ও কালো ডাগর চোখে বল জল আনিল কে

ও কালো ডাগর চোখে বল জল আনিল কে।
কে গো সেই নিঠুর হিয়া না জানি কিসের ঝোঁকে।।
দু আঁখি ছাপিয়ে গেল তিতিল
কপোলখানি উজল নীলাকাশে সহসা ঢাকিল কে।।
পড়েছে ঘোমটা খসে খোঁপাটি গেছে খুলে
ঢেকেছে মুখখানি তার পাগল এলো চুলে।
না জানি কাহার কথা ব্যথিত ভাবছে মনে
সে জনা দেখিল না এ ছবি এমন ক্ষণে
স্বরগে হয়তো মেলে, মেলে না মর্তলোকে।।

Categories

ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ

ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।
গেলেন মদিনা যবে হিজরতে হজরত
মদিনা হলো যেন খুশিতে জিন্নত,
ছুটিয়া আসিল পথে মদ ও আওরত
লুটায়ে পায়ে নবীর, গাহে সব উম্মত
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
হাজার সে কাফের সেনা বদরে,
তিন শত তের মমিন এধারে;
হজরতে দেখিল যেই, কাঁপিয়া ডরে
কহিল কাফের সব তাজিমের স্বরে
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
কাঁদিয়া কেয়ামতে গুনাহগার সব,
নবীর কাছে শাফায়তী করিবেন তলব,
আসিবেন কাঁদন শুনি সেই শাহে আরব
অমনি উঠিবে সেথা খুশির কলরব
ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।

Categories

ঐজল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি

ঐজল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি।
রূপচাপে না তার নীল শাড়ি।।
এমন মিঠি বিজলি দিঠি শেখালে তায় কে গো?
রূপেডুবু ডুবু রবির রঙ–ভরা ছবির, ছোঁয়াচ লেগেছে গো।
মন মানে না, আর কি করি! চলে পিছনে ছুটে’ তারি।।
নাচেবুলবুলি ফিঙেঢেউয়ে নাচে ডিঙে মাঠে নাচে খঞ্জন;
তারদু’টি আঁখি–তারানেচে হতো সারা – দেখেছে বল কোন জন?
আঁখিনিল যে মোর মন্‌ কাড়ি’– ঘরে থাকিতে আর নারি লো।।
গোলাপ বেলী যুঁই–চামেলি – কোন্‌ ফুল তারি তুল্‌ গো
তারযৌবন–নদী বয় নিরবধি ভাসায়ে দু’ কূল গো
নিলভাসায়ে প্রাণ আমির রূপে দু’কূল–ছাপা গাঙ্‌ তারি।।

Categories

ঐ ঘর ভুলানো সুরে কে গান গেয়ে যায় দূরে

ঐ ঘর ভুলানো সুরে কে গান গেয়ে যায় দূরে।
তার সুরের সাথে সাথে মোর মন যেতে চায় উড়ে।।
তা’র সহজ গলার তানে১ সে ফুল ফোটাতে জানে,
তা’র সুরে ভাটির–টানে নব জোয়ার আসে ঘুরে।।
তা’র সুরের অনুরাগে বুকে প্রণয়–বেদন জাগে;
বনে ফুলের আগুন লাগে, ফুল সুধায় ওঠে পুরে।।
বুঝি সুর–সোহাগে ওরি, পায় যৌবন কিশোরী,
হিয়া বুঁদ হয়ে গো নেশায় তার পায়ে পায়ে ঘুরে।।

Categories

ঐ, ঐ, ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী

ঐ, ঐ, ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী।
মহাবীর ভীষ্ম গেছে, দ্রোণ গেছে জানি।
কর্ণে বধিতে হবে, কুরুক্ষেত্র রণে।
তারপর বধিব মোরা নীচ দুযোর্ধনে।।

লেটো গান: ‘কর্ণ বধ’

Categories

ঐ অভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজা উড়্‌লে আকাশ-পথে

ঐ অভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজা উড়্‌লে আকাশ-পথে।
মাগো, তোমার রথ আনা ঐ রক্ত-সেনার রথে।।
ললাট-ভরা জয়ের টীকা অঙ্গে নাচে অগ্নি-শিখা,
রক্তে জ্বলে বহ্নি-লিখা,
মা! ঐ বাজে তোর বিজয়-ভেরি,
নাই দেরি আর নাই মা দেরি, মুক্ত তোমার হ’তে।।
আনো তোমার বরণ-ডালা, আনো তোমার শঙ্খ, নারী!
ঐ দ্বারে মা’র মুক্তি-সেনা, বিজয়-বাজা উঠ্‌ছে তারি। ওরে ভীরু!
ওরে মরা! মরার ভয়ে যাস্‌নি তোরা;
তোদেরও আজ ডাক্‌ছি মোরা – ভাই!
ঐ খোলে রে মুক্তি-তোরণ,
আজ একাকার জীবন-মরণ মুক্ত এ ভারতে।।

Categories

এসো প্রাণে গিরিধারী বন-চারী

এসো প্রাণে গিরিধারী বন-চারী
গোপীজন-মনোহরী।
চঞ্চল গোকুল-বিহারী।।
লহ নব প্রীতির কদম-মালা
নয়নে আরতি-প্রদীপ জ্বালা
অঞ্জলি লহ আঁখি-বারি।।
প্রণয়-বিহ্বলা প্রাণ-রাধিকা
পরেছে তব নাম কলঙ্ক-টিকা।
অথির অনুরাগ গোপ-বালিকা
চাহে পথ তোমারি।।

Categories

এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন

এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন,
ধেনু দেব বেণু দেব মালা চন্দন॥
কেঁদে কেঁদে কয়লা খাদে যমুনা বহাব;
পলাশ বনে জাগরণে নিশি পোহাব
রাধা হয়ে বাঁধা দেব আমর প্রাণ মন॥
মোর নটকান রঙ শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে,
পীত ধড়া পরাব, নীল অঙ্গ ঘিরে।
পিয়াল ডালে দোলনা বেঁধে দুলিব দুজন॥
ভাসুর-শ্বশুর দ্যাখে যদি করব নাকো লাজ
বলব আমার শ্যামের বাঁশি বাজ রে আবার বাজ
শ্যাম তোমার লাগি জাতি কুল দিব বিসর্জন।।

Categories

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়েকেতকী পাতার তরণী
এসো বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে রাহি’ছায়াপথ-সরণি।
শ্যাম শদ্যে কুসুমে হাসিয়া এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরনীরে ভালোবাসিয়া দুর নন্দন-তীর হতে।।

Categories

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া

এসো নূপুর বাজাইয়া যমুনা নাচাইয়া
কৃষ্ণ কানাইয়া হরি।
মাখি’গোখুর ধূলিরেণু গোঠে চরাইয়া ধেনু
বাজায়ে বাঁশের বাঁশরি।।
গোপী চন্দন চর্চিত অঙ্গে
প্রাণ মাতাইয়া প্রেম তরঙ্গে
বামে হেলায়ে ময়ুর পাখা দুলায়ে তমাল শাখা
দীপবনে, দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গে।
এসো লয়ে সেই শ্যাম-শোভা ব্রজ বধু মনোলোভা
সেই পীত বসন পরি’।।
এসো গগনে ফেলি নীল ছায়া
আনো পিপাসিত চোখে মেঘ মায়া।
এসো মাধব মাধবী তলে
এসো বনমালী বন-মালা গলে
এসো ভক্তিতে প্রেমে আঁখি জলে
এসো তিলক লাঞ্ছিত সুর নর বাঞ্ছিত
বামে লয়ে রাই কিশোরী।।

Categories