আমি ময়নামতীর শাড়ি দেব
চল আমার বাড়ি
ওগো বিন্গেরামের নারী
তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেব
চুড়ি বেলোয়ারি।।
তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেব
কল্মিলতার বালা,
গলায় দেবো টাট্কা–তোলা ভাঁট্ ফুলেরই মালা।
রক্ত–শালুক দিব পায়ে,
পরবে আল্তা তা’রি।।
হলুদ–চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাব ওই গায়!
ঠোঁটে দিব রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
বকুল–ডালে ডাকবে পাখি,
‘বউ গো কথা কও!’
আমি সব দিব গো,
যা পারি আর যা দিতে না পারি।।
kazinazrulislam
আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
আশা-প্রদীপ আমি নিশির শীশ-মহলে।।
রাতের কপোলে আমি ছলছল অশ্রুর জল,
আমি ধরণীতে হিম-কণা টলমল, নব দুর্বাদলে।।
নব অরুণোদয়ের আমি ইঙ্গিত
বিহগ-কণ্ঠে আমি জাগাই শুভ-সঙ্গীত।
আমিকনক-কদম তিমির নীপ শাখায়
আমিমধ্যমণি মালিকায়, শ্যাম গগন-গলে।।
আমি পূরব দেশের পুরনারী
আমি পূরব দেশের পুরনারী (গো)।
গাগরি ভরিয়া এনেছি গো অমৃত-বারি।।
পদ্মকুলের আমি পদ্মিনী-বধূ
এনেছি শাপলা-পদ্মের মধু
ঘন বন ছায়ায় শ্যামলী মায়ায়
শান্তি আনিয়াছি ভরি’ হেমঝারি।।
আমি শঙ্খ-নগর হতে আনিয়াছি শাখা, অভয়শঙ্খ,
ঝিল্ ছেনে এনেছি সুনীল কাজল গো-
বিল্ ছেনে অনাবিল চন্দন-পঙ্ক (এনেছি)।
এনেছি, শত ব্রত-পার্বণ-উৎসব
এনেছি, সারস হংসের কলরব
এনেছি, নব আশা-ঊষার সিন্দুর
মেঘ-ডম্বরু সাথে মেঘ-ডুমুর শাড়ি।।
আমি পথ–মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে
আমি পথ–মঞ্জরী ফুটেছি আঁধার রাতে।
গোপন অশ্রু–সম রাতের নয়ন–পাতে।।
দেবতা চাহে না মোরে গাঁথে না মালার ডোরে,
অভিমানে তাই ভোরে শুকাই শিশির–সাথে।।
মধুর সুরভি ছিল আমার পরাণ ভরা,
আমার কামনা ছিল মালা হয়ে ঝ’রে পড়া।
ভালোবাসা পেয়ে যদি আমি কাঁদিতাম নিরবধি,
সে–বেদনা ছিল ভালো, সুখ ছিল সে–কাঁদাতে।।
আমি পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি
আমি পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি
তোমাদের সুরের সভায় এই অজানায় লহ গো ডাকি’।।
তোমরা বেঁধেছে বাসা যে তরু-শাখায়
আমারে বসিতে দিও তাহারি ছায়ায়
গাহিবার আছে আশা, জানি না গানের ভাষা
তবু ভালোবাসা দিয়ে বাঁধ গো রাখি।।
মায়াময় তোমাদের তরুলতা, ফুল
তোমাদের গান শুনে’ পথ হ’ল ভুল।
যেন শতবার এসে’ জন্মেছি এই দেশে-
বন্ধু হে বন্ধু, অতিথিরে চিনিবে না-কি।।
আমি নামের নেশায় শিশুর মতো ডাকি গো মা ব’লে
আমি নামের নেশায় শিশুর মতো ডাকি গো মা ব’লে
নাই দিলি তুই সাড়া মা গো নাই নিলি তুই কোলে।।
শুনলে ‘মা’ নাম জেগে উঠি
ব্যাকুল হয়ে বাইরে ছুটি
মাগো ঐ নামে মোর নয়ন দু’টি ভ’রে ওঠে জলে।।
ও নাম আমার মুখের বুলি ও নাম খেলার সাথি
ও নাম বুকে জড়িয়ে ধ’রে পোহাই দুখের রাতি।
মা হারানো শিশুর মতো
যপি ও নাম অবিরত
মা ঐ নামের মন্ত্র আমার বুকে কবচ হয়ে দোলে।।
আমারশ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি
আমারশ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি
শ্যামের নাম মা হলেন মোর মন্ত্র-গুরু ঠাকুর হলেন রাধা-শ্যাম।।
ডুবে শ্যামা-যমুনাতে মাখেলবো খেলা শ্যামের সাথে
শ্যাম যবে মোরে হানবে হেলা মা ফুরাবেন মনস্কাম।।
আমার মনের দোতারাতে শ্যাম ও শ্যামা দুটি তার,
সেই দোতারায় ঝঙ্কার দেয় ওঙ্কার রব অনিবার।
মহামায়া মায়ার ডোরে আনবে বেঁধে শ্যাম-কিশোরে
আমিকৈলাসে তাই মাকে ডাকি দেখবো সেথা ব্রজধাম।।
আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়
আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়।
মোছ আঁখি, দুয়ার খোলো, দাও বিদায়।।
ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে
ঝরে ধূলায় ভোর বেলাতে
আমায় তারা ডাকে সাথে – আয় রে আয়।
সজল করুণ নয়ন তোলো, দাও বিদায়।।
অন্ধকারে এসেছিলাম থাকতে আঁধার যাই চ’লে;
ক্ষণিক ভালোবেসেছিলেম চিরকালে না-ই হ’লে।
হ’লো চেনা হ’লো দেখা নয়ন-জলে রইলো লেখা
দূর বিরহের ডাকে কেকা
বরষায় ফাগুন স্বপন ভোলো ভোলো,
দাও বিদায়।।
আমার মোহাম্মদের নামের ধেয়ান হৃদয়ে যার রয়
আমার মোহাম্মদের নামের ধেয়ান হৃদয়ে যার রয়
ওগো হৃদয়ে যার রয়।
খোদার সাথে হয়েছে তার গোপন পরিচয়।।
ঐ নামে যে ডুবে আছে
নাই দুখ-শোক তাহার কাছে
ঐ নামের প্রেমে দুনিয়াকে সে দেখে প্রেমময়।।
যে খোশ-নসীব গিয়াছে ঐ নামের স্রোতে ভেসে’
জেনেছে সে কোরআন-হাদিস-ফেকা এক নিমেষে।
মোর নবীজীর বর-মালা,
করেছে যার হৃদয় আলা
বেহেশতের সে আশ রাখে না, তার নাই দোজখে ভয়।।
আমার মুক্তি নিয়ে কি হবে মা
আমার মুক্তি নিয়ে কি হবে মা, (মাগো) আমি তোরেই চাই
স্বর্গ আমি চাইনে মাগো, কোল্ যদি তোর পাই॥
(মাগো) কি হবে সে মুক্তি নিয়ে,
কি হবে সে স্বর্গে গিয়ে;
যেথায় গিয়ে তোকে ডাকার আর প্রয়োজন নাই॥
যুগে যুগে যে লোকে মা প্রকাশ হবে তোর
(আমি) পুত্র হয়ে দেখব লীলা এই বাসনা মোর।
তুই, মাখাস্ যদি মাখ্ব ধূলি,
শুধু তোকে যেন নাহি ভুলি;
তুই, মুছিয়ে ধূলি নিবি তুলি বক্ষে দিবি ঠাঁই॥