কোথায় তখত তাউস, কোথায় সে বাদশাহী

কোথায় তখত তাউস, কোথায় সে বাদশাহী।
কাঁদিয়া জানায় মুসলিম ফরিয়াদ ইয়া ইলাহী।।
কোথায় সে বীর খালিদ, কোথায় তারেক মুসা
নাহি সে হজরত আলী, সে জুলফিকার নাহি।।
নাহি সে উমর খত্তাব, নাহি সে ইসলামী জোশ
করিল জয় যে দুনিয়া, আজি নাহি সে সিপাহি।।
হাসান হোসেন সে কোথায়, কোথায় বীর শহীদান-
কোরবানি দিতে আপনায় আল্লার মুখ চাহি’।।
কোথায় সে তেজ ঈমান, কোথায় সে শান-শওকত,
তকদীরে নাই সে মাহতাব, আছে প’ড়ে শুধু সিয়াহি।।

Categories

কোথায় গেলে পেঁচা-মুখি একবার এসে খ্যাচ-খ্যাচাও

পুরুষ : কোথায় গেলে পেঁচা-মুখি একবার এসে খ্যাচ-খ্যাচাও
স্ত্রী : বলি, গাই-হারা বাছুরের মতন গোয়াল থেকে কে চ্যাঁচাও॥
পুরুষ : (বলি ও শাকচুন্নি, আহাহাহা)
অমন শ্যাওড়া বৃক্ষ ফেলে, আমার ঘাড়ে কেন এলে গো, ও হো হো
স্ত্রী : (বলি ও কালিয়া পেরেত)
তুমি উনুন-মুখো দেবতা যে তাই
ছাই-পাঁশের নৈবিদ্যি পাও।
পুরুষ : (মরি অরি অরি অরি মরি, কি যে রূপের ছিরি, আহাহাহাহা)
চন্দ্র-বদন ন্যাপা পোছা
কুত্‌কুতে চোখ নাকটি বোঁচা গো, ও হো হো
স্ত্রী : (বলি ও বেরসো কাট, বলি ও কেলো হুলো)
তুমি কাঁদলে চোখে কালি বোরোয় কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও
তুমি কয়লার ডিপোয় লজ্জা দাও।
পুরুষ : বলি ও জুজুবুড়ি
স্ত্রী : বলি ও ঝাঁকাভূঁড়ি
পুরুষ : ও বাবা জুজু
স্ত্রী : ও বাবা ঝাঁকা
পুরুষ : আহা, চাম্‌চিকে ওই ডানা কাটা
স্ত্রী : তুমি যেন পূজোর পাঁঠা
পুরুষ : আহা, হার মেনে যায় হাঁড়ি চাঁছা প্রিয়ে যখন খ্যাচ-খ্যাচাও।
স্ত্রী : (আ-মরি মরি, কি যে বচন সুধা)
পিঁপড়ে ধরবে ও প্রাণনাথ তুমি, শিগ্‌গির মুখে ফিনাল দাও॥

Categories

কোথায় গেলি মাগো আমার খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে

কোথায় গেলি মাগো আমার খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে
ক্লান্ত আমি খেলে খেলে এ সংসারে ও-মা ধুলা মেখে।।
বলেছিলি সন্ধ্যা হ’লে
ধুলা মুছে নিবি কোলে
ও-মা ছেলেরে তুই গেলি ছ’লে পাইনে সাড়া ডেকে’ ডেকে’।।
এ কি খেলার পুতুল মা গো দিয়েছিলি মন ভুলাতে
আধেক তাহার হারিয়ে গেছে আধেক ভেঙে আছে হাতে।
এ পুতুলও লাগছে মা ভার
তোর পুতুল তুই নে গো এবার
এখন সন্ধ্যা হলো ও-মা সন্ধ্যা হলো নামলো আঁধার
ঘুম পাড়া মা আঁচল ঢেকে।।

