আসিছেন হাবীবে খোদা

আসিছেন হাবীবে খোদা, আরশ পাকে তাই উঠেছে শোর,
চাঁদ পিয়াসে ছুটে’ আসে আকাশ- পানে যেমন চকোর,
কোকিল যেমন গেয়ে উঠে ফাগুম আসার আভাস পেয়ে,
তেমনি করে হরষিত ফেরেশতা সব উঠলো গেয়ে,-
দেখ আজ আরশে আসেন মোদের নবী কামলীওয়ালা
হের সেই খুশীতে চাঁদ- সুরুজ আজ হল দ্বিগুন আলা।।

ফকির দরবেশ আউলিয়া যাঁরে
ধ্যানে জ্ঞানে ধরতে নারে,
যাঁর মহিমা বুঝতে পারে
এক সে আল্লাহতালা।।

বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম
চিরতরে হয় দোযখ হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাঁহার
কাওসারের পেয়ালা।।

মিম হরফ না থাকলে যে আহাদ
নামে মাখা যার শিরীন শহদ,
নিখিল প্রেমাস্পদ আমার মোহাম্মদ
ত্রিভুবন উজালা।।

ইয়া রাসুলুল্লাহ! মোরে রাহা দেখাও সেই কাবার

ইয়া রাসুলুল্লাহ! মোরে রাহা দেখাও সেই কাবার-
যে কাবা মসজিদে গেলে পাব আল্লার দীদার।।

দ্বীন- দুনিয়া এক হয়ে যায় যে কাবার ফজিলতে,
যে কাবাতে হাজী হলে রাজী হন পরওয়ারদিগার।।

যে কাবার দুয়ারে জামে- তৌহিদ দেন হযরত আলী,
যে কাবায় কুল- মাগফেরাতে কর তুমি ইন্তেজার।।

যে কাবাতে গেলে দেখি কুর্শী লওহ কালাম,
মরণে আর ভয় থাকেনা, হাসিয়া হয় বেড়া পার।।

মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লেআলা

মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লেআলা
তুমি বাদশারও বাদশাহ কামলিওয়ালা।।

পাপে-তাপে পূর্ণ আঁধার দুনিয়া
হ’ল পূন্য বেহেশতী নূরে উজালা।।

গুনাহগার উম্মত লাগি’ তব
আজো চয়ন নাহি, কাঁদিছ নিরালা।।

কিয়ামতে পিয়াসী উম্মত লাগি,
দাড়ায়ে র’বে লয়ে তহুরার পিয়ালা।।

জ্বলিবে হাশর দিনে দ্বাদশ রবি,
নফসি নফসি কবে সকল নবী
ইয়া উম্মতি ইয়া উম্মতি একেলা তুমি,
কাঁদিবে খোদার পার আর্শ চুমি’-
পাপী উম্মত ত্রান তব জপমালা।।

করে আউলিয়া আম্বিয়া তোমারি ধ্যান,
তব গুণ গাহিল খোদ আল্লাহতায়ালা।।

আমার প্রিয় হযরত নবী কামলিওয়ালা

আমার প্রিয় হযরত নবী কামলিওয়ালা।।
যাঁহার রওশনীতে দ্বীন- দুনিয়া উজালা।।

যাঁরে খুঁজে ফেরে কটি গ্রহ তারা,
ঈদের চাঁদে যাঁহার নামের ইশারা,
বাগিচায় গোলাব গুল গাঁথে যাঁর মালা।।

আউলিয়া আম্বিয়া দরবেশ যাঁর নাম
খোদার নামের পরে জপে অবিরাম,
কেয়ামতে যাঁর হাতে কাওসার পিয়ালা।।

পাপে মগ্ন ধরা যাঁর ফজিলতে
ভাসিল সুমধুর তৌহিদ- স্রোতে,
মহিমা যাঁহার জানেন এক আল্লাহতায়ালা।।

চল রে কাবার জিয়ারতে, চল নবীজীর দেশ

চল রে কাবার জিয়ারতে, চল নবীজীর দেশ।
দুনিয়াদারির লেবাস খুলে পর রে হাজীর বেশ।।

আওকাতে তোর থাকে যদি – আরফাতের ময়দান,
চল আরফাতের ময়দান,
এক জামাত হয় যেখানে ভাই নিখিল মুসলমান।
মুসলিম গৌরব দেখার যদি থাকে তোর খায়েশ।।

যেথায় হজরত হলেন নাজেল মা আমিনার ঘরে
খেলেছেন যার পথে-ঘাটে মক্কার শহরে, চল মক্কার শহরে –
সেই মাঠের ধূলা মাখবি যথা নবী চরাতেন মেষ।।

ক’রে হিজরত কায়েম হলেন মদিনায় হজরত – যে মদিনায় হজরত,
সেই মদিনা দেখবি রে চল, মিটবে রে তোর প্রানের হসরত;
সেথা নবীজীর ঐ রওজাতে তোর আরজি করবি পেশ।।

চল রে কাবার জিয়ারতে
তাল : কাহার্‌বা

সৈয়দে মক্কী মাদানী আমার নবী মোহাম্মদ

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ
করুণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
আদম নূহ, ইব্রাহিম দাউদ সোলেয়মান মুসা আর ঈসা,
সাক্ষ্য দিল আমার নবীর, সবার কালাম হ’ল রদ।
যাঁহার মাঝে দেখল জগৎ ইশারা খোদার নূরের,
পাপ-দুনিয়ায় আনলো যে রে, পুণ্য বেহেশতী সনদ।।
হায় সিকান্দর খুঁজল বৃথাই আব-হায়াত এই দুনিয়ায়
বিলিয়ে দিল আমার নবী, সে সুধা মানব সবায়।
হায় জুলেখা মজল ঐ ইউসুফেরই রূপ দেখে,
দেখলে মোদের নবীর সুরত, যোগীন হত ভসম মেখে’।
শুনলে নবীর শিঁরিন জবান, দাউদ মাগিত মদদ।।
ছিল নবীর নূর পেশানিতে, তাই ডুবল না কিস্তি নূহের
পুড়ল না আগুনে হযরত ইব্রাহিম সে নমরুদের
হায়, দোজখ আমার হারাম হ’ল পিয়ে কোরআনের শিঁরিন শ্যহদ।।

রাগ : মিশ্র খাম্বাজ, তাল : কাহার্‌বা

সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি

সুদূর মক্কা মদিনার পথে আমি রাহি মুসাফির,
বিরাজে রওজা মোবারক যথা মোর প্রিয় নবীজীর।।
বাতাসে যেখানে বাজে অবিরাম
তৌহিদ বাণী খোদার কালাম,
জিয়ারতে যথা আসে ফেরেশতা শত আউলিয়া পীর।।

মা ফাতেমা আর হাসান হোসেন খেলেছে পথে যার
কদমের ধূলি পড়েছে যেথায় হাজার আম্বিয়ার,
সুরমা করিয়া কবে সে ধূলি
মাখিব নয়নে দুই হাতে তুলি,
কবে এ দুনিয়া হ’তে যাবার আগে রে কাবাতে লুটাব শির।।

এলো এলো শবে রাত, তোরা জ্বালরে বাতি

এলো এলো শবে রাত, তোরা জ্বালরে বাতি
হোক রওশন মুসলিম জাহানের অন্ধকার রাতি।
আজ ফেরদৌসেরি হূর-পরীরা আলোতে রাঙে
চাঁদসে তারার প্রদীপ ভাষায় আসমানী গাঙে
ফেরেস্তা সব হয়েছে আজ মোদের সাথী

আজরে জ্বালরে বাতি প্রিয় জনের আন্ধার ঘরে
আজ পরস্ব্পরের লুকিয়ে তারা এসেছে ঘরে
রাখ তাদের তরে অশ্রু ভেজা হৃদয় বাতি।

জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত

জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছ জুয়া!
ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয়তো মোয়া।।
হুঁকোর জল আর ভাতের হাঁড়ি – ভাব্‌লি এতেই জাতির জান,
তাইত বেকুব, করলি তোরা এক জাতিকে একশ’-খান।
এখন দেখিস ভারত জোড়া পঁচে আছিস বাসি মড়া,
মানুষ নাই আজ, আছে শুধু জাত-শেয়ালের হুক্কাহুয়া।।
জানিস নাকি ধর্ম সে যে বর্ম সম সহন-শীল,
তাকে কি ভাই ভাঙ্‌তে পারে ছোঁয়া ছুঁয়ির ছোট্ট ঢিল!
যে জাত-ধর্ম ঠুন্‌কো এত, আজ নয় কা’ল ভাঙবে সে ত,
যাক্‌ না সে জাত জাহান্নামে, রইবে মানুষ, নাই পরোয়া।।
বলতে পারিস, বিশ্ব-পিতা ভগবানের কোন সে জাত?
কোন্‌ ছেলের তার লাগলে ছোঁয়া অশুচি হন জগন্নাথ?
ভগবানের জাত যদি নাই তোদের কেন জাতের বালাই?
ছেলের মুখে থুথু দিয়ে মার মুখে দিস ধূপের ধোঁয়া।।

Categories

মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে

মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে
তৃষায় কাতর চাতকী ডাকে।।
সমাধি-মগ্না উমা তপতী –
রৌদ্র যেন তার তেজঃ জ্যোতি,
ছায়া মাগে ভীতা ক্লান্তা কপোতী –
কপোত-পাখায় শুষ্ক শাখে।।
শীর্ণা তপিনী বালুচর জড়ায়ে
তীর্থে চলে যেন শ্রান্ত পায়ে।
দগ্ধ-ধরণী যুক্ত-পাণি
চাহে আষাঢ়ের আশিস বাণী
যাপিয়া নির্জলা একদশীর তিথি
পিপাসিত আকাশ যাচে কাহাকে।।

Categories