ডাকতে তোমায় পারি যদি আড়াল থাকতে পারবে না

ডাকতে তোমায় পারি যদি আড়াল থাকতে পারবে না
এখন আমি ডাকি তোমায় তখন তুমি ছাড়বে না।।
যদি দেখা না পাই কভু-
সে দোষ তোমার নহে প্রভু
সে সাধনায় আমারি হার জানি তুমি ছাড়বে না।।
বহু লোকের চিন্তাতে মোর বহু দিকে মন যে ধায়,
জানি জানি, অভিমানী পাইনে আজ তাই তোমায়।
বিশ্ব, ভুবন ভুলে যেদিন
তোমার ধ্যানে হব বিলীন,
সেদিন আমার বক্ষ হতে চরণ তোমার কাড়বে না।।

Categories

টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব বচন যুদ্ধ ঘোর

টিকি আর টুপিতে লেগেছে দ্বন্দ্ব বচন যুদ্ধ ঘোর
কে বড় কে ছোট চাই মীমাংসা, কার আছে কর-জোর॥
টিকি বলে শিরে আমি বিরাজিলে হয় আহা কিবা শোভা।
যেন প্রকান্ড কুষ্মান্ডের বৃন্তটি মনোলোভা।
এ যে চতুর্বর্গ ফলেরি বোঁটা।
শুনে টুপি ফিক্ ক’রে হেসে বল্লেঃ ‘ভায়া, শিরে বিরাজ করবার
শোভার কথা যদি বল তো ও বড়াই আমারি মুখে মানায়,
ও বড়াই আমার মুখে মানায়।’
আমি বাঁকা হয়ে যবে শিরে বসি, দেখে বিবিরা মূর্ছা যায়॥
টিকি বলে, মোরে বলে চৈতন্ কভু বা আর্কফলা
আর আমারি প্রসাদে প্রণামীটা মেলে দুটি বেলা চাল-কলা॥
(মেলে দাদা) দুটি বেলা চাল-কলা॥
[শুনে বাদশাহী চালে টুপি বল্লেঃ ‘আরে তোবা তোবা
চাল আর কলা? ওসব আবার খাদ্য নাকি হে? এ্যাঁ?]
বাদশাহী চালে টুপি বলে ওসব খাদ্য নাকি?
দেখো, আমারি দোয়ায়, আহা তোফা জুটে যায়, গোস্ত ও রামপাখি।
টিকি বলে মিয়া, আমার কৃপায় স্বর্গে free pass মেলে
(আর) আমারঃ through দিয়ে মগজে বুদ্ধি electricity খেলে
মিয়া আমার কৃপায় স্বর্গে free pass মেলে।
এ যে পারে যাবার টিকিট – শুধু টিকিট নয়।
[শুনে টুপি রেগে কাঁই, বল্লেঃ]
বেহেশ্‌তে মোর একচেটে অধিকার
কাফেরের তরে no admission খোদার ইস্তাহার।
(এই রূপে) ক্রমশঃ তর্ক বাড়িল ভীষণ বচনে বেজায় দড়,
এ উহারে কয় মোর ঠাঁই উঁচু তুমি বাপু স’রে পড়॥
সহসা মুন্ড ছিন্ন হইল শক্র কৃপাণ ঘায়।
টুপি আর টিকি একই সঙ্গে ভূঁয়ে গড়াগড়ি যায়॥

Categories

টারালা টারালা টারালা টা টারালা টারালোল্লা

টারালা টারালা টারালা টা টারালা টারালোল্লা
নাচে শুটকী শুকনো সাহেবকে ধ’রে মুটকি মিস আরসোল্লা।
হা-হা- হা-হা- হা ।।
খুরওয়ালা জুতা পরে খটখট ঠেংরী নাড়ে
চাবুক খেয়ে জোড়া ঘোড়ায় যেন পেছলি ঝাড়ে!
দেখে পাদ্রি, পুরুত, মোল্লা বাবাজী কাছা খোল্লা।
আর বাবাজী কাছা খোল্লা।।
দেখে আণ্ডাওয়ালা ভাবে বুঝি খেল ডাণ্ডাগুলি
হা গণ্ডার মার্কা ষণ্ডা বিবি খেল ডাণ্ডাগুলি
হা ভাব-আবেশের নয়ন তাহার হলো নয়ান ঝুলি;
নেকু বাবুর ঢেকুর ওঠে পেটে মেকুর আচড়ায়!
কাল্লু ভাবে মেম পালোয়ান সাহেবকে বুঝি পাছড়ায় । ( হায় হায় হায়)
যতো কাবলিওয়ালা মাউড়া সব হো গিয়া ভাই বাউড়া
মোষের গাড়োয়ান প্রেম-রসে হলো রসগোল্লা।।

Categories

টলমল্ টলমল্ টলে সরসী

টলমল্ টলমল্ টলে সরসী
জল নিতে এলে কি গো ষোড়শী।।
হেরিয়া তোমার রাঙা পদতল
ফুটিল প্রেমের কুমুদ কমল
খেলিছে চঞ্চল তরঙ্গ-দল ল’য়ে তব কলসি।।
হেরি’ তোমার নীলাম্বরী কাজল-আঁখি
হলো কাজ্‌লা দীঘির জল সুনীল না-কি!
হাতে শাপলা মৃণাল দিয়ে বাঁধে রাখি
নাচে লীলায়িত ঢেউ তব তনু পরশি’।।

Categories

টলমল টলমল পদভরে

টলমল টলমল পদভরে
বীরদল চলে সমরে॥
খরধার তরবার কটিতে দোলে
রণন ঝনন রণ-ডঙ্কা বোলে
ঘন তূর্য-রোলে শোক-মৃত্যু ভোলে
দেয় আশিস সূর্য সহস্র করে॥
চলে শ্রান্ত দূর-পথে মরু দুর্গম পর্বতে
চলে বন্ধুবিহীন একা, মোছে রক্তে ললাট-কলঙ্ক-লেখা।
কাঁপে মন্দিরে ভৈরবী – এ কি বলিদান!
জাগে নিঃশঙ্ক শঙ্কর ত্যজিয়া শ্মশান!
দোলে ঈশান মেঘে কাল প্রলয় নিশান!
বাজে ডম্বরু, অম্বর কাঁপিছে ডরে॥

Categories

ঝড়-ঝঞ্ঝার ওড়ে নিশান, ঘন-বজ্রে বিষাণ বাজে

ঝড়-ঝঞ্ঝার ওড়ে নিশান, ঘন-বজ্রে বিষাণ বাজে।
জাগো জাগো তন্দ্রা-অলস রে, সাজো সাজো রণ-সাজে।।
দিকে দিকে ওঠে গান, অভিযান অভিযান!
আগুয়ান আগুয়ান হও ওরে আগুয়ান
ফুটায়ে মরুতে ফুল-ফসল।
জড়ের মতন বেঁচে কি ফল? কে র’বি প’ড়ে লাজে।।
বহে স্রোত জীবন-নদীর, চল চঞ্চল অধীর,
তাহে ভাসিবি কে আয়, দূর সাগর ডেকে যায়।
হ’বি মৃত্যু-পাথার পার, সেথা অনন্ত প্রাণ বিরাজে।।
পাঁওদল্‌ রণে চল্‌, চল্‌ রণে চল্‌
পাঁওদল আগে চল্‌, চল্‌ রণে চল্‌
মরুতে ফোটাতে পারে ওই পদতল প্রাণ-শতদল।
বিঘ্ন-বিপদে করি’ সহায়
না-জানা পথের যাত্রী আয়,
স্থান দিতে হবে আজি সবায়, বিশ্ব-সভা-মাঝে।।

Categories

ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে কাহারা যেন ডাকে

ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে কাহারা যেন ডাকে।
বেরিয়ে এলো নতুন পাতা পল্লবহীন শাখে।।
ক্ষুদ্র আমার শুকনো ডালে
দুঃসাহসের রুদ্র ভালে
কচি পাতার লাগলো নাচন ভীষণ ঘূর্ণিপাকে।
স্তবির আমার ভয় টুটেছে গভীর শঙ্খ্-রবে,
মন মেতেছে আজ নতুনের ঝড়ের মহোৎসবে।
কিশলয়ের জয়-পতাকা
অন্তরে আজ মেললো পাখা
প্রণাম জানাই ভয়-ভাঙানো অভয়-মহাত্মাকে।।

Categories

ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায়

দ্বৈত: ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায় (লো)।
নাচন দুজন মাদল, বাঁশি, নূপুর নিয়ে আয় (লো)।।
স্ত্রী: আর জনমে চোরকাঁটা তুই ছিলি (রে)
এই জনমে আঁচল ছিঁড়ে হৃদয়ে বিঁধিলি।
পুরুষ:চোরকাঁটা নয় ছিলাম পানের খিলি লো
গয়না ছিলাম গায় (লো)।।
স্ত্রী: ঝিলমিলয়ে ঝিলের জল নাচায় শালুক ফুল-
পুরুষ:শালুক যেন মুখাখানি তোর লো ঝিলের ঢেউ যেন এলোচুল।
স্ত্রী: কুহু কুহু ডেকে কোকিল কাহার কথা কহে
পুরুষ:সেই কথা কয় কোয়েলা আর জনমে করেছি যা তোরই বিরহে।
দ্বৈত: সে জনমের দু’টি হৃদয় এ জনমে হায়
এক হতে যে চায় লো এক হতে যে চায়।।

Categories

ঝুমঝুম ঝুমরা নাচ নেচে কে এলো গো সই লো দেখে আয়

ঝুমঝুম ঝুমরা নাচ নেচে কে এলো গো সই লো দেখে আয়।
বৈঁচি বনে বিরহে বাউরি বাতাস বহে এলোমেলো গো।।
আঁড়বাঁশি বাজায় আড়চোখে তাকায়
তীর হানার ভঙ্গিতে ধনুক বাঁকায়
নন্দন পাহাড়ে তাহারে দেখে চাঁদ আঁউরে গেল গো।।
ঝাঁকড়া চুলের পাশে টুলটুলে চোখ হাসে কতই ছলে
মোরলা মাছ যেন খেলে বেড়ায় গো কালো জলে।
মৌটুসির মো ফেলে ভোমরা রয় তাকিয়ে
গুরুজনের মত বটের তরু দাঁড়িয়ে জট পাকিয়ে
আমলকি গাছের আড়ালে লুকিয়ে দেখি, দেখতে কি তা পেল গো (সে)।।

নাটিকাঃ‘অর্জুন বিজয়’

Categories

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
মেঘলা সকাল বেলা।
বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
মেঘলা সকাল বেলা।।
কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
ব’সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প’রে
খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।

Categories