কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়

কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়।
আমার সালাম পৌঁছে দিও নবীজীর রওজায়।।
হাজীদের ঐ যাত্রা–পথে
দাঁড়িয়ে আছি সকাল হ’তে,
কেঁদে’ বলি, কেউ যদি মোর সালাম নিয়ে যায়।।
পঙ্গু আমি, আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন ক’রে,
তাই নিশিদিন কাবা যাওয়ার পথে থাকি প’ড়ে।
বলি, ওরে দরিয়ার ঢেউ
মোর সালাম নিয়ে গেল না কেউ,
তুই দিস্‌ মোর সালামখানি মরুর ‘লু’–হাওয়ায়।।

Categories

কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন

কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন।
(তার) রূপ দেখে দেয় বুক পেতে শিব যার হাতে মরণ বাঁচন।।
কালো মায়ের আঁধার কোলে
শিশু রবি শশী দোলে
(মায়ের) একটুখানি রূপের ঝলক স্নিগ্ধ বিরাট নীল–গগন।।
পাগলী মেয়ে এলোকেশী নিশীথিনীর দুলিয়ে কেশ
নেচে বেড়ায় দিনের চিতায় লীলার রে তার নাই কো শেষ।
সিন্ধুতে মা’র বিন্দুখানিক
ঠিকরে পড়ে রূপের মানিক
বিশ্বে মায়ের রূপ ধরে না মা আমার তাই দিগ্‌–বসন।।

Categories

কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে

কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে।
কালো মেঘ দেখে শাওনে সই পড়্‌ল মনে কালো বরণে।।
কালো জলে দীঘির বুকে
কালায় দেখি নীল-শালুকে
(আমি) চম্‌কে উঠি, ডাকে যখন কালো কোকিল বনে।।
কল্‌মিলতার চিকন পাতায় দেখি আমার শ্যামে লো
পিয়া ভেবে দাঁড়াই গিয়ে পিয়াল গাছের বামে লো।
উড়ে গেলে দোয়েল পাখি
ভাবি কালার কালো আঁখি
আমি নীল শাড়ি পরিতে নারি কালারি কারণে লো কালারি কারণে।।

Categories

কালো জাম রে ভাই!

কালো জাম রে ভাই! আম কি তোমার ভায়রা ভাই?
লাউ বুঝি তোর দিদি মা, আর কুমড়ো তোর দাদা মশাই।।
তরমুজ তোমার ঠাকুমা বুঝি কাঁঠাল তোমার ঠাকুরদা
গোলাপজাম তোর মাসতুতো ভাই জামরুল কি ভাই তোর বোনাই।।
পেয়ারা কি তোর লাটিম রে ভাই চিচিঙ্গে তোর লাঠি
জাম্বুরা তোর ফুটবল আর লংকা চুষি কাঠি।
টোপা কুল তোর বৌ বুঝি আর বৈচি লেবু তোর বেহাই।
নোনা আতা সোনা ভাই তোর রাঙা দি তোর লাল মাকাল,
ডাব বুঝি তোর পানি-পাঁড়ে ঢিল বুঝি ভাদুরে তাল।
গেছো দাদা আয় না নেমে গালে রেখে চুমু খাই।।

Categories

কালা এত ভাল কি হে কদম্ব গাছের তলা

কালা এত ভাল কি হে কদম্ব গাছের তলা।
আমি দেখ্‌ছি কত দেখ্‌ব কত তোমার ছলাকলা;
আমি নিতুই নিতুই সবই কত, (কালা) তিন সতিনের জ্বালা॥
আমি জল নিতে যাই যমুনাতে তুমি বাজাও বাঁশি হে,
মনের ভুলে কলস ফেলে তোমার কাছে আসি হে,
শ্যাম দিন-দুপুরে গোকুলপুরে (আমার) দায় হল পথ চলা॥
আমার চারদিকেতে ননদ-সতীন দু’কূল রাখা ভার,
আমি সইব কত আর বাঁকা শ্যাম।
ওরা বুঝছে সবই নিত্যি-নতুন, (নিতি) মিথ্যে কথা বলা॥

Categories

কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা কার

কথার কুসুমে গাঁথা গানের মালিকা কার।
ভেসে এসে হতে চায় গো আমার গলার হার।।
আমি তারে নাহি জানি
তার সুরের সূত্রখানি,
তবু বিজড়িত হয় কেন গো, আমার কঙ্কনে বারবার।।
তার সুরের তুলির পরশে, ওঠে আমার ভুবন রাঙ্গি’,
কোন বিস্মৃত জনমের যেন কত স্মৃতি ওঠে জাগি’।
আমার রাতের নিদে
তার সুর এসে প্রাণে বিঁধে,
যার সুর এত চেনা, কবে দেখা পাবো সেই অচেনার।।

Categories

কথা কও, কও কথা, থাকিও না চুপ ক’রে

কথা কও, কও কথা, থাকিও না চুপ ক’রে।
মৌন গগনে হের কথার বৃষ্টি ঝরে।।
ধীর সমীরণ নাহি যদি কহে কথা
ফোটে না কুসুম, নাহি দোলে বনলতা।
কমল মেলে না দল, যদি ভ্রমর না গুঞ্জরে।।
শোন কপোতীর কাছে কপোত কি কথা কহে,
পাহাড়ের ধ্যান ভাঙি মুখর ঝর্ণা বহে।
আমার কথার লঘু মেঘগুলি হায়!
জ’মে হিম হয়ে যায় তোমার নীরবতায়;
এসো আরো কাছে এসো কথার নূপুর প’রে।।

গীতিচিত্রঃ অতনুর দেশ

Categories

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।

Categories

কত যুগ পাই নাই তোমার দেখা

কত যুগ পাই নাই তোমার দেখা
থাকিতে পারি না আর একা একা।।
জানি না কোথায় থাকো
সেথায় আমারে ডাকো
মুছে এলো বুকে বঁধু স্মৃতির রেখা।।
তুমি জলধি, তোমাতে মিশে শতেক নদী
আম রুদ্ধ-সায়র কাঁদি নিরবধি।
দেখা কি পাব না হায়
আশা যে ফুরায়ে যায়
শ্রাবণে এলো গো মেঘ, কাঁদিছে কেকা।।

Categories

কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও

কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও (প্রিয়) মালা গাঁথ অকারনে
আমি চয়েছিনু একটি কুসুম সেই কথা পড়ে মনে।।
তব ফুলবনে কত ছায়া দোলে
জুড়াইতে চেয়েছিনু তারি তলে
চাহিলে না ফিরে চলে গেলে ধীরে ছায়া-ঢাকা অঙ্গনে।।
অঞ্জলি পাতি’ চেয়েছিনু, তব ভরা ঘটে ছিল বারি
শুষ্ক-কন্ঠে ফিরিয়া আসিনু পিপাসিত পথচারী।
বহুদিন পরে দাঁড়াইনু এসে
তোমারি দুয়ারে উদাসীন বেশে
শুকানো মালিকা কেন দিলে তুমি তব ভিক্ষার সনে।।

Categories
error: