আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালীমোর কালো মেয়ে

আয় নেচে নেচে আয় রে বুকে দুলালীমোর কালো মেয়ে
দগ্ধ দিনেরবুকে যেমন আসে শীতল আঁধার ছেয়ে।।
আমার হৃদয়আঙিনাতে
খেলবি মা তুই দিনে রাতে
মোর সকল দেহ নয়ন হয়ে দেখবে মা তাই চেয়ে চেয়ে।।
হাত ধরে মোর নিয়ে যাবি তোর খেলাঘর দেখবি মা
এইটুকু তুই মেয়ে আমার কেমন করে হ’স অসীমা।
লুটে নিবি চতুর্ভূজা
আমার স্নেহ প্রেম-পূজা
(মা) নাম ধরে তোর ডাকব মা যেই যেথায় থাকিস আসবি ধেয়ে।।

Categories

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়
বহু রাত্রি হল আর জাগাসনে মায়।।
কোলে লয়ে তোরে ধীরে ধীরে দোলাবো
ঘুম-পাড়ানিয়া গান তোরে শোনাবো
গায়ে হাত বুলাবো পাঙ্খা ঢুলাবো
মন ভুলাবো কত রূপকথায়।।
তোরে কে বলে চঞ্চল একচোখো সে
মোর শান্ত গোপাল থাকে গোষ্ঠে ব’সে
তোরে কে বলে ঝড় তোলে থির যমুনায়
সে যেদিন রাত ঘোরে তার মা’র পায় পায়।।

Categories

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচকারিতে

আয় গোপিনী খেলবি হোরি ফাগের রাঙা পিচকারিতে
আজ শ্যামে লো করব ঘায়েল আবির হাসির টিটকারিতে।।
রঙে রাঙা হয়ে শ্যাম আজ হবে যেন রাই কিশোরী
যমুনা জল লাল হবে আজ আবির ফাগের রঙে ভরি
কপালে কলঙ্ক মোদের ধুয়ে যাবে রঙ ঝারিতে।।
গুরুজনার গঞ্জনা আজ
সইব না লো মানব না লাজ
কূল ভুলে গোকুল পানে ভেসে যাব রাঙা গীতে।।

Categories

আহার দেবেন তিনি রে মন জীব দিয়াছেন যিনি

আহার দেবেন তিনি রে মন জীব দিয়াছেন যিনি।
তোরে সৃষ্টি ক’রে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী।।
সারা জীবন চেষ্টা ক’রে,ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে
(ও মন) তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ কি দান দেন তিনি।।
না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল
তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল।
যাঁর করুণায় এত পেলি,তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি
(তোর) ভাবনারভার দিয়ে তাঁকে ডাক রে নিশিদিন-ই।।

Categories

আসে রজনী, সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে

আসে রজনী, সন্ধ্যামণির প্রদীপ জ্বলে
ছায়া-আঁচল-ঢাকা কানন-তলে।।
তিমির দু’ কূল দুলে গগনে, গোধূলি-ধূসর সাঁঝ-পবনে
তারার মানিক অলকে ঝলে।।
পূজা আরতি লয়ে চাঁদের থালায়
আসিল সে অস্ত-তোরণ নিরালায়।
ললাটের টিপ্‌ জ্বলে সন্ধ্যা-তারা
গিরি-দরি বনে ফেরে আপন-হারা
থামে ধীরে ধীরে বিরহীর নয়ন-জলে।।

Categories

আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী

আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী
চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি (আহা)।।
দুলে আলোছায়া বন-দুকূল
ওড়ে প্রজাপতি কলকা ফুল
কর্ণে অতসী স্বর্ণ-দুল
আলোক-লতার সাতনরি।।
সোনার গোধূলি নামিয়া আয়
আমার রূপালি ফুল-শোভায়
আমার সজল আঁখি-পাতায়
আয় রামধনু রঙ ধরি’।
কবি, তোর ফুলমালী কেমন
ফাগুনে শুষ্ক পুষ্প-বন
বরিবি বঁধুরে এলে চ্যমন (আহা)
রিক্ত হাতে কি ফুল ভরি’।।

Categories

আসিয়া কাছে গেলে ফিরে

আসিয়া কাছে গেলে ফিরে
কেন আসিয়া কাছে গেলে ফিরে।।
মুখের হাসি সহসা কেন
নিভে গেল আঁখি নীরে
ফুটিতে গিয়া কোন কথার মুকুল
ঝরে গেল অধরের তীরে।।
ঝড় উঠিয়াছে বাহির ভুবনে আঁধার নামে বন ঘিরে
যে কথা বলিলে না-ব’লে যাও বিদায় -সন্ধ্যা তিমিরে।।

Categories

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি।
হরষে বরিষে বারি শাওন-গগন তিতি’।।
বকুল-বনের সাকি নটীন পুবালি হাওয়া
বিলায় সুরভি-সুরা মাতায় কানন-বীথি।।
তিতির শিখীর সাথে নোটন-কপোতী নাচে;
ঝিঁঝির ঝিয়ারি গাহে ঝুমুর কাজরি-গীতি।
হিঙুল হিজল-তলে ডাহুক পিছল-আঁখি,
বধূর তমাল-চোখে ঘনায় নিশীথ-ভীতি।
তিমির-ময়ুর আজি তারার পেখম খোলে
জড়ায় গগন-গলে চাঁদের ষোড়শী তিথি।।

Categories

আমি যদি আরব হ’তাম – মদিনারই পথ

আমি যদি আরব হ’তাম – মদিনারই পথ।
এই পথে মোর চ’লে যেতেন নূর নবী হজরত।।
পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
আমি ঝর্না হয়ে গ’লে যেতাম অম্‌নি পরম সুখে;
সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিযে যেতাম কোহ্‌-ই-তুরে,
দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত।।
মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল’য়ে
আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার
বক্ষে এসে চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত।।

Categories

আমি মূলতানী গাই

আমি মূলতানী গাই
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
ঘন ঘন তোলে হাই।।
জাপটে সুরের দাড়ি
শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
জাপটে সুরের দাড়ি
পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
হায় হায় রে হায়-
বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
কিত-কিত – হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
মোড়-মোড়-মোড়
আমি বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
আমি তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
মোর মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
আমি যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।

Categories
error: