ভুলি কেমনে আজো যে মনে

ভুলি কেমনে আজো যে মনে
বেদনা-সনে রহিল আঁকা।
আজ সজনী  দিন রজনী
সে বিনে গনি সকলি ফাঁকা।।
আগে মন করলে চুরি
মর্মে শেষে হানলে ছুরি
এত শঠতা এত যে ব্যথা
তবু যেন তা মধুতে মাখা।।
চকোরী দেখলে চাঁদে
দূর থেকে সই আজো কাঁদে
আজো বাদলে ঝুলন ঝুলে
তেমনি জলে চলে বলাকা।।
বকুলের তলায় দোদুল
কাজলা মেয়ে কুড়োয় লো ফুল
চলে নাগরী কাঁখে গাগরি
চরণ ভারি কোমর বাঁকা।।
ডালে তোর করলে আঘাত
দিস্ রে কবি ফুল সওগাত
ব্যথা-মুকুলে অলি না ছুঁলে
বনে কি দুলে ফুল-পতাকা।।

Categories

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি।
খুলে দাও রং মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি।।
গোপনে চৈতী হাওয়ায় গুল্‌-বাগিচায় পাঠালে লিপি,
দেখে তাই ডাক্‌ছে ডালে কু কু ব’লে কোয়েলা ননদী।।
পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখে সখি
বরষায় সেই ভরসায় মোর পানে চায় জল-ভরা নদী।।
তোমারি অশ্রু ঝলে শিউলি তলে সিক্ত শরতে,
হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।।
পউষের শূন্য মাঠে একলা বাটে চাও বিরহিণী,
দুঁহু হায় চাই বিষাদে, মধ্যে কাঁদে তৃষ্ণা-জলধি।।
ভিড়ে যা ভোর-বাতাসে ফুল-সুবাসে রে ভোমর কবি
ঊষসীর শিশ্‌-মহলে আস্‌তে যদি চাস্‌ নিরবধি।।

Categories

নমো হে নমো যন্ত্রপতি

নমো হে নমো যন্ত্রপতি নমো নমো অশান্ত।
তন্ত্রে তব ত্রস্ত ধরা, সৃষ্টি পথভ্রান্ত।।
বিশ্ব হল বস্তুময়
মন্ত্রে তব হে,
নন্দনে-আনন্দে তুমি
গ্রাসিলে মহাধ্বান্ত।।
শংকর হে, সে কোন্ সতী-শোকে হয়ে নৃশংস
বসেছ ধ্যানে হয়েছে জড় সাধিতেছ এ ধ্বংস।
রুক্ষ তব দৃষ্টি-দাহে
শুষ্ক সব হে,
ভীষণ তব চক্রাঘাতে
নির্জিত যুগান্ত।।

বৃন্দাবনী সারং — ঝাঁপতাল

Categories

যাবার বেলায় সালাম লহ হে পাক রমজান

যাবার বেলায় সালাম লহ হে পাক রমজান
তব বিদায় ব্যথায় কাঁদিছে নিখিল মুসলিম জাহান।।
পাপীর তরে তুমি পারের তরী ছিলে দুনিয়ায়,
তোমারি গুণে দোজখের আগুন নিভে যায়,
তোমারি ভয়ে লুকায়ে ছিল দূরে শয়তান।।
ওগো রমজান, তোমারি তরে মুসলিম যত
রাখিয়া রোজা ছিল জাগিয়া চাহি’ তব পথ,
আনিয়াছিলে দুনিয়াতে তুমি পবিত্র কোর্আন।।
পরহেজগারের তুমি যে প্রিয় প্রাণের সাথী ,
মসজিদে প্রাণের তুমি যে জ্বালাও দীনের বাতি,
উড়িয়ে গেলে যাবার বেলায় নতুন ঈদের চাঁদের নিশান।।

কে জানে মা তব মায়া

কে জানে মা তব মায়া
হরজায়া মনোমোহিনী
কখনো পুরুষ হও মা
কখনো যে কামিনী।
কে জানে মা তব মায়া।।
হরজায়া মনোমোহিনী
কখনো পুরুষ হও মা
কখনো যে কামিনী।
কে জানে মা তব মায়া
কে জানে ?

প্রথমেতে মহাকালী
দ্বিতীয়াতে তারা।
তৃতীয়া ষোড়শী রূপ
তুমি ধরিলে ত্রিপুরা
ওমা চতুর্থে ভুবনেশ্বরী
অপরূপ রূপ-মাধুরী।
কেবা জানতে পারে মাগো
তুমি ত্রিগুণ ধারিণী।
কে জানে মা তব মায়া
কে জানে ?

পঞ্চমেতে ভৈরবী
ষষ্ঠে ছিন্নমস্তা
সপ্তমেতে ধূমাবতী
অষ্টমে বগলা
নবমে মাতঙ্গী রূপ
দশমে কমলা
অবরা প্রকাশ লীলা
ব্রহ্মময়ী তারিণী।
কে জানে মা তব মায়া।।
হরজায়া মনোমোহিনী
কখনো পুরুষ হও মা
কখনো যে কামিনী।
কে জানে মাগো
কে জানে ?
কে জানে মা তব মায়া।।
কে জানে ?

Categories

আমি দ্বার খুলে আর রাখব না

আমি দ্বার খুলে আর রাখব না, পালিয়ে যাবে গো।
জানবে সবে গো, নাম ধরে আর ডাকব না।।
এবার পূজার প্রদীপ হয়ে
জ্বলবে আমার দেবালয়ে,
জ্বালিয়ে যাবে গো — আর আঁচল দিয়ে ঢাকব না।।
হার মেনেছি গো, হার দিয়ে আর বাঁধব না।
দান এনেছি গো, প্রাণ চেয়ে আর কাঁদব না।
পাষাণ, তোমায় বন্দী ক’রে
রাখব আমার ঠাকুর ঘরে,
রইব কাছে গো — আর অন্তরালে থাকব না।।

Categories

আল্লার নাম মুখে যাহার বুকে আল্লার নাম

আল্লার নাম মুখে যাহার বুকে আল্লার নাম।
এই দুনিয়াতেই পেয়েছে সে বেহেশ্‌তের আরাম।।

সে সংসারকে ভয় করে না নাই মৃত্যুর ডর
দুনিয়াকে শোনায় শুধু আনন্দেরই খবর
দিবানিশি পান করে সে কওসরেরি জাম —
পান করে কওসরেরি জাম।।

আল্লার নাম মুখে যাহার
তাল : কাহার্‌বা
আদি রেকর্ডিং : ১৯৩৯
নাটিকা : আল্লার রহম (১৯৩৯)
কথা ও সুর : কাজী নজরুল ইসলাম
শিল্পী : আব্বাসউদ্দীন আহমদ

সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে

সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে
ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।
আজ মদিনার গোলাপ বাগে বাতাস বহে ধীরে
ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।।

তপ্ত বুকে আজ সাহারার
উঠেছে রে ঘোর হাহাকার
মরুর দেশে এলো আঁধার শোকের বাদল ঘিরে।।

চবুতরায় বিলাপ করে কবুতরগুলি খোঁজে নবীজীরে।
কাঁদিছে মেষশাবক, কাঁদে বনের বুলবুলি গোরস্থান ঘিরে।
মা ফাতেমা লুটিয়ে প’ড়ে
কাঁদে নবীর বুকের পরে
আজ দুনিয়া জাহান কাঁদে কর হানি শিরে।।

[তিরোভাব] সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ
তাল : বৈতালিক
আদি রেকর্ডিং : ১৯৩৭
কথা ও সুর : কাজী নজরুল ইসলাম
শিল্পী : আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও মহম্মদ কাশেম (কে মল্লিক)

স্মরণে নজরুল – মাসুদুর রহমান (শাওন), পঞ্চাশ, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একজন নজরুল সেনার  লেখা
স্মরণে নজরুল
– মাসুদুর রহমান (শাওন), পঞ্চাশ, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

তুমি এসেছিলে হে মহান প্রেমের পুরুষ নীরবে,
ছড়াতে প্রেম প্রতিটি কণাতে এসেছিলে ভবে।
জাগায়েছ তুমি প্রাণ করেছ তাতে ত্রাণ,
নিথর নিরসে দিয়াছ ভরে করেছ প্রেমে অম্লান।।

বেঁধেছ তুমি প্রেমেরও সুর দিবানিশি সারাক্ষণে,
তাই স্মরিগো তোমায় নত হয়ে তব কাব্য চরণে।
দিয়াছ মহা-কালের সন্ধান দেখায়েছে মহা-প্রাণ,
শিখায়েছ প্রেম গ্রোথিত করে হৃদয় কণ্ঠে গান।।

তুমি রয়ে যাবে রয়ে যাবে শত স্রোতেরও কালে,
হৃদয়ে হৃদয়ে জেগে রবে তব সৃষ্টির মায়াজালে।
যে চায় খুঁজিতে শুদ্ধে বুঝিতে প্রেমের পরিচয়,
সে যেন তবে তোমারেই খোঁজে
তোমাতেই মজে রয়।।

আবার শেখাও প্রেম
– মাসুদুর রহমান (শাওন), পঞ্চাশ, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

নজরুল তুমি কই? বাজাও বিষের বাঁশি,
সত্য ন্যায়ের পাল তুলে দাও অসত্যেরে ফাঁসি।
দারিদ্রে পিষ্টে যে জন মরে দাও তারে সুখ আনি,
নিষ্পাপ জনের লৌহ কবাটে দিয়ে যাও আঘাত হানি।।

মুছে দাও তুমি বিভেদ মানুষে সকলে করো একজাতি,
ঘৃণার দেয়াল ধুলায় লুটায়ে দিয়ে যাও প্রেমের খ্যাতি।
অত্যাচারে ঘাতে ঘাতে আজ মরিছে অবুঝ শিশু,
সকলের হিয়ায় বাঁধিতে দরদ এসো হয়ে আজ যিশু।।

নীতির মঙ্গায় ঘৃণিত হচ্ছে দেশ ললাটের নেতা,
সম্যের গান আবার শুনায়ে প্রীতি দিয়ে যাও যথা।
দূরে তুমি থেকোনা আজি এই বঙ্গ হারায় প্রাণ,
তাবেদারী রোধে বিদ্রোহ করে সার্বভৌম করো দান।।

নূরজাহান

নূরজাহান! নূরজাহান!  
সিন্ধু নদীতে ভেসে    (এলে) মেঘলা-মতির দেশে 
                  ইরানি গুলিস্থান॥  
নার্গিস লালা গোলাপ আঙুর-লতা  
শিঁরি-ফরহাদ-শিরাজের উপকথা  
এসেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি  
                  বুলবুলি, দিলরুবা, রবাবের গান॥  
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম সে যে রাজধিরাজ–  
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক-লাজ।  
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীলাকাশে
(যাহা) লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে  
দেবে চিরদিন নন্দন-লোকচারী
তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান॥

Categories