Categories

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া
প্রাতে কোকিল কাঁদে নিশীথে পাপিয়া।।
এ ভরা ভাদরে আমার মরা নদী
উথলি’ উথলি’ উঠিছে নিরবধি
আমার এ ভাঙা ঘটে, আমার এ হৃদিতটে
চাপিতে গেলে ওঠে দু’কূল ছাপিয়া।।
নিষেধ নাহি মানে আমার এ পোড়া আঁখি
জল লুকাবো কত কাজল মাখি’ মাখি’
ছলনা ক’রে হাসি, অমনি জলে ভাসি
ছলিতে গিয়া আসি ভয়েতে কাঁপিয়া।।

Categories

কেমনে কহি প্রিয় কি ব্যথা প্রাণে বাজে

কেমনে কহি প্রিয় কি ব্যথা প্রাণে বাজে
কহিতে গিয়ে কেন ফিরিয়া আসি লাজে।।
শরমে মরমে ম’রে
গেল বনফুল ঝ’রে
ভীরু মোর ভালোবাসা শুকালো মনের মাঝে।।
আজিকে ঝরার আগে,
নিলাজ অনুরাগে
ধরিতে যে সাধ জাগে হৃদয়ে হৃদয় রাজে।।

Categories

কেন মেঘের ছায়া আজি চাঁদের চোখে

কেন মেঘের ছায়া আজি চাঁদের চোখে?
মোর বুকে মুখ রাখি ঝড়ের পাখি সম কাঁদে ওকে?
গভীর নিশীথের কন্ঠ জড়ায়ে
শ্রান্ত কেশভার গগনে ছড়ায়ে,
হারানো প্রিয়া মোর এলো কি লুকায়ে
আমার একা ঘরে ম্লান আলোকে॥
গঙ্গায় তারি চিতা নিভেছে কবে,
মোর বুকে সেই চিতা আজো জ্বলে নীরবে;
স্মৃতির চিতা তার নিভিবে না বুঝি আর
কোন সে জনমে কোন সে লোকে॥

Categories

কেন মনোরনে মালতী-বল্লরি দোলে- জানি না

কেন মনোরনে মালতী-বল্লরি দোলে- জানি না।
কেন মুকুলিকা ফুটে ওঠে পল্লব-তলে, জানি না।।
চৈতালি-চাঁপা কয়, মালতী শোন্‌
শুনেছিস্‌ বুঝি মধুকর গুঞ্জন,
তাই বুঝি এত মধু সুরভি উথলে-
মধু-মালতী বলে, জানি না, জানি না।।

Categories

কেন বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে

কেন বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে।
ঘরে রইতে নারি জ্ব’লে মরি বাজাইও না বনে
বাঁশি, আর বাজাইও না বনে
নিঝুম রাতে বাজে বাঁশি
পরায় গলে প্রেম-ফাঁসি,
কেহ নাহি জানে হে শ্যাম (আমি) মরি শুধু প্রাণে॥
রাখ রাখ ও-বাঁশরি
ওহে কিশোর-বংশীধারী,
মন নাহি মানে হে শ্যাম (বঁধু) বাঁশি কি গুণ জানে॥

Categories

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ’রে যায়

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ’রে যায়!
মুখের হাসি চোখের জলে ম’রে যায়, হায়।।
নিশীথে যে কাঁদিল প্রিয় ব’লে
হায় নিশি-ভোরে সে কেন হায় স’রে যায়।।
হায় আজ যাহার প্রেম করে গো রাজাধিরাজ
কাল কেন সে চির-কাঙাল ক’রে যায়।।
মান-অভিমান খেলার ছলে
ফেরে না আর যে যায় চ’লে
মিলন-মালা মলিন ধূলায় ভ’রে যায়।।

Categories

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে।
সুখের বাসরে কেন, প্রাণ ওঠে বিষাদে ভ’রে।।
কেন মিলন রাতে, সলিল আঁখি পাতে,
কেন ফাগুন প্রাতে, সহসা বারি ঝরে।।
ডাকিয়া ফুলবনে, থাকে সে আনমনে,
কাঁদায় নিরজনে, কাঁদে কে কিসের তরে।।

Categories