ওরে কে বলে আরবে নদী নাই

ওরে কে বলে আরবে নদী নাই
যথা রহমতের ঢল বহে অবিরল
দেখি প্রেমে-দরিয়ার পানি,যেদিকে চাই।।
যাঁর ক্বাবা ঘরের পাশে আব-এ-জমজম
যথা আল্লা-নামের বাদল ঝরে হরদম,
যথা ঝরে হরদম-
যার জোয়ার এসে দুনিয়ার দেশে দেশে
(ওরে) পুণ্যের গুলিস্তান রচিল দেখিতে পাই।।
যার ফোরাতের পানি আজো ধরার ‘‘পরে
নিখিল নর-নারীর চোখে ঝরে
(ওরে) শুকায় না যে নদী দুনিয়ায়,
যার শক্তি বন্যার তরঙ্গ-বেগে
যত বিষণ্ন-প্রাণ ওরে আনন্দে উঠল জেগে
যাঁর প্রেম-নদীতে,যাঁর পুণ্য-তরীতে
মোরা ত’রে যাই।।

Categories

ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ

ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ
তোমার হেরে হৃদয় সাগর আনন্দে উন্মাদ।।
তোমার রাঙা তশতরিতে ফিরদৌসের পরী
খুশির শিরনি বিলায় রে ভাই নিখিল ভুবন ভরি
খোদার রহম পড়ছে তোমার চাঁদনি রূপে ঝরি।
দুখ ও শোক সব ভুলিয়ে দিতে তুমি মায়ার ফাঁদ।।
তুমি আসমানে কালাম
ইশারাতে লেখা যেন মোহাম্মাদের নাম।
খোদার আদেশ তুমি জান স্মরণ করাও এসে
যাকাত দিতে দৌলত সব দরিদ্রেরে হেসে
শত্রুরে আজি ধরিতে বুকে শেখাও ভালবেসে।
তোমায় দেখে টুটে গেছে অসীম প্রেমের বাঁধ।।

Categories

ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে

ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে।
যেথা সকল জাতির সকল মানুষ নির্ভয়ে মা’র চরণ ছোবে।
(সেথা) এবার মায়ের পূজা হবে॥
সেথা নাই মন্দির নাই পূজারি নাই শাস্ত্র নাইরে দ্বারী,
সেথা মা বলে যে ডাকবে এসে মা তাহারেই কোলে লবে॥
মা সিংহ-আসন হ’তে নেমে বসেছে দেখ্ ধূলির তলে
মার মঙ্গল ঘট পূর্ণ হবে সবার ছোঁওয়া তীর্থ জলে।
মোরা জননীকে দেখিনি, তাই ভাইকে আঘাত হেনেছে ভাই,
আজ মাকে দেখে বুঝবি মোরা এক মা’র সন্তান সবে।
এবার ত্রিলোক জুড়ে পড়বে সাড়া মাতৃ মন্ত্র মাভৈঃ রবে॥

Categories

ওরে আমার চটি

ওরে আমার চটি
আমার ঠনঠনিয়ার চটি
যাত্রা শুনতে কাহার সাথে গেলি তুই পালটি।।
মোর শ্রীচরণ ভরসা গেলি কাহার পায়ে গ’লে
তুই দু’বছর পায়ে ছিলি তোরে জানতাম সতী ব’লে
তুই কাহার গোদা চরণ দেখে গেলি শেষে পটি’।
তোরে নিয়ে গেছেন যিনি তার চটিখানি ফেলে
এ চটি তো নয় রামচটিতং আছেন বদন মেলে’
সদা আছেন বদন মেলে’,
যেন অষ্টাবক্র বেঁকে হয়ে গিয়েছেন ঠিক আঁশবঁটি
বেঁকে হয়েছেন আঁশবঁটি।।
চটি কেন তোরে রাখিনিকো বগল-দাবা ক’রে
বুঝি এতক্ষণ সে ফাটিয়ে তোরে ফেলেছে পা’ ভ’রে
শেষে আস্তাকুড়েঁ দেছে ফেলে সে যে হয়তো চটিমটি’।।
আমি ভাবি, এ তার পায়ের জুতো না তার গায়ের নিমা
আমারচটির পাশে ইনি ঠিক যেন দিদি মা
ওরে চটি রে তোর দিদি হলেও চলতো মোটামুটি
তুই চটপটিয়ে আয় চ’লে নয় সত্যি যা’ব চটি’।।

Categories

ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের

ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের
বাঁশি বাজলো, বাজলো বাঁশি
ফেলে তরুর ছায়া ভুলে ঘরের মায়া
এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥
তারা আকাশকে আজ চাহে লুটে নিতে
তারা মন্থর ধরায় চাহে দুলিয়ে দিতে
তারা তরুণ তরুণ প্রাণ জাগায় মৃতে
সাহস জাগায় চিতে তাদের অট্টহাসি॥
মোরা প্রাচীরের পরে রে প্রাচীর তুলে
ভাই হয়ে ভাইকে হায় ছিলাম ভুলে।
আজ ভেঙে প্রাচীর হল ঘরের বাহির
একই অঙ্গনে দাঁড়ালো উন্নত শির
এলো মুক্ত গগন তলে প্রাণ পিয়াসি
এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥

Categories

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে –
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।

Categories

ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো

(মা) ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো
আমি কেন অন্ধ মাগো দেখি শুধু কালো॥
মা সর্বলোকে শক্তি ফিরিস নাচি
ওমা আমি কেন পঙ্গু হয়ে আছি
ওমা ছেলে কেন মন্দ হল জননী যার ভালো॥
তুই নিত্য মহা প্রসাদ বিলাস কৃপার দুয়ার খুলি
চির শুন্য রইল কেন আমার ভিক্ষা ঝুলি।
বিন্দু বারি পেলাম না মা সিন্ধুজলে রয়ে
মা ও তোর চোখের কাছে পড়ে আছি চোখের বালি হয়ে
মোর জীবন্মৃত এই দেহে মা চিতার আগুন জ্বালো॥

Categories

ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস আমি তাই হয়েছি লক্ষ্মীছাড়া

(মা) ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস আমি তাই হয়েছি লক্ষ্মীছাড়া
ও তোর কৃপা বিনা শক্তিময়ী শুকিয়ে গেল ভক্তিচারা॥
ওমা তুই আশ্রয় দিলি না তাই, আমি যা পাই তা পথে হারাই
তোর রসময় ভুবন আমার শ্মশান হল ওমা তারা।
আজ আনন্দ যমুনা ফেলে এসেছি তাই যমের দ্বারে
ওমা জীবনে যা পেলাম না তা মরণ যদি দিতে পারে।
মাগো ওমা তত বাড়ে বুকের জ্বালা, পাই যত যশ খ্যাতির মালা
রাজপ্রসাদে শুয়ে মাগো শান্তি কি পায় মাতৃহারা॥

Categories

ওগো মাগো আজো, বেঁচে আছি, তোরই প্রসাদ পেয়ে

ওগো মাগো আজো, বেঁচে আছি, তোরই প্রসাদ পেয়ে।
তোর দয়াময়ী অন্নপূর্ণা, তোরই অন্ন খেয়ে॥
কবে কখন খেলার ছলে,
ডেকেছিলাম শ্যামা ব’লে;
সেই পুণ্যে ধন্য আমি, আজ তোরই নাম গেয়ে॥
পাপী হয়েও পাই আমি তাই, যখন যাহা চাই।
দুঃখে শোকে বিপদ ঝড়ে,
বাঁচাস্ মা তুই বক্ষে ধ’রে;
দয়াময়ী নাই কেহ মা, ভবানী তোর চেয়ে॥

Categories

ওগো মা – ফাতেমা ছুটে আয়

ওগো মা – ফাতেমা ছুটে আয়, তোর দুলালের বুকে হানে ছুরি।
দীনের শেষে বাতি নিভিয়া যায় মাগো, বুঝি আঁধার হ’ল মদিনা-পুরী ॥
কোথায় শেরে খোদা, জুলফিকার কোথা,
কবর ফেঁড়ে এসো কারবালা যথা –
তোমার আওলাদ বিরান হ’ল আজি, নিখিল শোকে মরে ঝুরি’ ॥
কোথায় আখেরী নবী, চুমা খেতে তুমি, যে গলে হোসেনের
সহিছ কেমনে? সে গলে দুশমন হানিছে শমসের।
রোজ্‌হাশরে নাকি কওসরের পানি
পিয়াবে তোমরা গো গোনাহ্‌গারে আনি,
দেখ না কি চেয়ে, দুধের ছেলেমেয়ে পানি বিহনে মরে পুড়ি ॥

Categories