ইয়া আল্লাহ, তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন।
শান-শওকতে হোক পূর্ণ আবার নিখিল মুসলেমিন।
আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
(খোদা) মুষ্টিমেয় আরববাসী যে ঈমানের জোরে
তোমার নামের ডঙ্কা বাজিয়েছিল দুনিয়াকে জয় ক’রে
(খোদা) দাও সে ঈমান, সেই তরক্কী, দাও সে একিন।
খোদা দাও সে একিন।
আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
হায়! যে-জাতির খলিফা ওমর শাহানশাহ হয়ে
ছেঁড়া কাপড় প’রে গেলেন উপবাসী র’য়ে
আবার মোদের সেই ত্যাগ দাও, খোদা
ভোগ-বিলাসে মোদের জীবন ক’রো না মলিন।
আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
(খোদা) তুমি ছাড়া বিশ্বে কারো করতাম না ভয়
তাই বিশ্বে হয়নি মোদের কভু পরাজয়
দাও সেই দিক্ষা শক্তি সেই ভক্তি দ্বিধাহীন।
আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
kazinazrulislam
ঈদের খুশির তুফানে আজ ভাসলো দো জাহান
ঈদের খুশির তুফানে আজ ভাসলো দো জাহান
এই তুফানে ডুবু ডুবু জমিন ও আসমান।।
ঈদের চাঁদের পানসি ছেড়ে বেহেশত হতে
কে পাঠালো এত খুশি দুখের জগতে
শোন ঈদগাহ হতে ভেসে আসে তাহারি আজান।।
ঈদ মোবারক হো
ঈদ মোবারক হো –
ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ, ঈদ মোবারক হো –
রাহেলিল্লাহ্কে আপনাকে বিলিয়ে দিল, কে হলো শহীদ।।
যে কোরবানি আজ দিল খোদায় দৌলৎ ও হাশমত্,
যার নিজের ব’লে রইলো শুধু আল্লা ও হজরত,
যে রিক্ত হয়ে পেল আজি অমৃত-তৌহিদ।।
যে খোদার রাহে ছেড়ে দিল পুত্র ও কন্যায়
যে আমি নয়, আমিনা ব’লে মিশলো আমিনায়।
ওরে তারি কোলে আসার লাগি’ নাই নবীজীর নিদ।।
যে আপন পুত্র আল্লারে দেয় শহীদ হওয়ার তরে
ক্বাবাতে সে যায় না রে ভাই নিজেই ক্বাবা গড়ে
সে যেখানে যায় – জাগে সেথা ক্বাবার উম্মিদ।।
ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক
ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক
দোস্ত ও দুশমন পর ও আপন
সবার মহল আজ হউক রওনক।।
যে আছ দূরে যে আছ কাছে,
সবারে আজ মোর সালাম পৌঁছে।
সবারে আজ মোর পরান যাচে
সবারে জানাই এ দিল আশ্ক।।
এ দিল যাহা কিছু সদাই চাহে
দিলাম যাকাত খোদার রাহে
মিলিয়া ফকির শাহান্শাহে
এ ঈদগাহে গাহুক ইয়াহক্।
এনেছি শিরনি প্রেম পিয়ালার
এসো হে মোমিন কর হে ইফতার
প্রেমের বাঁধনে কর গেরেফ্তার
খোদার রহম নামিবে বেশক্।।
আঁখি ঘুম-ঘুম-ঘুম নিশীথ নিঝুম ঘুমে ঝিমায়
আঁখি ঘুম-ঘুম-ঘুম নিশীথ নিঝুম ঘুমে ঝিমায়।
বাহুর ফাঁদে স্বপন-চাঁদে বাঁধিতে কারে চায়।।
আমি কারো লাগি একা নিশি জাগি বিরহ-ব্যথায়
কোথায় কাহার বুকে বঁধু ঘুমায়
কাঁদি চাতকিনী মরে তৃষায়
কুসুম-গন্ধ আজি যেন বিষ-মাখা হায়।।
কেন এ ব্যথা এ আকুলতা
পরের লাগি এ পরান পুড়ে?
মরুভূমিতে বারি কি ঝুরে
আমি যেন ম’রে তোরি রূপ ধ’রে আসি সে যাহারে চায়।।
অরুন-রাঙা গোলাপ-কলি
অরুন-রাঙা গোলাপ-কলি
কে নিবি সহেলি আয়।
গালে যার গোলাপী আভা
এ ফুল-কলি তারে চায়।।
ডালির ফুল যে শুকায়ে যায়
কোথায় লায়লী, শিরী কোথায়
কোথায় প্রেমিক বিরহী মজনু
এ ফুল দেব কাহার পায়।।
পূর্ণ চাঁদের এমন তিথি
ফুল-বিলাসী কই অতিথি
বুলবুলি বিনে এ গুল্ যে
অভিমানে মুরছায়।।
অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি
অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি।
নীরবে হেসে দাঁড়াইলে এসে
প্রখর তেজ তব নেহারিতে নারি।।
রাস-বিলাসিনী আমি আহিরিণী
শ্যামল কিশোর রূপ শুধু চিনি,
অম্বরে হেরি আজ একি জ্যোতিঃপূঞ্জ
হে গিরিজাপ তি! কোথা গিরিধারী।।
সম্বর সম্বর মহিমা তব, হে ব্রজেশ ভৈরব,
আমি ব্রজবালা।
হে শিব সুন্দর, বাঘছাল পরিহর, ধর নটবর–বেশ
পর নীপ–মালা।
নব মেঘ–চন্দনে ঢাকি’ অঙ্গজ্যোতি
প্রিয় হয়ে দেখা দাও ত্রিভুবন–পতি
পার্বতি নহি আমি, আমি শ্রীমতী
বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরি–ধারী।।
অম্বরে মেঘ-মৃদঙ বাজে জলদ-তালে
অম্বরে মেঘ-মৃদঙ বাজে জলদ-তালে
লাগিল মাতন ঝড়ের নাচন ডালে ডালে।।
দিগন্তের ঐ দুর্গ-মূলে
ধূলি-গৈরিক কেতন দুলে
কে দুরন্ত আগল খুলে ঘুম ভাঙালে।।
থির সাগরের নীল তরঙ্গে আনন্দেরি
সেই নাচনের তালে তালে বাজিল ভেরি।
মাভৈঃ মাভৈঃ ডাক শুনি যার
পথ ছেড়ে দে রথ এল তাঁর।
দুর্দিনে সে বজ্র-শিখার আগুন জ্বালে।।
অন্তরে তুমি আছ চিরদিন ওগো অন্তর্যামী
অন্তরে তুমি আছ চিরদিন ওগো অন্তর্যামী
বাহিরে বৃথাই যত খুঁজি তা-ই পাই না তোমারে আমি।।
প্রাণের মতন, আত্মার সম
আমাতে আছ হে অন্তরতম
মিন্দর রচি’ বিগ্রহ পূজি দেখে হাস তুমি স্বামী।।
সমীরণ সম, আলোর মতন বিশ্বে রয়েছ ছড়ায়ে
গন্ধ-কুসুমে সৌরভ সম প্রাণে-প্রাণে আছ জড়ায়ে।
তুমি বহুরূপী তুমি রূপহীন-
তব লীলা হেরি অন্তবিহিন।
তব লুকোচুরি খেলা সহচরী আমি যে দিবসযামী।।
অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালোবাস্তে গো
অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালোবাস্তে গো।
পথ ছিল গো চলার, যদি দু’দিন আগে আস্তে গো।।
আজিকে মহাসাগর–স্রোতে, চলেছি দূর পারের পথে
ঝরা–পাতা হারায় যথা, সেই আঁধারে ভাস্তে গো।।
গহন রাতি ডাকে আমায় এলে তুমি আজ্কে
কাঁদিয়ে গেলে হায় গো আমার বিদায়–বেলার সাঁঝ্কে।
আস্তে যদি হে অতিথি
ছিল যখন শুক্লা তিথি
ফুটত চাঁপা, সেদিন যদি চৈতালী–চাঁদ হাস্তে।।