ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন

ও কে চলিছে বন-পথে একা নূপুর পায়ে রন ঝন ঝন।
তারি চপল চরণ-আঘাতে দুলিছে নদী-দোলে ফুলবন।।
ঝরে ঝর ঝর গিরি -নির্ঝর তার ছন্দ চুরি করে,
‘এলো সুন্দর-এলো সুন্দর’’বাজে বনের মর্মরে।
গায় পাখি মেলি আঁখি
বলে,বন-দেবী এলো নাকি?
মধুর রঙ্গে অঙ্গে-ভঙ্গে জাগে শিহরণ।।
সন্ধ্যায় ঝিল্লির মঞ্জির হতার
ঝির ঝির শির শির তোলে ঝঙ্কার।
মধুভাষিণী সুচারু-হাসিনী সে মায়াহরিণী’-
ফোটালো আঁধারে মরি মরি
দুলিছে অলকে আঁখির পলকে দোলন-চাঁপার নাচের মতন।।

Categories

ও কে উদাসী বেণু বাজায়

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
গৃহীরে করে সে পরবাসী
রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

Categories

ও, কুল-ভাঙ্গা নদী রে

ও, কুল-ভাঙ্গা নদী রে,
আমার চোখের নীর এনেছি মিশাতে তোর নীরে।।
যে লোনা জলের সিন্ধুতে নদী, নিতি তব আনাগোনা
মোর চোখের জল লাগবে না ভাই তার চেয়ে বেশি লোনা।
আমায় কাঁদাতে দেখে আসবিনে তুই রে,
উজান বেয়ে ফিরে’ নদী, উজান বেয়ে ফিরে’।।
আমার মন বোঝে না, নদী-
তাই বারে বারে আসি ফিরে তোর কাছে নিরবধি।
তোরই অতল তলে ডুবিতে চাই রে,
তুই ঠেলে দিস তীরে (ওরে)।।

Categories

ও কালো বউ! জল আনিতে যেয়ো না আর বাজিয়ে মল

ও কালো বউ! জল আনিতে যেয়ো না আর বাজিয়ে মল।
তোমায় দেখে শিউরে ওঠে কাজ্‌লা দীঘির কালো জল।
ওগো কাজ্‌লা দীঘির কালো জল।।
দেখে তোমার কালো আঁখি
কালো কোকিল ওঠে ডাকি’
তোমার চোখের কাজল মাখি’ হয় সজল ঐ মেঘ-দল
ওগো হয় সজল ঐ মেঘ-দল।।
তোমার কালো রূপের মায়া
দুপুর রোদে শীতল ছায়া
কচি অশথ্‌ পাতায় টলে ঐ কালো রূপ টলমল।।
ভাদর মাসের ভরা ঝিলে
তোমার রূপের আদর মিলে গো-
তোমার তনুর নিবিড় নীলে আকাশ করে টলমল।
ঐ আকাশ করে টলমল।।

Categories

ও কালো ডাগর চোখে বল জল আনিল কে

ও কালো ডাগর চোখে বল জল আনিল কে।
কে গো সেই নিঠুর হিয়া না জানি কিসের ঝোঁকে।।
দু আঁখি ছাপিয়ে গেল তিতিল
কপোলখানি উজল নীলাকাশে সহসা ঢাকিল কে।।
পড়েছে ঘোমটা খসে খোঁপাটি গেছে খুলে
ঢেকেছে মুখখানি তার পাগল এলো চুলে।
না জানি কাহার কথা ব্যথিত ভাবছে মনে
সে জনা দেখিল না এ ছবি এমন ক্ষণে
স্বরগে হয়তো মেলে, মেলে না মর্তলোকে।।

Categories

ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ

ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।
গেলেন মদিনা যবে হিজরতে হজরত
মদিনা হলো যেন খুশিতে জিন্নত,
ছুটিয়া আসিল পথে মদ ও আওরত
লুটায়ে পায়ে নবীর, গাহে সব উম্মত
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
হাজার সে কাফের সেনা বদরে,
তিন শত তের মমিন এধারে;
হজরতে দেখিল যেই, কাঁপিয়া ডরে
কহিল কাফের সব তাজিমের স্বরে
ঐ হের রসুলে-খোদা এলো ঐ।।
কাঁদিয়া কেয়ামতে গুনাহগার সব,
নবীর কাছে শাফায়তী করিবেন তলব,
আসিবেন কাঁদন শুনি সেই শাহে আরব
অমনি উঠিবে সেথা খুশির কলরব
ঐ হের রসুলে খোদা এলো ঐ।।

Categories

ঐজল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি

ঐজল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি।
রূপচাপে না তার নীল শাড়ি।।
এমন মিঠি বিজলি দিঠি শেখালে তায় কে গো?
রূপেডুবু ডুবু রবির রঙ–ভরা ছবির, ছোঁয়াচ লেগেছে গো।
মন মানে না, আর কি করি! চলে পিছনে ছুটে’ তারি।।
নাচেবুলবুলি ফিঙেঢেউয়ে নাচে ডিঙে মাঠে নাচে খঞ্জন;
তারদু’টি আঁখি–তারানেচে হতো সারা – দেখেছে বল কোন জন?
আঁখিনিল যে মোর মন্‌ কাড়ি’– ঘরে থাকিতে আর নারি লো।।
গোলাপ বেলী যুঁই–চামেলি – কোন্‌ ফুল তারি তুল্‌ গো
তারযৌবন–নদী বয় নিরবধি ভাসায়ে দু’ কূল গো
নিলভাসায়ে প্রাণ আমির রূপে দু’কূল–ছাপা গাঙ্‌ তারি।।

Categories

ঐ ঘর ভুলানো সুরে কে গান গেয়ে যায় দূরে

ঐ ঘর ভুলানো সুরে কে গান গেয়ে যায় দূরে।
তার সুরের সাথে সাথে মোর মন যেতে চায় উড়ে।।
তা’র সহজ গলার তানে১ সে ফুল ফোটাতে জানে,
তা’র সুরে ভাটির–টানে নব জোয়ার আসে ঘুরে।।
তা’র সুরের অনুরাগে বুকে প্রণয়–বেদন জাগে;
বনে ফুলের আগুন লাগে, ফুল সুধায় ওঠে পুরে।।
বুঝি সুর–সোহাগে ওরি, পায় যৌবন কিশোরী,
হিয়া বুঁদ হয়ে গো নেশায় তার পায়ে পায়ে ঘুরে।।

Categories

ঐ, ঐ, ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী

ঐ, ঐ, ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী।
মহাবীর ভীষ্ম গেছে, দ্রোণ গেছে জানি।
কর্ণে বধিতে হবে, কুরুক্ষেত্র রণে।
তারপর বধিব মোরা নীচ দুযোর্ধনে।।

লেটো গান: ‘কর্ণ বধ’

Categories

ঐ অভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজা উড়্‌লে আকাশ-পথে

ঐ অভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজা উড়্‌লে আকাশ-পথে।
মাগো, তোমার রথ আনা ঐ রক্ত-সেনার রথে।।
ললাট-ভরা জয়ের টীকা অঙ্গে নাচে অগ্নি-শিখা,
রক্তে জ্বলে বহ্নি-লিখা,
মা! ঐ বাজে তোর বিজয়-ভেরি,
নাই দেরি আর নাই মা দেরি, মুক্ত তোমার হ’তে।।
আনো তোমার বরণ-ডালা, আনো তোমার শঙ্খ, নারী!
ঐ দ্বারে মা’র মুক্তি-সেনা, বিজয়-বাজা উঠ্‌ছে তারি। ওরে ভীরু!
ওরে মরা! মরার ভয়ে যাস্‌নি তোরা;
তোদেরও আজ ডাক্‌ছি মোরা – ভাই!
ঐ খোলে রে মুক্তি-তোরণ,
আজ একাকার জীবন-মরণ মুক্ত এ ভারতে।।

Categories
error: