণ্যা

ছন্দের বন্য হরিণী অরণ্যা
চলে গিরি-কন্যা চঞ্চল ঝর্ণা
নন্দন-পথ-ভোলা চন্দন-বর্ণা।।
গাহে গান ছায়ানটে, পর্বতে শিলাতটে
লুটায়ে পড়ে তীরে শ্যামল ওড়না।।
ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ধীরি ধীরি বাজে
তরঙ্গ-নূপুর বন-পথ মাঝে।
এঁকেবেকে নেচে যায় সর্পিল ভঙ্গে
কুরঙ্গ সঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
গুরু গুরু বাজে তাল মেঘ-মৃদঙ্গে
তরলিত জোছনা-বালিকা অপর্ণা।।

Categories

চাঁপার কলির তুলিকায়

চাঁপার কলির তুলিকায়, কাজল লেখায় শ্রীমতী শ্রীহরির ছবি আঁকে।
রাই ছবি আঁকে পটে গো, যারে হেরে নিতি গোঠে যেতে
যমুনার তটে গো, সে বংশী বাজায়ে মঞ্জির পায়ে
নাচে ছায়া বটে গো, রাই ছবি আঁকে পটে গো।
আঁকিয়া শ‍্যামের মূরতি আঁকিল না রাধা শ্রীচরণ ,
রাধা চরণ আঁকে না, তুলি তুলিয়া রাখে চরণ আঁকে না।
তখন ললিতা বলে- ‘রাধা! রাধা! রাধা!
তুই আঁকলি না কেন চরণ রাধা!’
‘জীবন মরণ যে চরণে বাঁধা, আঁকলি না কেন চরণ রাধা-
বিশ্বের ত্রাণ বৃন্দাবনের ধ‍্যানজ্ঞান ব্রজগোপী সাধা’-
‘আঁকলি না কেন চরণ রাধা’-!
তখন রাধা কেঁদে বলে- ‘ওগো ললিতা-
সখি আঁকিলে চরণ যাবে সে পালায়ে আমি হব পদদলিতা।
পলায়ে যাবে গো মথুরায়, আবার পালায়ে যাবে গো-
চির চপল সে মথুরায় আবার পালায়ে যাবে গো-
থাক লুকানো হৃদয়ে শ্রীচরণ।’

Categories