ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া সলাজ অনুরাগে।
চাহে ভীরু নববধূ সম তরুণ অরুণ বুঝি জাগে।।
শুকতারা যেন তার জলভরা আঁখি আনন্দ বেদনায় কাঁপে থাকি’ থাকি’,
সেবার লাগিয়া হাত দু’টি মালার সম পড়ে লুটি কাহার পরশ-রস মাগে।।
kazinazrulislam
উপল নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে
উপল নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে
বাজে ঘুমতি নদীর জলে।
বুনো হাঁসের পাখার মত মন যে ভেসে চলে
সেই ঘুমতি নদীর জলে।।
মেঘ এসেছে আকাশ ভ’রে-
যেন শ্যামল ধেনু চরে
নাগিনীর সম বিজলি-ফনা তুলে
নাচে,নাচে নাচে রে।
মেঘ-ঘন গগন তলে।।
পাহাড়িয়া অজগর ছুটে আসে ঝর্ ঝর্ বেনো-জল্
দিয়ে করতালি প’রে পিয়াল পাতার মাথালি
ছিটায় জল,গেঁয়ো কিশোরীর দল।
রিনিক,ঝিনিক,বাজে চাবি আঁচলে
কাল নাগিনীর মত পিঠে বেনী দোলে
তীর-ধনুক হাতে বন-শিকারির সাথে
মন ছুটে যায় বনতলে।।
উতল হ’ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে
উতল হ’ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে
বাদল ধারা ঝরে বুঝি তাই আজ নিশীথে।।
সুর যে তোমার নেশার মত, মনকে দোলায় অবিরত,
ফুলকে শেখায় ফুটতে গো, পাখিকে শিস দিতে।।
কেন তুমি গানের ছলে বঁধু, বেড়াও কেঁদে?
তীরের চেয়েও সুর যে তোমার প্রাণে অধিক বেঁধে।
তোমার সুরে কোন সে ব্যথা, দিলো এতো বিহ্বলতা
আমি জানি (ওগো) সে বারতা তাই কাদিঁ নিভৃতে।।
উজান বাওয়ার গান গো এবার
উজান বাওয়ার গান গো এবার, গাস্নে ভাটিয়ালি
আর গাস্নে ভাটিয়ালি।
নূতন আশার চাঁদ উঠেছে কুম্ড়ো জালির ফালি
যেন কুম্ড়ো জালির ফালি।।
বান এসেছে, বাঁধ ভেঙেচে, নায়ে দোলা লাগে
আড়-বাঁশিতে তান ছেড়ে তুই দাঁড়্ বেয়ে চল্ আগে
দেখ্ জোয়ার-জলে ডু’বে গেছে চরের চোরাবালি।।
কালো বউ-এর চোখ যেন, দেখ্ মৌরলা মাছ ভাসে
গাঙ্চিল আর জল-পায়রা উড়ছে মুখের পাশে,
শোন্ বউ কথা কও পাখি, মোদের করছে দূতিয়ালি।।
জল নিয়ে বৌ দাঁড়িয়ে আছে, গাছে কচি ডাব
লোক্সানেরই হিসাব দেখিস, লাভের কথা ভাব্,
সাজ্ রে তামুক, নামুক দেয়া, দুক্ষু ত ইজমালি।।
উচ্ছে নহে, ঝিঙে নহে
উচ্ছে নহে, ঝিঙে নহে,
নহে সে পটল ব্রজের আলু পিয়া হতে জনম তাই পি’য়াজ সুডোল ব্রজের আলু।।
রসঘন রসুনের সে গন্ধতুত দাদা,
ও দাদা রস কিছু কম হলে হতো আম আদা,
ও দাদা সেআরো খানিক ডাগর হলে ঐ হতো ওল, ব্রজের আলু।।
পরম বৈষ্ণব সে যে ফল-দল মাঝে –
ও দাদা হের তার শিরে চৈতন-চুট্কী বিরাজে –
ও দাদা আবারমাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচাছোলা গোল তারমাথাটি বাবাজীর মতো চাঁচা ছোলা গোল, ব্রজের আলু।।
কাঁদেছল ক’রে সব বিরহিণী ইহাকে থ্যাত্লাতে –
ও দাদা চক্ষু বুজে পন্ডিতে খান,
বলেন ‘আলুভাতে’–
ও দাদা ওরেপাতে তুলেছি তুলব জাতে ব’দলে এবার ভোল, ব্রজের আলু।।
উচাটন মন ঘরে রয় না।
(পিয়া মোর) উচাটন মন ঘরে রয় না।
(পিয়া মোর) ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না।।
ত্যজিয়া লোক-লাজ
সুখ-সাধ গৃহ-কাজ,
(প্রিয়া মোর) নিজ গৃহে বনবাস সয়না।।
লইয়া স্মৃতির লেখা
কত আর কাঁদি একা,
(পিয়া মোর) ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না।।
আ’ মেরে সঙ্গ আ
আ’ মেরে সঙ্গ আ, মঙ্গল গা হিল্মিল্কে এয় বনমালী।
আরমা ফের পুরে হো জাঁয়ে সারে দিল্কে এয় বনমালী॥
মুঝ্কো জাগানেওয়ালা, হো, জগ্মে তেরা উজালা
তু মুঝ্কো ধূল সমঝ্কে, লে লে চরণ মে আপ্নে
তুনে দিয়ে জ্বালায়ে বিরাণ মন্জিল্ কে এয় বনমালী॥
তু হামকো খাক্ ছানায়া, (আউর) ব্যাকুল আপনা বানায়া
কহিঁ আউ না কহিঁ জাউ, আপনে আগে তুমকো পাউঁ
খো জায়েঁ যুঁহি মিট্টি মে হাম মিলকে এয় বনমালী॥
আয় মুক্তকেশী আয়
(মা) আয় মুক্তকেশী আয়
(মা) বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে) দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥
আয় মা ডাকাত কালী আমার ঘরে কর ডাকাতি
আয় মা ডাকাত কালী আমার ঘরে কর ডাকাতি
যা আছে সব কিছু মোর লুটে নে মা রাতারাতি॥
আয় মা মশাল জ্বেলে, ও তোর ডাকাত ছেলে ভৈরবেরে করে সাথি
জমেছে ভবের ঘরে অনেক টাকা যশঃখ্যাতি
কেড়ে মোর ঘরের চাবি, নে মা সবই পুত্র কন্যা স্বজন জ্ঞাতি॥
মায়ার দুর্গে আমার দুর্গা নামও হার মেনেছে
ভেঙে দে সেই দুর্গ আয় কালিকা তা থৈ নেচে, আয় আয় আয়।
রবে না কিছুই যখন রইবি শুধু মা ভবানী
মুক্তি পাব সেদিন টানবো না আর মায়ার ঘানি
খালি হাতে তালি দিয়ে কালী বলে উঠবো মাতি
কালী কালী কালী বলে উঠবো মাতি
কালী কালী কালী বলে, খালি হাতে তালি দিয়ে উঠবো মাতি॥
আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
এলোমেলো হাওয়ায় নূপুর বাজায় , কচি কিশলয়।।
তোমরা এলে না ব’লে – ভোমরা কাদেঁ
অভিমানে মেঘ ঢাকিল চাদেঁ
‘ভুল বঁধু ভুল’ টুলটুলে মৌটুসি বুলবুলে কয়।।
কুহু যামিনীর তিমির টুটে
মুহু মুহু কুহু কুহরি ওঠে।
হে বন-কলি, গুণ্ঠন খোলো
হে মৃদুলজি্জিতা, লজ্জা ভোলো,
কোথা তার দুল দোলে নটিনী তটিনী খুজেঁ বনময়।।