কেন মনোরনে মালতী-বল্লরি দোলে- জানি না।
কেন মুকুলিকা ফুটে ওঠে পল্লব-তলে, জানি না।।
চৈতালি-চাঁপা কয়, মালতী শোন্
শুনেছিস্ বুঝি মধুকর গুঞ্জন,
তাই বুঝি এত মধু সুরভি উথলে-
মধু-মালতী বলে, জানি না, জানি না।।
kazinazrulislam
কেন বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে
কেন বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে।
ঘরে রইতে নারি জ্ব’লে মরি বাজাইও না বনে
বাঁশি, আর বাজাইও না বনে
নিঝুম রাতে বাজে বাঁশি
পরায় গলে প্রেম-ফাঁসি,
কেহ নাহি জানে হে শ্যাম (আমি) মরি শুধু প্রাণে॥
রাখ রাখ ও-বাঁশরি
ওহে কিশোর-বংশীধারী,
মন নাহি মানে হে শ্যাম (বঁধু) বাঁশি কি গুণ জানে॥
কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ’রে যায়
কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ’রে যায়!
মুখের হাসি চোখের জলে ম’রে যায়, হায়।।
নিশীথে যে কাঁদিল প্রিয় ব’লে
হায় নিশি-ভোরে সে কেন হায় স’রে যায়।।
হায় আজ যাহার প্রেম করে গো রাজাধিরাজ
কাল কেন সে চির-কাঙাল ক’রে যায়।।
মান-অভিমান খেলার ছলে
ফেরে না আর যে যায় চ’লে
মিলন-মালা মলিন ধূলায় ভ’রে যায়।।
কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে
কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে।
সুখের বাসরে কেন, প্রাণ ওঠে বিষাদে ভ’রে।।
কেন মিলন রাতে, সলিল আঁখি পাতে,
কেন ফাগুন প্রাতে, সহসা বারি ঝরে।।
ডাকিয়া ফুলবনে, থাকে সে আনমনে,
কাঁদায় নিরজনে, কাঁদে কে কিসের তরে।।
কেন করুণ সুরে হৃদয় পুরে বাজিছে বাঁশরি
কেন করুণ সুরে হৃদয় পুরে বাজিছে বাঁশরি
ঘনায় গহন নীরদ সঘন নয়ন মন ভরি॥
বিজলি চমকে পবন দমকে পরান কাঁপে রে
বুকের বঁধুরে বুকে বেঁধে ঝুরে বিধুরা কিশোরী॥
কেন আসিলে ভালোবাসিলে দিলে না ধরা জীবনে যদি
কেন আসিলে ভালোবাসিলে দিলে না ধরা জীবনে যদি।
বিশাল চোখে মিশায়ে মরু চাহিলে কেন গো বে–দরদী।।
ছিনু অচেতন আপনা নিয়ে
কেন জাগালে আঘাত দিয়ে
তব আঁখিজল সে কি শুধু ছল একি মরু হায় নহে জলধি।।
ওগো কত জনমের কত সে কাঁদন করে হাহাকার বুকেরি তলায়
ওগো কত নিরাশায় কত অভিমান ফেনায়ে ওঠে গভীর ব্যথায়।
মিলন হবে কোথায় সে কবে কাঁদিছে সাগর স্মরিয়া নদী।।
কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদয়-বেলা
কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদয়-বেলা,
মোছ মোছ আঁখি-লোর যদি ভাঙিল মেলা॥
কেন মেঘের স্বপন আন মরুর চোখে,
ভু’লে দিয়ো না কুসুম যারে দিয়েছ হেলা॥
যবে শুকাল কানন এলে বিধুর পাখি,
ল’য়ে কাঁটা-ভরা প্রাণ এ কি নিঠুর খেলা।
যদি আকাশ-কুসুম পেলি চকিতে কবি,
চল চল মুসাফির, ডাকে পারের ভেলা॥
কুল রাখ না–রাখ সে তুমি জান
কুল রাখ না–রাখ সে তুমি জান।
গোকুলে তোমার কাজ কুল ভোলানো।।
মহতের পিরিতি বালির বাঁধ সম।
কভু হাতে দাও দড়ি কভু চাঁদ আন।।
কভু তুমি রাধার, চন্দ্রাবলীর কভু
তুমি যখন যা’র তখন তা’র দিকে টান।
রাজার অপরাধের নালিশ কোথায় করি।
তুমি জান শুধু বাঁশিতে মন–ভেজানো।।
কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ
কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
ওরে আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
ওরে রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
আমি তারি লাগি রে
আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
পিছ্লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
ওরে সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্তা হতে পায়ে রে।
ও সে রয় না ঘরে রে
ও সে রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
তা’রে দেখ্লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
ও সে জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।
কিশোরী, মিলন-বাঁশরি
কিশোরী, মিলন-বাঁশরি
শোন বাজায় রহি’ রহি’ বনের বিরহী, –
লাজ বিসরি’ চল জল্কে।
তার বাঁশরি শুনি’ কথার কুহু
ডেকে ওঠে কুহুকুহু – মুহুমুহু;
রস- যমুনা-নীর হ’ল অধীর, রহে না থির;
ও তার দু-কূল ছাপায়ে তরঙ্গদল ওঠে ছল্কে॥
কেন লো চম্কে দাঁড়ালি থম্কে –
পেলি দেখতে কি তোর প্রিয়তম্কে!
পেয়ে তারি কি দেখা নাচিছে কেকা,
হ’ল উতলা মৃগ কি দেখে চপল্কে॥