কত নিদ্রা যাও রে কন্যাজাগো একটু খানি
যাবার বেলায় শুনিয়া যাইতোমার মুখের বাণী।।
নিশীথিনীর ঘুম ভেঙে যায় চন্দ্র যখন হেসে তাকায় গো
চাতাকিনী ঘুমায় কি গোদেখলে মেঘের পানি।।
ফুলের কুঁড়ি চোখ মেলে চায় যেই না ভ্রমর বোলে (রে কন্যা)
বসন্ত আসিলে রে কন্যা বনের লতা দোলে (রে কন্যা)
যারা আছে প্রাণে প্রাণে জাগে তারা ঘুম না জানে
আমি যখন রইব না গো (তখন) জাগবে তুমি জানি।।
kazinazrulislam
কত জনম যাবে তোমার বিরহে
কত জনম যাবে তোমার বিরহে
স্মৃতির জ্বালা পরান দহে।।
শূন্য গেহ মোর শূন্য জীবনে,
একা থাকারি ব্যথা কত সহে (ওগো)
স্মৃতির জ্বালা পরান দহে।।
দিয়েছি যে জ্বালা জীবন ভরি’ হায়
গলি নয়ন -ধারায় সে ব্যথা বহে
স্মৃতির জ্বালা পরান দহে।।
এস প্রিয় আরো কাছে
এস প্রিয় আরো কাছে
পাইতে হৃদয়ে এ বিরহী মন যাচে।।
দেখাও প্রিয় ঘন
ও রূপ মোহন
যে রূপে প্রেমাবেশে পরান নাচে।।
কও কথা কও কথা, কথা কও হে দেবতা
কও কথা কও কথা, কথা কও হে দেবতা।
তুমি তো জানো স্বামী আমার প্রাণে কত ব্যথা।।
মোর তরে আজি সকল দুয়ার
হইল বন্ধ হে প্রভু আমার
তুমি খোলো দ্বার! সহে না যে আর সহে না এ নীরবতা।।
শুনি অসহায় মোর ক্রন্দন
গলিবে না পাষাণের নারায়ণ
ভোলো অভিমান চরণে লুটায় পূজারিণী আশাহতা।।
নাটিকাঃ ’মীরাবাঈ’
ওরে কে বলে আরবে নদী নাই
ওরে কে বলে আরবে নদী নাই
যথা রহমতের ঢল বহে অবিরল
দেখি প্রেমে-দরিয়ার পানি,যেদিকে চাই।।
যাঁর ক্বাবা ঘরের পাশে আব-এ-জমজম
যথা আল্লা-নামের বাদল ঝরে হরদম,
যথা ঝরে হরদম-
যার জোয়ার এসে দুনিয়ার দেশে দেশে
(ওরে) পুণ্যের গুলিস্তান রচিল দেখিতে পাই।।
যার ফোরাতের পানি আজো ধরার ‘‘পরে
নিখিল নর-নারীর চোখে ঝরে
(ওরে) শুকায় না যে নদী দুনিয়ায়,
যার শক্তি বন্যার তরঙ্গ-বেগে
যত বিষণ্ন-প্রাণ ওরে আনন্দে উঠল জেগে
যাঁর প্রেম-নদীতে,যাঁর পুণ্য-তরীতে
মোরা ত’রে যাই।।
ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ
ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ
তোমার হেরে হৃদয় সাগর আনন্দে উন্মাদ।।
তোমার রাঙা তশতরিতে ফিরদৌসের পরী
খুশির শিরনি বিলায় রে ভাই নিখিল ভুবন ভরি
খোদার রহম পড়ছে তোমার চাঁদনি রূপে ঝরি।
দুখ ও শোক সব ভুলিয়ে দিতে তুমি মায়ার ফাঁদ।।
তুমি আসমানে কালাম
ইশারাতে লেখা যেন মোহাম্মাদের নাম।
খোদার আদেশ তুমি জান স্মরণ করাও এসে
যাকাত দিতে দৌলত সব দরিদ্রেরে হেসে
শত্রুরে আজি ধরিতে বুকে শেখাও ভালবেসে।
তোমায় দেখে টুটে গেছে অসীম প্রেমের বাঁধ।।
ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে
ওরে আয় অশুচি আয়রে পতিত এবার মায়ের পূজা হবে।
যেথা সকল জাতির সকল মানুষ নির্ভয়ে মা’র চরণ ছোবে।
(সেথা) এবার মায়ের পূজা হবে॥
সেথা নাই মন্দির নাই পূজারি নাই শাস্ত্র নাইরে দ্বারী,
সেথা মা বলে যে ডাকবে এসে মা তাহারেই কোলে লবে॥
মা সিংহ-আসন হ’তে নেমে বসেছে দেখ্ ধূলির তলে
মার মঙ্গল ঘট পূর্ণ হবে সবার ছোঁওয়া তীর্থ জলে।
মোরা জননীকে দেখিনি, তাই ভাইকে আঘাত হেনেছে ভাই,
আজ মাকে দেখে বুঝবি মোরা এক মা’র সন্তান সবে।
এবার ত্রিলোক জুড়ে পড়বে সাড়া মাতৃ মন্ত্র মাভৈঃ রবে॥
ওরে আমার চটি
ওরে আমার চটি
আমার ঠনঠনিয়ার চটি
যাত্রা শুনতে কাহার সাথে গেলি তুই পালটি।।
মোর শ্রীচরণ ভরসা গেলি কাহার পায়ে গ’লে
তুই দু’বছর পায়ে ছিলি তোরে জানতাম সতী ব’লে
তুই কাহার গোদা চরণ দেখে গেলি শেষে পটি’।
তোরে নিয়ে গেছেন যিনি তার চটিখানি ফেলে
এ চটি তো নয় রামচটিতং আছেন বদন মেলে’
সদা আছেন বদন মেলে’,
যেন অষ্টাবক্র বেঁকে হয়ে গিয়েছেন ঠিক আঁশবঁটি
বেঁকে হয়েছেন আঁশবঁটি।।
চটি কেন তোরে রাখিনিকো বগল-দাবা ক’রে
বুঝি এতক্ষণ সে ফাটিয়ে তোরে ফেলেছে পা’ ভ’রে
শেষে আস্তাকুড়েঁ দেছে ফেলে সে যে হয়তো চটিমটি’।।
আমি ভাবি, এ তার পায়ের জুতো না তার গায়ের নিমা
আমারচটির পাশে ইনি ঠিক যেন দিদি মা
ওরে চটি রে তোর দিদি হলেও চলতো মোটামুটি
তুই চটপটিয়ে আয় চ’লে নয় সত্যি যা’ব চটি’।।
ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের
ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের
বাঁশি বাজলো, বাজলো বাঁশি
ফেলে তরুর ছায়া ভুলে ঘরের মায়া
এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥
তারা আকাশকে আজ চাহে লুটে নিতে
তারা মন্থর ধরায় চাহে দুলিয়ে দিতে
তারা তরুণ তরুণ প্রাণ জাগায় মৃতে
সাহস জাগায় চিতে তাদের অট্টহাসি॥
মোরা প্রাচীরের পরে রে প্রাচীর তুলে
ভাই হয়ে ভাইকে হায় ছিলাম ভুলে।
আজ ভেঙে প্রাচীর হল ঘরের বাহির
একই অঙ্গনে দাঁড়ালো উন্নত শির
এলো মুক্ত গগন তলে প্রাণ পিয়াসি
এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥
ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না
ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে –
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।